প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শতভাগ বিদ্যুতায়নের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : এক দশক আগেও দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সন্ধ্যা নামতেই থেমে যেত মানুষের কর্মব্যস্ততা। দিনের আলোর ওপর নির্ভরশীল গ্রামীণ জনপদ কুপি, মোমবাতি ও হ্যারিকেনের আলোয় রাতে প্রয়োজনীয় কাজ সারতেন। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের সেই দৃশ্য আজকাল খুব কমই দেখা যায়। কারণ বিদ্যুতের আলো পৌঁছে গেছে দেশের গ্রামগঞ্জ এবং আনাচে-কানাচে। বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়ে উঠছে এক-একটি জনপদ। গ্রামে গ্রামে ঘুরছে শিল্পায়নের চাকা। চিকিৎসাসেবাও এ জন্য অনেকটা হাতের নাগালে চলে এসেছে। গ্রামের বাজারগুলোতে বেড়েছে বেচাকেনা। শিক্ষার্থীরা রাতে ভালোভাবে পড়ালেখার সুযোগ পাচ্ছে। ক্ষমতসীন আওয়ামী লীগ সরকার ২০২১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ঘরে বৈদ্যুতিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। বর্তমানে দেশের মোট ৯২.৫০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী। আর আগামী বছর ৯৫ শতাংশ মানুষই এ সুবিধা পাবেন বলে বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের শতভাগ বিদ্যুতায়নের বিষয়টি এখন আর কোনো স্বপ্ন নয়। এটি শিগগিরই হতে যাচ্ছে বাস্তব ঘটনা।

যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, কিন্তু বেশ কিছু কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আরও এক বছর সময় লাগবে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের শেষের দিকে দেশের সব উপজেলায় বিদ্যুৎ পৌঁছে যাবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনের আগেই দেশের শতভাগ এলাকায় বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে কাজ করলেও কিছু অঞ্চলে যেমন— চরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে আরও সময় লাগবে। বিকল্প পথে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এ জন্য ৭০০ কোটি টাকার প্রকল্পও গ্রহণ করেছি। পার্বত্য এলাকায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর সন্দীপে সাবমেরিন দিয়ে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া অফ গ্রিড এলাকা হাতিয়ায় বিদ্যুতের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মনপুরায় ‘সূর্যগ্রাম’ নামক প্রকল্প দিয়ে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নেওয়া হবে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৪৬০টি উপজেলার মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৩৯টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ পৌঁছেছে। ডিসেম্বর এবং আগামী বছর অবশিষ্ট উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে পল্লী বিদ্যুতের সমিতিগুলো প্রতি মাসে তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিচ্ছে। আগে বিদ্যুতের মিটার পাওয়া কষ্টকর হলেও শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির পর এখন সংযোগ প্রদান দ্রুত ও সহজতর হয়েছে। সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ, পাওয়ার সেল, বিভিন্ন কোম্পানি ও সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৪৬০টি উপজেলার ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এলাকায় ৩ লাখ ৯০ কিলোমিটার বৈদ্যুতিক লাইন, ১০.০৭৫ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ৮৬৭টি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ২০১৭-১৮ বছরে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত গোষ্ঠী ৮০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৯০ শতাংশ। আর এই সুবিধা পৌঁছে দিতে ২৭ হাজার কিলোমিটর নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয় ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। এটি বাস্তবায়নে ৬ হাজার কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন এবং ১ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন ও প্রয়োজনীয় উপকেন্দ্র নির্মাণ ও এর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এ ছাড়া এই লক্ষ্যে আঞ্চলিক গ্রিডে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। ছয় হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ ও দুই হাজার ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর অত্যন্ত দুর্গম, চর ও দ্বীপাঞ্চলের বিদ্যুিবহীন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রত্যন্ত এলাকায় ৪৫ লাখ মানুষ সৌর বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছেন। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মোট ৩৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হবে। চার হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য এরই মধ্যে দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এ কেন্দ্রগুলো উৎপাদন শুরু করবে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ