Skip to main content

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের ‘অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট’ জানা যাবে কী?

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে কোনো বিশেষ সমাধান জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পায়নি বলে ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাস ভবনের সামনে তিনি সে কথা জানান। তিনি আরও বলেন, আমাদের যে কথাগুলো, সেগুলো (প্রধানমন্ত্রীর কাছে) বলেছি। সব কিছু তুলে ধরেছি। আমাদের নেতৃবৃন্দ সবাই তাদের কথা বলেছেন। তাদের অভিযোগ, উদ্বিগ্নের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। সবার কথা বলার পর, প্রধানমন্ত্রী লম্বা বক্তব্য দিয়েছেন, তবে ওখানে আমরা কোনো বিশেষ সমাধান পাইনি। একটা ব্যাপারে, সেটা সভা সমাবেশের ব্যাপারে ভালো কথা বলেছেন। একই সঙ্গে সেখানে সুব্রত চৌধুরী তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, শুরুতেই ড. কামাল হোসেন সূচনা বক্তব্য রাখেন। এরপর বিএনপি মহাসচিব আমাদের ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকাসহ সারাদেশে সভা সমাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচীর উপর কোনো বাধা থাকবে না। রাজনৈতিক দলসমূহ সভা-সমাবেশ যে যেখানে করতে চাইবে, তাদের কোনো বাধা দিবে না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা ও গায়েবি মামলা হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মামলার তালিকা দেন। মামলাগুলো বিবেচনা করবো এবং যাতে কেউ হয়রানি না হয়, সেগুলো আমরা বিবেচনা করবো। উত্থাপিত দাবি নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে কি কথা হয়েছে, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে একই স্থানে উপস্থিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলেননি। তিনি বলেছেন, এই বিষয়গুলো নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হতে পারে। আমরা এতে সন্তুষ্ট নই। আমাদের কর্মসূচী চলবে। এছাড়া আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা আমাদের ৭ দফা দাবি দিয়েছি। মানা, না মানার দায়িত্ব সরকারের। আমাদের কর্মসূচী আমরা দিয়েছি, আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। লক্ষ্য করুন, এখানে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে তার সঙ্গে সংলাপে বসা প্রতিপক্ষের ব্যক্তিবর্গ নিজেদের মতো করে কথাগুলো সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপকে ঘিরে আশা-আকাঙ্খার সঞ্চার হয়েছিল; কেউ কেউ সংলাপের আগেই ‘রাজনৈতিক সুবাতাস’ অনুধাবন করেছেন। অন্যদিকে লক্ষ্য করুন, স্বয়ং ডিবিসি নিউজের টক শো-তে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সংলাপে খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল প্রসঙ্গে কিছুই বলেননি ড. কামাল হোসেন। ঐক্যফ্রন্টের টিমলিডার হিসেবে ড. কামাল হোসেন নাতিদীর্ঘ বক্তব্য রাখলেন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধুর অবদান সকল বিষয়ের তিনি উল্লেখ করলেন, কিন্তু একবারও খালেদা জিয়ার সাজা বাতিল বা মুক্তি প্রসঙ্গে কিছু বলেননি। তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ ও আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। যে যেভাবে কথা বলতে চেয়েছেন, কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। কেউ কেউ চার-পাঁচবার করে কথা বলেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মুক্তমনে আপনারা কথা বলুন’। নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা মিটিং সমাবেশ এর প্রয়োজনীয়তার কথা বললে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘আপনারা প্রেসে গিয়ে বলবেন, আমার বক্তব্য হলো- বাংলাদেশের যে প্রান্তে সমাবেশ করা দরকার, আপনারা করতে পারবেন, কোন অনুমতি লাগবে না, কেউ বাধা দেবে না; এটা আমার নির্দেশ’। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বেগম খালেদা জিয়ার সাজা বাতিলের ব্যাপারে বিকল্প উপায় হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রত্যাশা করলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন, আদালতের রায়ে কারো সাজা হলে সাজা বাতিল করার এখতিয়ার আমার নাই, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে; আমি কোনোভাবে আদালতের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করবো না’। সংলাপে অনাকাঙ্খিত রাজনৈতিক মামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্থ করেন যে, ‘আপনারা লিস্ট দেন, আমি সবগুলো মামলা খতিয়ে দেখবো’। কিন্তু যদি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ওই সংলাপের বিষয়ে একটি ‘অফিসিয়াল স্ট্যাটমেন্ট’ মিডিয়াকে পাঠাতেন, যেমনটা পশ্চিমা বিশ্বে দেয়ার রেওয়াজ রয়েছে, তাহলে সকল বিভ্রান্তির অবসান ঘটতো এবং ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গিটি জনসমক্ষে সুস্পষ্ট হতো। আর ওই ‘অফিসিয়াল স্ট্যাটমেন্ট’ না থাকায় সংলাপে অনুপস্থিত ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির দুই নেতা ভিন্ন কথাও বলেছেন। সময় টেলিভিশনের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মন্তব্য, ‘সরকারের সঙ্গে সংলাপের ফলাফল শূন্য’। একই দিন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সরকারি জোটের সংলাপে সরকারের একগুঁয়েমি মনোভাব গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় ধরনের অশনি সংকেত। তার ভাষায়, সংলাপে মানুষের মনে যে আশাবাদ জেগে উঠেছিল, সংলাপ শেষে সেই আশার মুকুল ঝরে যেতে শুরু করেছে। সংলাপ শেষে সাত দফা দাবির প্রতি সাড়া না দেয়ায় আওয়ামী অনড়তায় সুষ্ঠু নির্বাচনের অগ্রগতি তিমিরাচ্ছন্ন হল। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যজোটের অনুষ্ঠিত সংলাপটি কী পরিসরে শেষ হয়েছে, তার একটি ‘অফিসিয়াল স্ট্যাটমেন্ট’ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে ‘ফলাফল শূন্য’ কিংবা ‘আশার মুকুল ঝরে যেতে শুরু করেছে’, এমন নেতিবাচক বক্তব্যের একটি সুরাহা হতো। কেননা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে সংলাপের যৌক্তিক ফলপ্রসূতাই জনমানুষের একান্ত প্রত্যাশা। ই-মেইল: [email protected]