প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রিয়তমার জন্য কুরবানী

সৈয়দ রশিদ আলম

মুব্বাইর একসময়ের সুপার স্টার চলচ্চিত্র তারকা ফিরোজ খান প্রযোজিত ‘কুরবানী’ ছবিটি যারা দেখেছেন তারা বুঝতে পেরেছেন কীভাবে প্রিয়তমার জন্য কুরবানী দিতে হয়। বিশ্বের সকল ধর্মে পশুবলীর মাধ্যমে কুরবানী দেওয়া হয় যেন পরম করুণাময় এই কুরবানীর মাধ্যমে তাকে ক্ষমা করে দেন। এই কুরবানী সবাই দিতে পারলেও প্রিয়তমার জন্য কুরবানী সবাই দিতে পারেন না। কারণ এর জন্য যে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন সে প্রশিক্ষণটা পৃথিবীর কোথাও নেই, একমাত্র প্রেমিক-প্রেমকার অন্তর ছাড়া। প্রিয়জন অন্যের প্রিয়জন হয়ে যখন দূরে চলে যায় এটা দেখা আর মেনে নেওয়া তার পক্ষেই সম্ভব যিনি নিজের চাইতেও তার প্রিয়তমাকে বেশি ভালোবেসে ফেলেছেন। এই শ্রেনীর কুরবানী দাতারা বুকে পাথর বেধে প্রিয়তমাকে দুরে চলে যেতে দেন। কিন্তু চিরকালের জন্য সেই প্রিয় মুখটা তার অন্তরে রেখে দেন।

চোখ বন্ধ করলেই তিনি সেই প্রিয় মুখ দেখতে পান। সবকিছু হারানোর পরও তিনি নিজেকে জয়ী ভাবতে থাকেন, কারণ- তিনি যে তার প্রিয়তমার জন্য কুরবানী দিয়েছেন। রোমিও কে জুলিয়েটকে কুরবানী দিতে হয়েছে, দেবদাসকে পার্বতীকে কুরবানী দিতে হয়েছে, মজনুকে লাইলীকে কুরবানী দিতে হয়েছে, ফরহাদ কে শিরিকে কুরবানী দিতে হয়েছে। এরকম শত শত প্রেমিক তার প্রিয়তমাকে কুরবানী দিয়েছেন অর্থাৎ হারিয়েছেন। কিন্তু তারপরও প্রিয়তমার বন্দনা বন্ধ করতে পারেন নি। সকাল সন্ধ্যায় তারা প্রিয়তমার নামে বন্দনা করেছেন। সারা পৃথিবীতে সব ভাষায় যত গান রচিত হয়েছে সব গানেই যন্ত্রনার কথা, প্রিয়জন হারানোর কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যেই গীতিকাররা, লেখকরা জীবনে একবারও প্রিয়তমার জন্য কুরবানী দিতে পেরেছেন তার লেখায়, তার গানে কুরবানীর প্রসঙ্গটা চলে আসে। গত দুই বছর থেকে এক প্রিয়তমার জন্য এই অধম লেখক তার প্রিয়তমার জন্য যে কুরবানী দিয়ে আসছেন একমাত্র পরম করুণাময় ছাড়া আর কেউ জানে না।

আর জানেন সেই প্রিয়তমা, যার জন্য এই কুরবানী। কিন্তু যার জন্য এই কুরবাণী তিনি কুরবানীকে উপলব্ধি করতে সক্ষম নন। কারণ- কুরবানী কি? কিভাবে কুরবানী দিতে হয় এই প্রশিক্ষণটা তিনি পাননি।  যেদিন পাবেন সেদিন তিনিও প্রিয় মানুষের জন্য কুরবানী দেওয়া শুরু করবেন। অন্তরযামী মানুষের মনে আরেকজন মানুষের জন্য যে ভালবাসা তৈরি করে দিয়েছেন তার চুড়ান্ত পরিনতি হচ্ছে প্রিয়তমার জন্য কুরবানী। যিনি এই কুরবানী দিবেন তিনি চিরকালের জন্য প্রেম রাজ্যের বাসিন্দা হয়ে যাবেন। তিনি মরে গেলেও একজন প্রিয় মানুষের মনে রয়ে যাবেন চিরকালের জন্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ