প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্রিমিয়ায় কলেজে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ১৯

রাইজিংবিডি : ক্রিমিয়ার বন্দর নগরী কার্চের একটি কলেজে বন্দুক ও বোমা হামলায় অন্তত ১৯ জন নিহত এবং প্রায় অর্ধশত আহত হয়েছে।

বুধবার কার্চ শহরের পলিটেকনিক কলেজের ক্যাফেটেরিয়ায় ঢুকে এ হামলা চালানো হয়। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের অধিকাংশ তরুণ। আর হামলা করেছে ওই কলেজেরই এক ছাত্র যে ওই তাণ্ডব চালানোর পর আত্মহত্যা করেছে।

বিবিসি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা বিস্ফোরণ ঘটার কথা বললেও পরে হামলার শিকার সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন। হামলায় প্রথমে ১০ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও পরে ১৯ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আহতদের উদ্ধারের পর স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, প্রয়োজনে সামরিক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আহতদের সামরিক হাসপাতালে নেয়া হবে। এজন্য চারটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ড ইউনিটের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

রাশিয়ার কর্মকর্তারা এ হামলার জন্য ভ্লাদিস্লাভ রোসলিয়াকভ নামের ১৮ বছরের এক ছাত্রকে দায়ী করেছেন। এ ঘটনাকে প্রথমে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলা হলেও রাশিয়ার তদন্ত কমিটি এখন এ ঘটনাকে ‘নির্বিচার হত্যাকাণ্ড’ বলছে।

২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়ার পর এই প্রথম সেখানে এরকম সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটল। কলেজের পরিচালক বলেছেন, ‘হামলাকারীরা ভবনের একটি অংশ উড়িয়ে দিয়েছে, সব জানালা ভেঙ্গে গেছে। তারা দৌড়াদৌড়ি করছিল এবং বোমা ফাটাচ্ছিল। ওই সময় তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলায় উঠে যায়। প্রতিটি ক্লাসরুমের দরজা খুলে দেখছিল এবং যাকে পাচ্ছিল তাকেই হত্যা করছিল… এটা সত্যিই সন্ত্রাসী হামলা।’

ক্রিমিয়ার প্রধান কর্মকর্তা ক্রিমিয়ার নেতা সের্গেই আকসিনভ জানিয়েছেন, হামলাকারীদের মধ্যে ওই কলেজের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী ছিল। সে পরে আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাস্থলে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর কর্মকর্তারা পৌঁছেছেন বলে রুশ বার্তাসংস্থা ইন্টারফ্যাক্সকে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরপর ক্রিমিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘প্রাথমিকভাবে আহতের সংখ্যা ৫০ এবং নিহত ১০ জন। আটটি অ্যাম্বুলেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে কাজ করছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে হতাহতদের দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। প্রয়োজন পড়লে গুরুতর আহতদের দ্রুত রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া যায় সেই ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ