প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১/১১’র সংলাপে সাফল্য ৫৪ শতাংশ ঐক্যফ্রন্ট দ্বি-ধাপ কৌশলে চলতে চায়

নাঈমুল ইসলাম খান : ১ নভেম্বর ১/১১ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলোচনায় ফ্রন্টের ৭ দাবির মোটামোটি ৫৪ শতাংশ অর্জন হয়েছে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসতে, ধাপে ধাপে আরও অর্জন যুক্ত হতে পারে এবং ভোটের দিন পর্যন্ত এ অর্জন ৭০ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলা অসম্ভব নয়। তবে শর্ত থাকে যে, ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগ, কৌশল এবং অ্যাটিচুড (দৃষ্টিভঙ্গি) ১লা নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের মতোই থাকবে।

১. প্রথম দফা মেনে সরকারের পদত্যাগের পরিবর্তে শেখ হাসিনা নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। এছাড়া খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত জামিন না পেলেও তাকে কারাগারের বাইরে হাসপাতালে আনা হয়েছে যেটা কারাগারে বন্দিত্বের চাইতে গ্রহণযোগ্য। আমার ধারণা ১ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম দফার ৪০ শতাংশ মানা হয়েছে এবং নির্বাচনের আগেই ধাপে ধাপে আরও অগ্রগতি হতে পারে।

২. নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি না মানলেও ইভিএম ব্যবহার সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। সামনের দিনগুলিতে এই সীমিত ব্যববহারটি অতি সীমিত পর্যন্ত নামতে পারে এমনকি ইভিএম ব্যবহার সম্পূর্ণ স্থগিত হতে পারে। এই দফায়ও অর্জন ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৪০ শতাংশ।

৩. তৃতীয় দফায় মিডিয়া ও সভা সমাবেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অর্জন ৬০ শতাংশ বলে আমি মনে করি। এক্ষেত্রেও সামনে ভোটের আগেই আরও অগ্রগতি হতে পারে।

৪. চতুর্থ দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনে বন্দী প্রায় সকলেই ছাড়া পেয়ে গেছেন বা আরও ছাড়া পাবেন। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল হবে বলে মনে হয় না। এজন্য ১ নভেম্বর পর্যন্ত এ দাবির অর্জন আমার মতে ৫০ শতাংশ। এক্ষেত্রেও সামনে পরিস্থিতি ধাপে ধাপে অনুকূল হবে।

৫. মনে হচ্ছে সেনাবাহিনী নির্বাচনের সময় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে থাকবে। ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। অন্যান্য আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী তফসিল ঘোষণার পর সত্যি সত্যি নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অর্জন ৫৫ শতাংশ বলা যায়।

৬. নির্বাচনে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের সুযোগ এবং মিডিয়ার ওপর বিধি নিষেধ আরোপ না করার পূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ১ নভেম্বর পর্যন্ত অর্জন ৭০ শতাংশ ধরা যায়।

৭. সপ্তম দফায় নির্বাচনকালীন রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা না দেয়া এবং পুরোনো মামলাগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখার ক্ষেত্রেও সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ১ নভেম্বর পর্যন্ত এক্ষেত্রে অর্জন মনে করি ৬৫ শতাংশ।

সংলাপে অর্জন সম্পর্কে ‘বিএনপি সন্তুষ্ট না’ এবং ড. কামাল বলেছেন, বিশেষ কোনো সমাধান আসেনি তারপরও মির্জা ফখরুল বলেছেন, এক বৈঠকে সব পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে অ্যাডভোকেট সুব্রত জানাচ্ছেন, তারা ‘সন্তুষ্ট যেমন নন, অসন্তুষ্টও তেমন নন’। তাদের চেষ্টা হবে আরও আলোচনা-সংলাপ করার। আ স ম রব বলেছেন, আন্দোলন ও কর্মসূচি চলমান থাকবে। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট দ্বি-ধাপ কৌশল নিয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে এক এবং পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে লক্ষ্য অর্জনের জন্যই তারা চেষ্টা চালাবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক ধারা অর্থাৎ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংঘাত এবং চরম বিদ্বেষের সম্পর্ক। একটি পক্ষ আরেক পক্ষের ধ্বংস চায়। এরকম হতাশাজনক প্রেক্ষাপটে ১/১১ তে আলোচনা ও আপ্যায়ণে মিলিত হওয়াই একটা উল্লেখজনক সাফল্য। এই আলোচনা যখন আরও আলোচনা-সংলাপের প্রতিশ্রুতি দেয় সেটা আরও উচ্চতর সাফল্য। এমন উপর্যুপুরি সাফল্যে ধাপে ধাপে সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি এখন আর কেবলই স্বপ্ন নয়।

লেখক পরিচিতি: দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ