প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতীত নির্বাচন এবং আসছে নির্বাচন, পার্থক্য অনেক

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহোম: ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে এখনো সরকার বিরোধীরা বিপক্ষে বক্তব্য দিয়ে আসছে। তাদের মতে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। ঐদিন ইলেকশন নয় হয়েছে সিলেকশন। বলা হচ্ছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ১৫৪ এমপি বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়েছে।ভোট ছাড়া নির্বাচিত এমপিদের কীভাবে জনপ্রতিনিধি বলা যায়? তাই এই সরকার অবৈধ, এই সংসদও অবৈধ। অন্যদিকে সরকার পক্ষ বলছে নির্বাচন সঠিক হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন গনতন্ত্র ও শাসনতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন। সেই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে দ্বিমত। চলছে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য। বিরোধী পক্ষ বলছে অবৈধ নির্বাচন আর সরকার পক্ষ বলছে বৈধ নির্বাচন। এই দুই পক্ষের বক্তব্যের মধো দিয়ে বর্তমান সরকার তাদের ক্ষমতার মেয়াদ পাঁচ বৎসর পূরণ করেছে। এখন প্রশ্ন হলো বিরোধী পক্ষের নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধিতা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? কিংবা সরকার কর্তৃক নির্বাচন বৈধতার প্রশ্ন আদৌ গ্রহণযোগ্য কি?

৫ জানুয়ারী নির্বাচনকে কোনোভাবেই একটি সঠিক নির্বাচন বলা যায় না। নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে একথাও সঠিক নয়। নির্বাচন যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হয়নি। এই চিরসত্যকে সরকার পক্ষ কৌশলে এড়িয়ে যেতে চায়। তবে সরকার মানুক আর না মানুক সাধারণ জনগণ ও বিশ্ববাসী ভালো করেই জানে সেদিনের নির্বাচন আসলে নির্বাচনের মতো হয়নি। নির্বাচন ঠিকমত হলে আওয়ামী লীগের আসন সংখ্যা আরো কম হতো। সুতরাং ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে সরকার যত কথাই বলুক না কেন দেশের সাধারণ মানুষ এই নির্বাচনকে কখনই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলবে না। কারণ এই নির্বাচনে কোনো প্রতিদন্দিতা ছিল না। হয়েছে শুধু এক পক্ষের নির্বাচন। নির্বাচনের মত নির্বাচন না হওয়ার জন্য তাহলে দায়ী কে? সরকার না বিরোধী পক্ষ? নির্বাচনের বৈধতা দিতে বিরোধী পক্ষের আপত্বি কি তাহলে যুক্তিসঙ্গত ছিল?

নিশ্চই না। কারণ যে সকল কারণ তুলে ধরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বৈধতা দিতে বিরোধী দলগুলো এখনও আপত্বি করছে তাদের এই দাবি কখনই গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিসঙ্গত নয়। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন বিমুখ পরিস্থিতি কে সৃষ্টি করেছিল? কেন হতে পারেনি সেদিন সঠিক নির্বাচন? বেগম খালেদা জিয়াকে বার বার সংলাপে ডাকা সত্ত্বেও তিনি কেন প্রত্যাখ্যান করলেন সরকারের আন্তরিক আহ্বান? তিনি কেন প্রত্যাখ্যান করলেন নির্বাচনকালীন সরকারে যে কেন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রি পদের আহ্ববান? শেখ হাসিনা কর্তৃক টেলিফোনে সংলাপের নিমন্ত্রণ করা সত্ত্বেও সেদিন কেন বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেননি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের মাঝেই রয়েছে কেন সেদিন একতরফা নির্বাচন হয়েছিল। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের খামখেয়ালির জন্যই মূলত ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন সঠিক হয়নি। এখানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের দোষ কোথায় ?

আবারো আসছে নির্বাচন। তবে এখন আর বিএনপি জোটের নেতৃত্ব ও শক্তি আগের মতো নেইl নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচন বিমুখী পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য তবুও তারা হয়তো চেষ্টা করতে পারে। একক শক্তি দিয়ে সম্ভব নয় বুঝতে পেরে এখন বিএনপি ডক্টর কামাল হোসেনের ঐক্যজোটে যোগদান করেছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্প্রতি প্রকাশিত রায়ের বিরুদ্ধে দলটি নিজে থেকে উল্লেখযোগ্য আন্দোলনে না গিয়ে ঐক্যজোটের মাধ্যমে মুক্তির দাবি তুলেছে। সরকার ভালো করেই জানে খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দিলেও বিএনপি এবার নির্বাচনে আসতে বাধ্য হবে। এধরণের দুর্বল অবস্থায় বিএনপির পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। সম্ভব হলে সরকারের বিরুদ্ধে অনেক আগেই তারা মাঠে নামতো।

এদিকে বিভিন্ন মতামতের দল নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ডক্টর কামাল হোসেনের ঐক্য জোটের ভবিষ্যৎকর্মসূচির দিকেই মূলত এখন জনগণের দৃষ্টিl নির্বাচনের পূর্বে তাদের দেওয়া ৭ দফা দাবি না মানলে ঐক্যজোট কি ভুমিকায় অবতীর্ণ হবে এইমুহূর্তে বলা কঠিন। অতীতে বিএনপি জোটের সহিংস রাজনৈতিক আন্দোলন যেভাবে হয়েছিল ডক্টর কামাল হোসেন সম্ভবত এপথে যেতে চাইবেন না। ফলে ভবিষ্যতে এই ঐক্যজোট ভেঙে যাওয়ার সম্ভবনা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে বিএনপি যদি খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এপর্যন্ত কোনো আন্দোলনই করতে পারেনি বিএনপি। তাই দুর্বল বিএনপি নিজেদের অবস্থানকে টিকিয়ে রাখার জন্য ঐক্যজোটকে সাথে নিয়ে আন্দোলনে নামতে চায়। এখন দেখা যাক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও বঙ্গবন্ধু সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডক্টর কামাল হোসেন কট্টর বঙ্গবন্ধু বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে চলতে পারেন কতদূর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ