প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিছু হটছে পরিবহন শ্রমিকরা ভোটের আগে কর্মসূচি নয়

কালের কন্ঠ : সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর বিভিন্ন ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের আন্দোলন আপাতত চাঙ্গা হচ্ছে না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আন্দোলনে যেতে চাইছেন না পরিবহন খাতের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দাবি আদায়ে ২১ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে আজ শনিবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে নোটিশ দেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের। এই সময়সীমায় দাবি না মানলে ৯৬ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তা স্থগিত করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ ও ২৯ অক্টোবর কর্মবিরতির নামে ধর্মঘট পালনকালে মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে শিশুর মৃত্যু, বিভিন্ন স্থানে যাত্রী ও চালকের মুখে পোড়া মবিল মাখানো, শিক্ষার্থীদের হেনস্তাসহ নৈরাজ্যের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের উদ্যোক্তা সংগঠন বিপাকে রয়েছে। আগামী ৬ নভেম্বর রাজধানীতে সংগঠনের বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে। এ সভায় পালিত কর্মসূচি পর্যালোচনার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানা গেছে।

কর্মবিরতির নামে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটকালে ব্যক্তিগত পরিবহনের যাত্রী ও চালকদের হেনস্তা করা হয় মুখে পোড়া মবিল মাখিয়ে। ছাত্রীদের পোশাকে মবিল ছুড়ে হয়রানি করা হয়। বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ের কাছে, অনেক স্থানে ফেডারেশনের নেতাদের সামনে ও তাঁদের নির্দেশনায় এসব অপকর্ম ঘটে। এসব অপকর্মের হোতাদের চিহ্নিত করা শুরু করেছে পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে ভিডিও চিত্র দেখে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এর আগে প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন যে ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

পরিবহন শ্রমিকদের কর্মসূচি চলাকালে ২৮ অক্টোবর সকালে তাদের বাধায় অ্যাম্বুল্যান্সে শিশুর প্রাণহানির ঘটনায় মৌলভীবাজারের বড়লেখা থানায় বুধবার হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ১৬০-১৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ওই শিশুর প্রাণহানির পর ধর্মঘট আহ্বানকারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতারা স্থানীয় ১৩ জনের একটি তালিকা করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফেসবুকের ছবি ও গণমাধ্যমে প্রচারিত ছবি থেকে দায়ী শ্রমিকদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু গতকাল শুক্রবার বলেন, ‘আমাদের ৪৮ ঘণ্টার কর্মবিরতিকালে পিকেটিংয়ের কোনো নির্দেশনা ছিল না। কেন এটি হলো আমরা পর্যালোচনা করব। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৩ নভেম্বর (আজ) নোটিশ দেওয়া হচ্ছে না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কথা বলব। নির্বাচনের আগে আর কোনো ঝামেলায় যেতে চাই না।’ জানা গেছে, ফেডারেশন এক চিঠিতে অপরাধীদের বিচার দাবি করেছে।

শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয় বর্ধিত সভা করব। সভায় পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে। আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় আমরা বিব্রত হয়েছি। পরিবহন খাতে আমাদের প্রতিপক্ষ এই কাজ করতে পারে। আমরা অপরাধীদের বিচার চাই।’ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘শনিবার (আজ) নোটিশ দেওয়ার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। কর্মবিরতি কর্মসূচি চলাকালে যারা অপকর্ম করেছে তাদের চিহ্নিত করতে আমরা সরকারকে সহযোগিতা করব।’

এদিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের বিভিন্ন ইউনিয়ন ধর্মঘটকালে ভাঙচুরকারীদের একটি তালিকা তৈরি করছে। তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সরদার মো. সোবহান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ (খোকন) কালের কণ্ঠকে বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট চলাকালে রাজধানীর শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী, দোলাইরপাড়, জুরাইন, সায়েদাবাদ, বাসাবো, খিলগাঁও, মিরপুর-১৪ ও আনসার ক্যাম্প এলাকায় অটোরিকশা বেশি ভাঙচুর করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ