প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামে বহু বৈধ অস্ত্রধারী নিখোঁজ

মানবজমিন : চট্টগ্রামে বহু বৈধ অস্ত্রধারীর সন্ধান মিলছে না বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ও চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সফলতা দেখালেও বৈধ অস্ত্রধারীদের খোঁজে গলদঘর্ম হচ্ছেন। তবে এসব অস্ত্রধারীর খোঁজে মাঠে নিরলসভাবে কাজ করছে র‌্যাব ও পুলিশের গোয়েন্দা সদস্যরা।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. কামরুজ্জামান জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় ৩০শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৬২টি লাইসেন্স করা অস্ত্র থাকার কথা। এর মধ্যে মহানগরে ২ হাজার ৫৭৭টি এবং জেলায় এক হাজার ৭৮৫টি অস্ত্র রয়েছে।
গোয়েন্দা শাখার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহানগরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বৈধ অস্ত্রধারীর হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যে নাম-ঠিকানার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিলেন সেসব জায়গায় গিয়ে তাদের অনেকের হদিস পাচ্ছে না পুলিশ। জেলা প্রশাসনের আগ্নেয়াস্ত্র শাখায় জমা দেয়া গোয়েন্দা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনেও একই তথ্য উঠে এসেছে।
আগ্নেয়াস্ত্র শাখা সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রাম মহানগরে ২৯১টি এবং জেলায় ২৪৭টি অস্ত্রের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। আর নীতিমালা লঙ্ঘন করায় বাতিল হয়েছে ১৩৪টি অস্ত্রের লাইসেন্স।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, বিধি মোতাবেক বৈধ অস্ত্র যারা পান তাদের বেশির ভাগ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতা। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আবেদন করে যাচাই-বাছাই শেষে অস্ত্র পান তারা। কিন্তু গত কয়েক বছরে অস্ত্র পেয়েছেন এমন বৈধ অস্ত্রধারীদের নাম-ঠিকানা যাচাইয়ের পর হদিস মিলছে না।
নাম প্রকাশ না করে জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, গত ৫ বছরে রাজনৈতিক সুপারিশে অনেকেই বৈধ অস্ত্রের মালিক হয়েছেন। তবে কারা এসব বৈধ অস্ত্রের মালিক, তার কোনো হালনাগাদ তথ্য জেলা প্রশাসনের কাছে নেই। ওই কর্মকর্তা জানান, সমপ্রতি চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা এলাকায় বৈধ অস্ত্রধারী কতজন আছে তার একটি তালিকা চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন সিএমপির বিশেষ শাখা। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও পাঠিয়েছে নগর পুলিশ। এতে বলা হয়েছে, নগরে বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হচ্ছে আন্ডারওয়ার্ল্ডেও। দাগি সন্ত্রাসীদের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ভাড়া দিয়ে অর্থ আয় করছে একটি চক্র। একটি অস্ত্রের লাইসেন্স থাকার সুবাদে একই ব্যক্তি একাধিক অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করছে। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন, বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করার সুযোগ নেই। ব্যক্তির নামে ইস্যু করা অস্ত্র অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাজেও ব্যবহার করা যাবে না। কিছুদিনের মধ্যে আমরা একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করব। এতে বলা হবে- বৈধ অস্ত্রধারীদের তাদের অস্ত্র বহনের সময় অবশ্যই লাইসেন্স সঙ্গে রাখতে হবে।
সূত্রমতে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী সম্প্রতি উপজেলার উত্তরাঞ্চলে দাঁতমারা ইউনিয়নের হেয়াকোঁতে উন্নয়ন প্রকল্পের নামফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রতিরোধের সম্মুখীন হন। এতে দুপক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় দুপক্ষই অবৈধ অস্ত্রের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রও প্রদর্শন করে। যার মধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী। এছাড়া ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া ও লালখান বাজার এলাকায় সংঘটিত দুটি ঘটনায় বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের চিত্র পাওয়া যায়। ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বাকলিয়া মাস্টারপুল এলাকায় বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী দিদারুল হক ওরফে কিরিচ বাবুলের সংঘর্ষ হয়। এসময় তার দোনলা বন্দুক দিয়ে গুলি করলে পাঁচজন আহত হন। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর ৩১শে মার্চ কিরিচ বাবুলের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করে জেলা প্রশাসন। এর আগে ২০১৩ সালের ৮ই এপ্রিল নগরের ওয়াসা মোড়ে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান কর্মসূচিতে প্রকাশ্য বৈধ অস্ত্র শর্টগান দিয়ে হামলা চালায় লালখান বাজারের যুবলীগ ক্যাডার দিদারুল আলম মাসুম। এ ঘটনা নিয়ে পরের দিন গণমাধ্যমে সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হলে তোলাপাড় সৃষ্টি হয় প্রশাসনে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ প্রশাসন।
র‌্যাব-৭ চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মিমতানুর রহমান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে র‌্যাব সর্তক অবস্থানে রয়েছে। বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কেও সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে র‌্যাব মহাপরিচালকের। যাতে আসন্ন নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার রোধ এবং বৈধ অস্ত্রের বিধি বহির্ভূত ব্যবহার না হয় তা নিয়ে মাঠে কাজ করছে র‌্যাব। অস্ত্র উদ্ধারে নির্বাচনের আগে প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ