প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যয়ের সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক : চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে সরকার। তাই অর্থ ব্যয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আয় বাড়াতে প্রতিটি আইটেমের তিন মাসভিত্তিক রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে এ নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে মন্ত্রণালয়গুলোকে বাজেট বাস্তবায়নের মাসভিত্তিক অগ্রগতি প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

চলতি অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের দায়িত্ব তিন সরকারের ওপর পড়বে। বর্তমান সরকার নভেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন করবে। এরপর দায়িত্ব পড়বে নির্বাচনকালীন সরকারের ওপর। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এসে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাজেট বাস্তবায়ন করবে। এ কারণেই বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

জানতে চাইলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, বাজেট বাস্তবায়ন স্বাভাবিক গতিতেই চলবে। আশা করছি রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে। ফলে অর্থনীতি কোনো ধরনের হুমকির মধ্যে পড়বে না। আর সেটি হলে বাজেট বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এরপরও ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা থাকা দরকার। সেজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের রুটিন কাজ।

চলতি অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। তা বাস্তবায়নে রাজস্ব আদায় করতে হবে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) ১৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকার লক্ষ্যের বিপরীতে ১৩ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। পাশাপাশি সারা দেশে শুরু হওয়া নির্বাচনী আবহের কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অনেকটা ধীরগতিতে চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জানুয়ারি পর্যন্ত বড় ধরনের অর্থ ব্যয় বেশ ঢিমেতালে চলবে। যে কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় গাইডলাইন দিয়ে এ পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়- সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার একটি প্রধান কারণ রাজস্ব আহরণ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের সুষ্ঠু পরিকল্পনা না থাকা। সুষ্ঠুভাবে ও সময়মতো বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হলে অপরিকল্পিত সরকারি ঋণ এড়ানো এবং ঋণজনিত ব্যয় উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণে কমানো সম্ভব। এজন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে সুষ্ঠু ব্যয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

ব্যয় পরিকল্পনা প্রসঙ্গে পরিপত্রে বলা হয়- সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বরাদ্দ দেয়া টাকা ব্যয়ে তিন মাসভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি চাকরিজীবীদের উৎস ও শ্রান্তি-বিনোদন ভাতার হিসাব সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। চাকরিজীবীদের বর্ধিত (বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট) বেতনের আর্থিক সংশ্লেষ বিবেচনায় নিতে হবে।

এছাড়া সব ইউটিলিটি বিল পরবর্তী মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এজন্য ত্রৈমাসিকভিত্তিক হিসাবে ইউটিলিটি বিল প্রদর্শন করার নির্দেশ দেয়া হয়। একইভাবে সরবরাহ ও সেবা খাতে অন্তর্ভুক্ত অন্য আইটেমের ক্ষেত্রে তিন মাসভিত্তিক বরাদ্দ নির্ধারণ করতে হবে। তবে এটি হবে অন্যান্য বছরের ব্যয়ের প্যাটার্ন বিবেচনায়।

পরিপত্রে আরও বলা হয়- অর্থবছরের প্রথম থেকেই সব ধরনের সরকারি কাজের মেরামত ও সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে; যাতে বিভিন্ন কোয়ার্টারে এসব কাজের বিল পরিশোধে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। আর শেষ তিন মাসে মাত্রাতিরিক্ত বিল পরিশোধের চাপ সৃষ্টি না হয়, এজন্য সতর্ক করা হয় মন্ত্রণালয়গুলোকে।

ব্যয় পরিকল্পনার মধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় পণ্য ক্রয় ও সংগ্রহ করা হয়। পণ্য ও সেবা কেনার ক্ষেত্রে একটি ‘সংগ্রহ পরিকল্পনা’ প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতি তিন মাসভিত্তিক যে অর্থ পরিশোধ করা হবে, ব্যয় পরিকল্পনায় তার যথাযথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

সঠিকভাবে রাজস্ব আহরণে বিভিন্ন আইটেমের বিপরীতে ধার্য করা লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে তিন মাস অন্তর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে বলা হয় পরিপত্রে। এক্ষেত্রে মৌসুমগত কারণে কোনো আইটেমে রাজস্ব আদায় কম-বেশি হলে তা বিবেচনায় নিতে হবে। সেখানে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত কর, এনবিআর বহির্ভূত কর ও কর ব্যতীত প্রাপ্তি সংক্রান্ত বাজেট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে আলাদাভাবে ফরম ব্যবহার করতে বলা হয়।

পরিপত্রে বলা হয়- বিগত বছরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন অর্থবছরের প্রথম দিকে খুব ধীরগতিতে চলে। শুরুর দিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণেও ধীরগতি দেখা যায়।

বিপরীতে বেতন-ভাতা ছাড়া অন্যান্য আইটেমের বিপরীতে ব্যয়ের পরিমাণও কম থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে সরকারি ব্যয়ের গুণগতমান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এসব কারণে বছরের শেষে এসে সরকারকে অপরিকল্পিত ঋণের দায় গ্রহণ করতে হয়। ফলে বাজেট শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা যায় না।

এজন্য বাজেট সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বছরের শুরুতে পরিকল্পনা গ্রহণ, যথাযথভাবে তা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। তথ্যসূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ