প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাসোগি হত্যা: নেপথ্যের লোকের পরিচয় প্রকাশ করব

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছায় নির্বাসিত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার এক মাস পূর্তি হয় ২ নভেম্বর। গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটের ভেতর ঢুকে নিখোঁজ হয়েছিলেন ওয়াশিংটন পোস্টের এই কলামিস্ট। প্রথমে খাসোগি নিখোঁজ হয়েছেন বলা হলেও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নেতাদের ক্রমাগত চাপে শেষ পর্যন্ত সৌদি তাকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।

এ ক্ষেত্রে অন্যতম বড় ভূমিকা রেখেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে এরদোয়ানের চেষ্টা ছিল আলোচনায়। খাসোগি নিখোঁজের এক মাস উপলক্ষে এরদোয়ান ওয়াশিংটন পোস্টে এ বিষয়ে একটি কলাম লিখেছেন। প্রিয়.কমের পাঠকের জন্য তা ভাষান্তর করে দেওয়া হলো।

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগি বিয়ে সংক্রান্ত কাগজপত্র নিতে গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে যান। কনস্যুলেটের বাইরে তার বাগদত্তা অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু কনস্যুলেটে যাওয়ার পর থেকে খাসোগির আর দেখা মেলেনি। এমনকি কনস্যুলেটের বাইরে অপেক্ষায় থাকা বাগদত্তাও খাসোগির দেখা আর পাননি। বিষয়টি এখন সবার জানা।

গত এক মাসে এই ঘটনার সুরাহা করতে তুরস্ক আক্ষরিক অর্থেই স্বর্গ থেকে পৃথিবী সব জায়গায় চষে বেড়িয়েছে। আমাদের আপ্রাণ চেষ্টার ফলে বিশ্ববাসী দেখল, ডেথ স্কোয়াড দিয়ে ঠান্ডা মাথায় খাসোগিকে কীভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এটাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, এই হত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

এখনো এ বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে, যার উত্তর এই ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডকে বুঝতে আমাদের সাহায্য করবে। প্রশ্নগুলো হলো খাসোগির লাশ কোথায়? স্থানীয় সহযোগী কে ছিল, যার কাছে খাসোগির দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে? খাসোগিকে হত্যার জন্য কে নির্দেশ দিয়েছিল? আমাদের দুর্ভাগ্য যে, সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

আমরা জানি সৌদি আরবে আটককৃত সন্দেহভাজন ১৮ জনের মধ্যে অপরাধীও রয়েছেন। আমরা এও জানি, তারা নির্দেশ পালন করতে তুরস্ক এসেছিল এবং খাসোগিকে হত্যা করে চলে গেছে। অবশেষে আমরা জানি, খাসোগিকে হত্যার এই নির্দেশ সৌদি সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এসেছিল।

আশা করি, এই ‘সমস্যা’ একসময় শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা এই প্রশ্নগুলো করতে চাই, যা তুরস্কে অপরাধ তদন্তে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাসোগির পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্যও তা গুরুত্বপূর্ণ। হত্যাকাণ্ডের এক মাস পার হয়ে গেল, আমরা এখনো জানি না খাসোগির লাশ কোথায়। অন্তত তিনি তো ইসলামী রীতিতে কবরস্থ হওয়ার অধিকার রাখেন।

তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও ওয়াশিংটন পোস্টের তার সহকর্মীদের অন্তত পক্ষে তাকে শেষবারের মতো বিদায় বলার এবং তাকে সম্মান জানানোর সুযোগ দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। সৌদিকে বিশ্ব নেতারা একই প্রশ্ন করবেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা ঘটনার তথ্য প্রমাণ বন্ধু, মিত্র এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও শেয়ার করেছি।

আমরা প্রতিনিয়ত প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজছি। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, সৌদি ও তুরস্ক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উপভোগ করে। আমি এক মুহূর্তের জন্যও বিশ্বাস করতে চাই না যে, বাদশা সালমান, যিনি পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার, তিনি খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন। এমনকি আমার এও বিশ্বাস করার কারণ নেই যে, খাসোগি হত্যা সৌদি আরবের সরকারি নীতির প্রতিফলন। তাই খাসোগি হত্যাকে দুই দেশের ‘সমস্যা’ হিসেবে দেখা ভুল হবে। তা সত্ত্বেও আমি বলব, রিয়াদের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের মানে এই নয় যে, আমাদের চোখের সামনে একটি পরিকল্পিত হত্যার ঘটনা ঘটবে, আর আমরা চোখ বন্ধ করে রাখব। খাসোগির হত্যাকাণ্ডটি অবর্ণনীয়। এই ভয়াবহ ঘটনা যদি যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশে ঘটত, তারাও কী ঘটেছে, তা তলিয়ে দেখত। আমাদের জন্যও তাই, অন্য কোনো উপায়ে কাজ করার প্রশ্নই উঠে না।

ন্যাটোর সহযোগী দেশের মাটিতে এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস কেউ করবে না। যদি কেউ এই সতর্কতা অবজ্ঞা করে, তাহলে তাদের ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। খাসোগি হত্যা কনস্যুলার রিলেশনস সম্পর্কিত ভিয়েনা কনভেনশনের স্পষ্ট লঙ্ঘন ও ভয়ঙ্কর অবমাননা। আর এই অপরাধীকে শাস্তি দিতে ব্যর্থ হলে, তা খুবই বাজে উদাহরণ তৈরি করবে।

আরও একটি কারণে আমরা মর্মাহত ও দুঃখ পেয়েছি। কারণ আমাদের বন্ধুত্বের জন্যই সৌদি কর্তৃপক্ষের পূর্বপরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার করার কথা। কিন্তু তা না করে তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। যদিও রিয়াদ সন্দেহভাজন ১৮ জনকে আটক করেছ। কিন্তু এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় যে, তারা সৌদি কনসাল জেনারেলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যিনি সংবাদমাধ্যমে মিথ্যাচার করেছেন এবং ঘটনার পর পরই তুরস্ক থেকে পালিয়েছেন।

একইভাবে সম্প্রতি ইস্তাম্বুল সফর করা সৌদি পাবলিক প্রসিকিউটরের তদন্তে সহযোগিতায় ও কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানানো খুব হতাশাজনক। তাই বলা যায়, তুরস্কের তদন্তকারীদের সৌদিতে যাওয়ার আমন্ত্রণও সৌদি প্রসিকিউটরের কৌশলের অংশ মাত্র।

জামাল খাসোগি হত্যাকাণ্ডে একদল নিরাপত্তা কর্মকর্তার চেয়ে বেশি কিছু জড়িত; যেমন কাগজপত্র চুরির চেয়ে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির বিষয়টি বড় ছিল, বিমান ছিনতাইকারীদের চেয়ে বড় ছিল ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলা।

বিশ্ব সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল সদস্য হিসেবে খাসোগি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের লোকের পরিচয় আমরা প্রকাশ করব এবং সেসব সৌদি কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করব, যারা এখনো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টায় আছেন। সূত্র: পরিবর্তন.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ