প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন কেন্দ্রিক কর্মকর্তা সংকটে মাঠ প্রশাসন

আনিসুর রহমান তপন : কর্মকর্তা সংকটে মাঠ প্রশাসন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংকট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে এ তথ্য।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে পদের চেয়ে কয়েকগুন বেশি কর্মকর্তা থাকলেও মাঠ প্রশাসনে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকরী কমিশনার ভূমি (এসি ল্যা-) কর্মকর্তার সংকট রয়েছে। তারা সবাই নির্বাচনী কর্মকা-ের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।

সংশ্লিষ্ট এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সারাদেশে ৬৪ জেলায় ইতোমধ্যে ডিসি নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। একই অবস্থা ইউএনও পদেও। তবে নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে এসি ল্যা- পদায়নে। সারাদেশে এই পদের অধিকাংশই শূণ্য। যোগ্য কর্মকর্তার অভাবে এসিল্যা-ের পদে নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। সারাদেশের এসিল্যা- ৪৯২টি পদের বিপরীতে প্রায় ১৪৯ পদই শূণ্য। এসব ক্ষেত্রে ইউএনও পদের কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহেই একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সুপারিশ ছাড়া মাঠ প্রশাসনে কোনো কর্মকর্তা নিয়োগ বা প্রত্যাহার করা যাবে না। আর আশঙ্কাটা সেখানেই।

অপরদিকে পদ না থাকলেও দফায় দফায় পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের চাপে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে প্রশাসনে। ফলে পদোন্নতি পাওয়ারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে তারা এক বা দুই স্তর নিচের পদে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানাগেছে, বর্তমানে অতিরিক্ত সচিবের নিয়মিত ১২১টি পদের বিপরীতে এই পদে কর্মকর্তা রয়েছেন প্রায় পাঁচগুনের বেশি অর্থাৎ ৬৩৪ জন। যুগ্মসচিবের নিয়মিত ৪৩০টি পদের বিপরীতে কর্মকর্তা রয়েছেন প্রায় দ্বিগুন। আর উপসচিবের নিয়মিত ১হাজার ৬টি পদের বিপরীতেও প্রায় দুই হাজার কর্মকর্তা রয়েছেন।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপারিশে প্রায় শতকরা দশ ভাগ কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়ে থাকে মাঠ প্রশাসনে। এই পরিবর্তনটা হয়ে থাকে বিভিন্ন প্রার্থীর দাবির কারণে। এবার যদি এমন হয়, তবেই সংকটে পড়বে জনপ্রশাসন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি) শেখ ইউসুফ হারুন জানান, সব সময় দ্রুত কোনো নির্দশনা বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছুটা সংকট তো হয়ই। তবে এ ধরণের ক্ষেত্রে প্রশাসনেরও মোটামুটি একটা প্রস্তুতি নেয়া থাকে। আমাদেরও আছে। যদি ইসির সুপারিশের কারণে কোনো কর্মকর্তাকে পরিবর্তন করতেই হয় তবে করা যাবে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে, অধিদপ্তরে/সংস্থায় মাঠ প্রশাসনে কাজ করার মত একই পদের কর্মকর্তা রয়েছেন। তাই ইসি যদি মাঠ প্রশাসনে কোনো কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করার সুপারিশ করলে প্রয়েজনে এসব কর্মকর্তাকে সেখানে পদায়ন করা হবে। তাছাড়া প্রশাসনের এই সংকট ২০২১ সালে ঠিক হয়ে যাবে জানিয়ে এপিডি বলেন, এখন যেসব কর্মকর্তা অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব হিসেবে কর্মরত রয়েছেন তারা প্রায় সবাই অবসরে চলে যাবেন। তখন প্রশাসনের এই ভারসাম্যহীনতা ঠিক হয়ে যাবে। সম্পাদনা: তরিকুল ইসলাম সুমন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ