প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৭ দফা অবশেষে হচ্ছে একদফা

সাব্বির আহমেদ : শেষমেশ আর থাকছে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা। সাত দফা একত্র করে এক দফা দাবিতে ঝোঁকছেন জোটের নেতারা। আন্দোলন সম্মিলিতভাবে কার্যত এক দফায় রূপান্তর হতে যাচ্ছে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের নিশ্চয়তার একক দাবির কথাই এখন বলছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতা।

সূত্র নিশ্চিত করেছে, কাল পরশুর মধ্যেই ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ছোট আকারে আরও একটি সংলাপ হবে। আর তার জন্য দু’পক্ষেরই প্রস্তুতি চলছে। ঐক্যফ্রন্ট মনে করে সাত দফা দাবির অনেকটাই পূরণ হয়ে যাবে যদি সরকার যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছে তা সত্যিই নিশ্চিত করে। এবং সরকার চাইলে তা পারে।

উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এখন আর খালেদা জিয়ার মুক্তি, সরকারের পদত্যাগ বা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন বিষয়গুলোকে আলদাভাবে দেখছেন না। তারা জোর দিচ্ছেন নির্বাচনের ওপর। বিরোধীরা যাতে নির্ভয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন, প্রার্থীরা যাতে গ্রেফতারের মুখোমুখি না হন, নেতা-কর্মীরা যাতে নতুন মামলার মুখে না পড়েন এবং ভোটাররা যাতে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন সে বিষয়গুলোর ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

এক্ষেত্রে সংবিধানের সংশোধন ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের বিষয়েও বেশ নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন তারা।

এদিকে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষে বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের বহুল প্রত্যাশিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ড. কামাল হোসেন এ সংলাপ নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে এখন ধীরে ধীরে দাবির ব্যাপারে নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ৭ দফার অন্য দাবিগুলো আদায়ে অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছেন তারা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘সরকার আছে কিন্তু সরকারের ফাংশন করছে না। পৃথিবীর বিভিন্ন সরকারের ধরন এরকম। যারা ক্যাবল রুটের ফাংশন করবে তার বাইরে কিছু করতে পারবে না সেইভাবে ঠিক থাকে। তাদের সরকার থাকে কিন্তু সরকারের হাত-পা ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা থাকে না। সংবিধানের মধ্যে থেকেও আমরা যা চাচ্ছি তা আদায় করা যাবে।’

৭ দফা একত্রিত হয়ে শুধু অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে এক দফায় রূপান্তরের আভাস দিলেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘৭ দফাটা যদি আমরা একসঙ্গে এনে একদফার ভিত্তিতে যদি আমি সুষ্ঠু অবাধ নির্বাচনের নিশ্চয়তা উপলব্ধি করতে পারি সেখানে তো আমি নির্বাচন করতে পারবো। সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে। তাহলে সেই পথটা বের হয়ে আসবে।’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন,‘ আমরা মনে করি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় থাকলে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই আমরা সরকারের পদত্যাগ চেয়েছি। সরকার তো মনে করে বিএনপি জ্বালাও পোড়াওয়ের দল। তাহলে নির্বাচনে ভোটাররা বিএনপিতে তো ভোট দেওয়ার কথা নয়। প্রধানমন্ত্রী সেই পরীক্ষাটা একবার নিতে পারেন।’

তবে এ ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা ও উদ্যোগ না থাকলে আন্দোলনের পথেই হাঁটতে চায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ