প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপের লাভ-ক্ষতির খতিয়ান

শফিকুর রহমান মিলন : দুই নভেম্বরের একটি দৈনিক পত্রিকার হেড লাইন ছিলো ঠিক এরকম, ‘বিশেষ সমাধান পায়নি ঐক্যফ্রন্ট’ দেখে ও টেলিভিশন ‘টকশো’ শুনে মনে হলো আমার চিন্তাটা জানিয়ে রাখি। সংলাপের অর্জন : বহু প্রতিক্ষিত সংলাপের মাধ্যমে জাতি পেলো একজন দক্ষ স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিসম্যাটিক স্টেটসম্যান, জাতির জনক কন্যা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই. রাজনীতিতে ঐক্যফ্রন্ট ও ভবিষ্যৎবিরোধী একজন নেতা হিসেবে ডি. ফেক্টো প্রতিষ্ঠা পেলেন ড. কামাল হোসেন। তিন. বিএনপি দীর্ঘদিনের দন্ডিত, কারাভোগী, দূরে থেকে নিয়ন্ত্রণ, নির্দেশদানকারী ‘নবিশ’ নেতৃত্বের অচলায়তন ভেঙে বেরিয়ে এসে প্রকৃত গঠনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড  করার সুযোগ পেলো। চার. বাংলাদেশে সংকীর্ণ, শিষ্টাচারহীন, আদর্শ, নীতি-নৈতিকতাহীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ‘আদর্শবান, সন্মানজনক রাজনৈতিক পরিমন্ডল প্রতিষ্ঠা যে সম্ভব তা জনগণের সামনে উঠে এলো।

মানুষ বুঝতে পারবে যে এতোকাল বিকৃত মানসিক বিকারগ্রস্তরা জাতির সামনে কী নোংরা খেলা খেলেছে। পাঁচ. প্রকৃত এককবিরোধী দল হিসেবে বিএনপির অর্জন অনেক। প্রথমত তারা কারো নির্দেশ দ্বারা পরিচালিত না হয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে এবং বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সংলাপে অংশ নিয়ে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপিত করতে পেরেছে। ছয়. মৌলিকভাবে এ উপমহাদেশে নির্বাচন বয়কট বা বর্জনের সিদ্ধান্ত ফলপ্রসূ হয় না। এ দেশের মানুষ রাজনীতির কচকচানি বেশি না বুঝলেও নির্বাচন এলে প্রায় সবাই অংশ নেয়। নির্বাচন যেটাই হোক তা দিয়ে জনজীবনে খুব বেশি পরিবর্তনের আশা করে না, তবে নির্বাচনের মওসুম একটা আনন্দ, উৎসব এবং মোচ্ছব হিসেবে গ্রহণ করে। তদুপরি বিএনপির মতো দল ক্যাডারভিত্তিক না হওয়ায় নির্বাচন বর্জন করলে কর্মী ধরে রাখতে পারে না। তাই তাদের অভিজ্ঞতার কারণেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হতো। সংলাপ তাদের মুখ রক্ষা করার সুযোগ এনে দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্য একটি বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের স্ট্যান্ডার্ডে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে মর্মে আশা করা যায়। সাত. বাংলাদেশে এক নেতার ভুঁইফোর দল গঠনের যে কালচার, যারা ঢাল নেই, তলোয়ার নেই হঠকারী স্লোগান দিয়ে জ্বালাওপোড়াও এবং সন্ত্রাস সৃষ্টি করে লম্ফঝম্ফ করে তাদের ক্ষমতা বোঝা গেলো। অন্যের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে হেন করেঙ্গা, তেন করেঙ্গা বলে চিৎকার যে মূল্যহীন এবং তাদের সাধারণের ভাষায় যে ‘বেইল’ নাই তা এ সংলাপ থেকে সবাই বুঝতে পেরেছে।

লেখক : সাবেক চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল কারিকুলাম ও টেক্সটবুক বোর্ড বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ