প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনৈতিক বিবেচনার ৯ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দ্বিগুণ হয়েছে

আরিফুর রহমান তুহিন: জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া চতুর্থ প্রজন্মের ৯টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ। গত ৬ মাসে দ্বিগুন খেলাপি ঋণ বেড়ে বর্তমানে এর পরিমাণ ২ হাজার ৪’শ ১৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এমতাবস্থায় আবারো একটি নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাইপলাইনে রয়েছে আরো ৩টি। এগুলোও খুব শীঘ্রই অনুমোদন পেতে যাচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

বিবি. সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে যে ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয় তার সবগুলোই ছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। এই ব্যাংকগুলোর মালিকানায় ছিলো ক্ষমাতাসীন রাজনৈতিক দলের এমপি ও নেতারা। তখন অর্থনীতিবিদ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এগুলোর অনুমোদনের বিষয়ে আপত্তি তোলা হলেও অর্থমন্ত্রণালয়ের চাপে সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়। এখন সেগুলোর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ৯ ব্যাংকের খেলাপি ছিল ১ হাজার ১’শ ৪৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। চলতি বছরের জুন শেষে সেই খেলাপি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৪’শ ১৭ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ ৬ মাসেই খেলাপি বেড়েছে ১২৬৯ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের অর্ধেকেরও বেশি। এমতাবস্থায় নতুন প্রজম্মের ব্যাংক নিয়ে উদ্বিগ্ন এই খাতের সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই ৯ ব্যাংকের যেসব ঋণ বিতরণ করা হয়েছিলো সেগুলোর বেশিরভাগই রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া। অনেক ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো নিয়মই মানা হয়নি। মূলত সেই ঋণগুলোই এখন খেলাপি হয়ে পড়েছে। আর গত দুই বছরের বিতরণকৃত ঋণের বিশাল অংশই খেলাপি হয়েছে। অনেক ঋণ আর কখনোই ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এ বিষয়ে তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা এ বি আজিজুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্মের ব্যাংকগুলোর এমন অবস্থায় আমি অবাক হইনি। ২০১৩ সালে দেশের ব্যাংকিং অবস্থা খুব ভাল ছিলো না। সকলের আপত্তি উপেক্ষা করে তখন এগুলোর অনুমোদন দেয়। নতুনকরে আবারো অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি এই নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিবি. সূত্র জানায়, কমিউনিটি ব্যাংক নামে বর্তমানে যে ব্যাংকটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সেটির মালিকানায় রয়েছে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট। এছাড়া অপেক্ষমান থাকা বাকি ৩টি ব্যাংকের মধ্যে ‘সিটিজেন ব্যাংকের’ মালিকানায় রয়েছেন বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মাতা জাহানারা হক। ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ মোর্শেদ আলমের মালিকানায় থাকা বেঙ্গল গ্রুপের ‘বেঙ্গল ব্যাংক’, এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এম এ কাশেমের ‘পিপলস ব্যাংক’। সূত্র জানায়, বেঙ্গল ব্যাংকের ৩ পরিচালকের বিরুদ্ধে কর সংক্রান্ত মামলা থাকায় অনুমোদনে বিলম্ব হচ্ছে। এম এ কাশেমের যুক্তরাষ্ট্রের সকল তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে না পারায় এবং সিটিজেন ব্যাংকের কিছু কাগজে সমস্যা থাকায় গত বোর্ড সভায় তারা অনুমোদন পায়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, শুরু থেকেই এই ৪ ব্যাংকের অনুমোদনের বিপক্ষে অবস্থান নেয় অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা। তারা আগের ৯টি ব্যাংকের অভিজ্ঞতার কারণেই এর বিপক্ষে দাঁড়ায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগুলোকে অনুমোদন না দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলে ৪ ব্যাংকের ত্রাতা হিসেবে দাঁড়ায় অর্থমন্ত্রণালয়। তারা এই ব্যাংকগুলোকে অনুমোদনের জন্য আবারো বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি লিখে। মূলত চাপে পড়েই এই ব্যাংকগুলোকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে মির্জ্জা আজিজ মনে করেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের যখন খারাপ অবস্থা চলছে তখন আবারো নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া অশুভ ফল বয়ে আনতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৩ সালের অনুমোদিত মেঘনা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬৯ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬২ কোটি টাকা, মিডল্যান্ড ব্যাংকের ২২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ কোটি টাকা, মধুমতি ব্যাংকের ৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৪৭ কোটি টাকা, এনআরবি ব্যাংকের ৫৬ কোটি টাকা থেকে ১১১ কোটি টাকা, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাড়ে ২৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫৪ কোটি টাকা, ইউনিয়ন ব্যাংকের ১৭ কোটি থেকে ৭৪ কোটি টাকা এবং ফারমাস ব্যাংকের ৭৯৮ কোটি টাকা থেকে ১৫২১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পৌঁছেছে। সম্পাদনা: আবু বকর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ