প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরো আলোচনা হতে পারে : কাদের

রাইজিংবিডি : সংলাপে সমাধান খুঁজে পাননি বলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানালেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আরো আলোচনা হতে পারে। তবে সেটি ৮ নভেম্বরের পর জানা যাবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এ কথা জানান সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্যন্টের ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। সংলাপে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল হিসেবে অংশ নেয়। বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির ছয় সদস্য ছিলেন।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ২৩ সদস্য অংশ নেন।

আলোচনা চলবে কি না?—এমন প্রশ্নে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হতে পারে সেটা ৮ তারিখের (নভেম্বর) পর জানা যাবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে তারা কী বলেছেন?—জানতে চাইলে সরকারের এই মন্ত্রী বলেন, তারা মুক্তি চেয়েছেন। কিন্তু এটা আইন আদালতের বিষয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের মধ্যেই আমরা কথা বলেছি। সংবিধানের আলোকে আলোচনা হয়েছে। আলোচনা গঠনমূলক হয়েছে।’

আলোচনা কি আজই শেষ? না আরও হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় আলোচনা হতে পারে। আমরা তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা বলেছি।’

এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপ কক্ষে ঢুকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর সংলাপের শুরুতেই সূচনা বক্তব্য দেন তিনি।

সংলাপে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মহসীন মন্টু, প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ও ম শফিক উল্লাহ, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, এস এম আকরাম, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আ ব ম মোস্তফা আমিন, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী অংশ নেন। সংলাপে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি যোগ দেননি।

অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সংলাপে ১৪ দলীয় জোট থেকে ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল যোগ দেয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া অন্যরা হলেন–আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, মো. আবদুর রাজ্জাক, কাজী জাফর উল্যাহ, আবদুল মতিন খসরু, রমেশ চন্দ্র সেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, আবদুর রহমান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ, আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাসদের একাংশের সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিকল্পধারা ও জাতীয় পার্টির নেতারা ২ ও ৫ নভেম্বর গণভবনে সংলাপে বসবেন। সব দলের সঙ্গে সংলাপের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাম দলগুলোকে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বাম দলগুলো তাদের সিদ্ধান্ত পরে জানাবে বলে জানিয়েছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ