প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপে গণমাধ্যমের ভূমিকা হতে পারে জাদুকরী

নুসরাত শরমীন : গণমাধ্যমের ভূমিকা এমন জাদুকরী যে, সংকটকালীন সময়ে জনমত গঠনে একটি শক্তিশালী ক্ষেত্র হলো গণমাধ্যম।সঙ্গত কারণে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। একটি গল্পের অবতারনায় বিষয়টি আরো পরিষ্কার হতে পারে। স্বামী থেকে গৃহকর্মী প্রত্যেকেই তার আগ্রাসী আচরণের শিকার। কিন্তু গৃহকর্ত্রীর বিরুদ্ধে কারও কথা বলার জো নেই। শাড়ির আঁচলে চাবির গোছার ঝনঝন শব্দ তার ক্ষমতার অহংকারী প্রকাশ। স্বামী বেচারা পেশায় উকিল এবং শৌখিন গায়ক, লুকিয়ে ছাদে গান গেয়েও রক্ষা নেই। স্ত্রীর একচ্ছত্র শাসনের রক্তচক্ষুর বাধায় পুরো গান শেষ করতে পারেননি কখনো। ১৯৭০ সালের চলচ্চিত্র এটি, ‘জীবন থেকে নেয়া’। ছবিতে পারিবারিক একটি গল্পকে প্রতীকায়িত করে পরিচালক জহির রায়হান রূপকের মাধ্যমে তৎকালীন সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার রহিত এবং শোষিত বাঙালি জাতির রাজনৈতিক সংগ্রাম দেখিয়েই ক্ষান্ত হননি বরং পারিবারিক ও রাষ্ট্রিয় জীবনে স্বায়ত্বশাসনের আকাঙ্খা ফুটিয়ে তুলে বাংলার জনগনকে স্বাধীনতা যুদ্ধের দিকে অগ্রসর হওয়ার উৎসাহ যুগিয়েছেন। মোটাদাগে বলতে গেলে, রাষ্ট্রকে শাসক শ্রেণির মতাদর্শর পক্ষে বিপক্ষে জনমত গড়ে তুলতে হয়, আর কাজটি করে থাকে গণমাধ্যম।

একটি দেশের নির্বাচনকালীন সময়ে গণমাধ্যম জনগন ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র তৈরি করে। জনগনের কাছে রাজনৈতিক দলগুলোর গ্রহণযোগ্যতা কতখানি তা দেখাতে গণমাধ্যম আয়না হিসেবে কাজ করে। তথ্য আদানপ্রদানের এ আয়োজনকে আরো সমৃদ্ধ করেছে টিভি টকশো। বাঙালি কথাপ্রিয় জাতি। চায়ের দোকানে যেমন গরম পানির আদলে কথা ফুটতে থাকে, টকশোও তেমনি সমসাময়িক পরিস্থিতি বিষয়ে কথার বুদবুদ ছড়ায়, জনমত গঠন করে, ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের অসমঝোতাকে সর্বজনগ্রাহ্য সমাধানের উপায় খুঁজতে পথ বাতলে দেয়।
আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংলাপকালীন সময়ে সরকার এবং তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বক্তব্যের চমৎকার বিশ্লেষণ হয় টকশোতে। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গণভবনে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা সংলাপ শেষে রাতে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিভিন্নভাবে গণমাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তাদের বক্তব্যই হয়ে ওঠে গণমাধ্যমের উপজীব্য।
ড. কামাল বলেন, সংলাপে কোনো ‘বিশেষ সমাধান’ আমরা পাইনি। কেবল একটি ব্যাপারে- সভা সমাবেশের ব্যাপারে একটি ভালো কথা বলেছেন। আমরা সংলাপের সুযোগ পেয়েছি। আমরা আমাদের কথা উনাকে (প্রধানমন্ত্রী) বলে এসেছি। উনি উনার কথাগুলো বলেছেন, উনার মনের কথা আমরা কিছুটা জানতে পেরেছি। বিএনপি এতে আশাবাদী কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমি তো বলেছি ভাই- আমি সন্তুষ্ট নই।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, সংলাপে সন্তুষ্ট নই, অসন্তুষ্টও নই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ঢাকাসহ সারাদেশে সভা-সমাবেশেসহ রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর কোনো বাধা থাকবে না। রাজনৈতিক দলসমূহ যেখানে সভা করতে চাইবে সেখানে কোনো বাধা দেবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা দিতে তিনি ইতিমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মামলার সম্পর্কে উনি বলেছেন যে, আপনারা রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের মামলা ও গায়েবী মামলার তালিকা দেন। আমি অবশ্যই বিবেচনা করবো। যাতে হয়রানি না হয় তা বিবেচনা করব। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, উত্থাপিত দাবি-দাওয়া নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বললেন চারটি প্রাপ্তির কথা। তিনটি বিষয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা জানিয়েছেন, একটি হচ্ছে বিনা বাধায় সভা-সমাবেশ করতে পারা, রাজনৈতিক মামলার তালিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, নতুন কোনও মামলা না দেওয়ার আশ্বাস এবং জাতীয় নির্বাচনে অবাধে পর্যবেক্ষক নিয়োগের পথ খোলা রাখা।
মাহমুদুর রহমান মান্না সংলাপে দুটো বিষয় উত্থাপন করেন। দুটো বিষয়ই আওয়ামী লীগ আমলে নেয়নি। একটি হচ্ছে, যে সংলাপ শুরু হয়েছে, পরিস্থিতি নিষ্পত্তির আগে এই সংলাপ চালু রাখা। দ্বিতীয়ত, সংলাপ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত তফসিল ঘোষণা না করা।

সবার বক্তব্যের সমষ্টিগত বিবেচনায় গণমাধ্যমে আলোচিত বিশ্লেষণে এটা নিদির্¦ধায় বলা যায় ইতিবাচক সংলাপ হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগের তালিকা অনেক দীর্ঘ, যার সংক্ষিপ্ত ভার্সন হচ্ছে সাত দফা। তাই এক বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান খোঁজাও অবাস্তব। দু’পক্ষের বক্তব্যকে এক করে গণমাধ্যম এখানে কাউন্সিলিং এর ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্পর্কের দূরত্ব ঘুচিয়ে নির্বাচনের ময়দানে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় বহুমতের প্রতিফলন ঘটাতে পারে গণমাধ্যম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ