প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দাম কমেছে সবজির বেড়েছে রসুন-মাছের

মানবজতিন : পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে রাজধানীর কাঁচাবাজারে হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছিল সবধরনের সবজির দাম। তবে ধর্মঘট শেষ হওয়ার দুই দিনের মধ্যেই আবার স্বাভাবিক হয়েছে এসব পণ্যের বাজার। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বাজারেও দাম কমতে শুরু করেছে সব রকমের শীতকালীন সবজির। দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মাঝে। আর বিক্রেতারা জানালেন, শীত যতই ঘনিয়ে আসবে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি দামও কমবে। এদিকে সবজির দাম কমলেও বেড়েছে রসুন ও মাছের দাম। রাজধানীর কাওরান বাজার, সেগুনবাগিচা, হাতিরপুল বাজার ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায়, যে ধনেপাতা এক সপ্তাহ আগেও ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই ধনেপাতা এখন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে যে ফুল কপি আগে প্রতিটি ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে; এখন তা ২৫ থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া টমেটো, শিম, বেগুন, করলা ও কাঁচামরিচ গত সপ্তাহর তুলনায় প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে রাজধানীর বাজারগুলোতে ১০০ টাকার ওপরে কেজিতে বিক্রি হওয়া শিমের দাম কমে এখন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে সবজিটি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। কাওরান বাজারে ব্যবসায়ীরা এক পাল্লা (৫ কেজি) শিম বিক্রি করছেন ১০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতিকেজি শিমের দাম পড়ছে ২০ টাকা। তবে যারা খুচরা বাজারে বিক্রির জন্য বেশি করে কিনছেন তাদের কাছ থেকে আরো কম দাম নেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া খুচরা বাজারভেদে প্রতিকেজি শিম ৩০-৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কোনো কোনো বাজারে প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়।

কাওরান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহিন বলেন, এখন শীতের সব সবজিই বাজারে ভরপুর। ফলে শুধু শিম নয় সব ধরনের সবজির দাম কমেছে। সামনে হরতাল-অবরোধ বা ঝড়-বৃষ্টি না হলে দাম আরো কমবে। এখন যে শিমের পাল্লা ১০০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে সেই শিমই কিছুদিন পর ৫০ টাকা পাল্লা বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি। তিনি বলেন, আড়ৎ থেকে কম দামে আনতে পারায় আমরাও এখন কম দামে শিম বিক্রি করছি। শুধু শিম নয় মুলা, কপি, লাউ, টমেটোসহ সব ধরনের সবজির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কমেছে।

শীতের সবজির পাশাপাশি বাজারে এসেছে নতুন আলু। তবে দাম খানিকটা বেশি। যেখানে পুরাতন আলু বিক্রি হচ্ছে ৫ কেজি ১৪০ টাকায়। সেখানে নতুন আলু প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে দামি সবজির তালিকায় থাকা টমেটোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে গাজরের দাম। বাজারভেদে টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি। আর গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি।

দাম কমার তালিকায় রয়েছে শীতের অন্যতম আগাম সবজি ফুলকপি ও পাতাকপি। বাজার ও মানভেদে ফুলকপির পিচ বিক্রি হচ্ছে ২০-৪০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩০-৫০ টাকা। আর গত সপ্তাহে ৫০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া পাতাকপির দাম কমে ৩০ টাকায় নেমে এসেছে। বিভিন্ন বাজারে ৩০-৪০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পটোল, ঢেঁড়স, বেগুন, করলা, চিচিংগা, ঝিঙা ও ধুন্দল। এক সপ্তাহ আগেও কিছু কিছু বাজারে এসব সবজির কেজি ৬০ টাকা ছিল। শীতের সবজির পাশাপাশি বাজারে এসেছে শীতের শাক। বাজার ভেদে এক আটি পালন শাক বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকা। গত সপ্তাহে ১০-১৫ টাকা আটি বিক্রি হওয়া লাল ও সবুজ শাকের দাম কিছুটা কমে ৫-১০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি কিছুটা দাম কমেছে কাঁচামরিচের। বাজার ও মানভেদে এক পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০-২০ টাকা। গত সপ্তাহে যেখানে কোনো বাজারেই ১৫ টাকার নিচে এক পোয়া কাঁচামরিচ বিক্রি হয়নি।
কম দামে সবজি কিনতে পেরে কিছুটা স্বস্তিতে আছেন ক্রেতারা। সবজি কিনতে আসা ফাতেমা বেগম বলেন, গত সপ্তাহে এক পোয়া শিম কেনেছিলাম ৩০ টাকা দিয়ে। এখন ৩০ টাকা দিয়ে এক কেজি শিম পাওয়া যাচ্ছে। গত সপ্তাহে যে কপির দাম ছিল ৫০ টাকা এখন তা ৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, অনেকদিন ধরেই বাজারে সবজির দাম বাড়তি ছিল। এখন দাম কিছুটা কমছে। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু টমেটো ও গাজার তো এখন আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাহিরে। এ দুটি সবজির দামও কমা উচিত।

এদিকে অপরিবর্তিত রয়েছে পিয়াজের দাম। প্রতিকেজি দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩৫ টাকা কেজি। তবে দাম বেড়েছে রসুুনের। দেশি রসুনের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়ে ৬০-৭০ টাকা এবং আদার দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৪০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবধরনের মাছের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও রুই মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। মাঝারি ধরনের প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। এ ছাড়া পাবদা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা কেজি। শিং মাছ ৩০০-৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকায়। ৬০০-৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৭০০ টাকা। আর পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫০০ টাকায়। এক কেজি সাইজের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-১০০০ টাকা পিস। আর ছোট আকারের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৪৮০-৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৬৫০-৭০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে খুচরা বাজারে কমেনি ডিমের দাম। খামারের মুরগির ডিম প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩৬-৩৮ টাকা দরে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত