প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেলিকপ্টারে প্রচারণা শুরু এরশাদের

বাংলাদেশ প্রতিদিন : মহাজোটের প্রধান শরিক জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ হেলিকপ্টারে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন। একের পর এক নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন ও জাপার প্রার্থী ঘোষণাও করছেন। এরশাদ তার শাসনামলের উন্নয়ন তুলে ধরে ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে ভোট চাইছেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মহাজোটের প্রধান শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নেপথ্যে আসন ভাগাভাগিও চলছে। ১০০ আসনের দেওয়া তালিকা থেকে আওয়ামী লীগ এর মধ্যে ৪০টি আসনে এরশাদকে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তিনি চান যেভাবেই হোক ৭০টি আসন জাপার জন্য আদায় করতে।

অন্যদিকে যদি নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায় তাহলে সমঝোতার আসন ভাগাভাগির ভোটে জাপা বিরোধী দলে যাওয়ারও প্রস্তুতি রাখছে। নির্বাচনকালীন সরকারে দলের প্রতিনিধি বাড়াতেও সরকারকে চাপ দিচ্ছে। এদিকে প্রার্থী মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার জাপার পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে চেয়ারম্যান ও পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপিকে সদস্য সচিব করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপি বলেছেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসায় নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে টিম গঠন করে আমরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। তিনি বলেন, আমরা এবার ডিজিটাল প্রচারণাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। গত মাসে আমাদের পার্টির চেয়ারম্যান এ প্রচারণা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। সারা দেশে আমাদের হাজার হাজার কর্মী জাতীয় পার্টির নয় বছরের স্বর্ণযুগের কর্মকাণ্ড সাধারণ জনগণের কাছে তুলে ধরছেন। জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার পর পর জাপার প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু করবে দলটি। এরপর প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিয়ে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। এ ছাড়া আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ৫ নভেম্বর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসবে জাতীয় পার্টি নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটের নেতারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংলাপে সম্মিলিত জাতীয় জোটের ২০ সদস্য অংশ নেবেন। এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, প্রতিদিনই সারা দেশে নেতা-কর্মীরা লাঙ্গলের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। আগামী নির্বাচনের জন্য আমরা সংগঠনকে ঢেলে সাজাচ্ছি। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেছেন, পল্লীবন্ধু এরশাদের নির্দেশে নির্বাচনী এলাকায় এক বছর ধরে লাঙ্গলের পক্ষে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছি। পার্টির আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আবদুস সবুর আসুদ বলেন, সারা দেশে পার্টির কর্মকাণ্ড আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়ে আমাদের সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তালিকা সম্বলিত লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। জানা যায়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পাশাপাশি জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছে। দলের বর্তমান এমপিদের পাশাপাশি মনোনয়নপ্রত্যাশী সম্ভাব্য এমপি প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন। গণসংযোগের পাশাপাশি জনসভা, পথসভা, প্রচার মিছিল ও উঠান বৈঠক করে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও জাপার অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বর্তমান এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহকে পরিচয় করিয়ে দেন এরশাদ। এরপর গত ২৮ অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসভা করে করে কাজী মামুনকে প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। বৃহস্পতিবার নিজ নির্বাচনী এলাকা রংপুরেও একটি জনসভায় অংশ নেন। আজ জামালপুরে স্থানীয় জাতীয় পার্টির জনসভায় যোগ দেবেন এরশাদ। তার সঙ্গে পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার এমপিসহ পার্টির সিনিয়র নেতারাও এ জনসভায় অংশ নেবেন।

শর্ত ছাড়াই জাতীয় পার্টি সংলাপে যাবে : জামালপুর প্রতিনিধি জানান, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘জাতীয় পার্টি সংলাপে যাবে কোনো শর্ত ছাড়াই। আমাদের একটাই দাবি, আমরা কত আসন পাব।’ গতকাল বিকালে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গুঠাইল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে উপজেলা জাতীয় পার্টি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এরশাদ বলেন, ‘তারা সংলাপে গিয়েছিল অনেক দাবি নিয়ে। ফলে তা ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের কোনো শর্ত নেই। আমরা দেখব ক্ষমতায় যাওয়ার মতো আসন আমরা পাব কিনা। আমাদের দেখার ব্যাপার এটাই।’ খালেদা জিয়াকে ইঙ্গিত করে এরশাদ বলেন, ‘বিনাদোষে আমাকে ছয় বছর জেলে থাকতে হয়েছে। আর আপনি আদালতের মাধ্যমে ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। আপনি আর বেরোতে পারবেন না। আপনার ছেলেও দেশে ফিরতে পারবে না।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এ দেশে এখন দুটি দল। তা হলো আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি। আমরাও চাই সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হোক; যাতে মানুষ ভোট দিতে পারে।’ দেশে গুম, খুন আর অশান্তির চিত্র তুলে ধরে এরশাদ বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় এলে দেশে শান্তি আসবে।’ এরশাদ জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনে মোস্তফা আল মাহমুদকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। ইসলামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মোস্তফা আল মাহমুদের সভাপতিত্বে জনসভায় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য এম এ সাত্তার, মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতার, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ইকবাল এহসান, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ