প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঝড়ো রাত, কিশোরী কন্যা উধাও এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার গল্প

এ.আর. ফারুকী : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১২ সাল। মুজাফফরপুর, বিহার প্রদেশ, ভারত। বৃষ্টি¯œাত মাঝরাত। অতুল্য চক্রবর্তী হঠাৎ জেগে ওঠলেন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে। জেগে দেখলেন বাড়ির আঙিনায় প্রতিদিন যে বাতিটি জ্বলে থাকে তা জ্বলছে না। তার মনে কু ডেকে ওঠলো। তার স্ত্রী মৈত্রীকে ডেকে তুললেন। জিজ্ঞেস করলেন, তিনি ঘুমোতে যাওয়ার আগে বাতি জ্বালিয়েছিলেন কিনা। স্ত্রী বললেন তিনি বাতি জ্বালাতে ভুলে গিয়েছিলেন। গায়ের ওপরে থাকা লেপ ছুড়ে ফেলে মৈত্রী হন্তদন্ত হয়ে নেমে এলেন খাট থেকে। হঠাৎ তাদের মনে পড়ে গেলো তাদের ১২ বছর বয়েসী মেয়ে নবারুনার কথা। তারা তাদের দোতলা ঘরের সিড়ি বেয়ে নেমে এলেন নিচের বারান্দায়। এসে যা দেখলেন তাতে তাদের মেরুদন্ড বেয়ে ভয়ের শীতল স্রােত নেমে গেলো। বারান্দার দরজাটা হা হা করছে। স্বাক্ষ্য দিচ্ছে ভয়ানক একটা কিছু ঘটে গেছে। ভয় তাদের পুরোপুরি গ্রাস করে ফেললো। দ্রুতপদে মেয়ের ঘরে পৌছালেন। কিন্ত কেউ নেই। পুরো ঘর জুড়ে খা খা শূন্যতা। ¯্রফে হাওয়া হয়ে গেছে তাদের আদুরে কন্যা নবারুনা।

সারাদিন ঘরেই ছিলো নবারুনা। হাতে মেহেদী দিয়েছে, কার্টুন দেখেছে, রাতের খাবার খেয়ে নিজের বিছানায় ঘুমোতে গেছে। বিছানায় রেশমি শাল, মশারি, পাশ বালিশ সবই জায়গামতো আছে। কেবল মানুষটাই নেই। সে এখানে নেই, বলে বিলাপ করে ওঠলেন মৈত্রী চক্রবর্তী।

পুলিসের বক্তব্য, একজন জানালার গ্রীল বাকিয়ে বারান্দায় নবারুনার ঘরে প্রবেশ করেছে। তারপর ভেতর থেকে বারান্দার দরজা খুলে দিয়েছে যাতে অন্যরা প্রবেশ করতে পারে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস অনুপ্রবেশকারীদের দেখে মেয়েটি ভয় পেয়ে যায়। সম্ভবত তাদের বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করে সে। বেশ ধ্বস্তাধ্বস্তির আলামত পাওয়া গেছে বিছানায়। অপহরণকারীরা তাদের সাথে গাড়ি এনেছিলো, যাতে করে তারা মেয়েটিকে নিয়ে দ্রুত হাওয়া হয়ে যায়। পুলিস এই ঘটনায় নবারুনার এক আত্মীয়সহ তিনজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু নয়মাস আটকে রেখেও কোন তথ্য উদ্ধার করতে না পারায় তাদের পরে ছেড়ে দেয় পুলিস।

২৬ নভেম্বর স্থানীয় লোকজন নবারুনার বাড়ির পাশের নালায় প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পায়। পরে পৌরসভার কর্মীরা এসে ব্যাগটি উদ্ধার করে পুলিসের কাছে হস্তান্তর করে। পরে পুলিস নবারুনার পরিবারকে জানায়, তারা তাদের মেয়ের অস্থি পেয়েছে। কিস্তু তারা পুলিসের বক্তব্য প্রত্য্যাখ্যান করে প্রমান দেখাতে বলেছে। তাদের বিশ্বাস তাদের মেয়ে এখনো বেচে আছে। আর তার খুনিরা এখনো মুক্ত আলো বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
একমাস পর, ডাক্তাররা ফরেনসিক এবং ডিএনএ টেস্ট করে সিদ্ধান্তে পৌছেছেন, অস্থিগুলো ১৩-১৫ বছরের মেয়ের এবং যাকে ২০/২৫ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু তারাও নিশ্চয়তা দিয়ে বলতে পারেনি সেটা নবারুনারই অস্থি।

সিবিআই সহ ভারতের বেশ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা এই কেসের ওপর কাজ করেছে। কিন্তু ঘটনার কোন কিনারা করতে পারেনি। নবারুনার বাবা মায়ের বিশ্বাস তাদের মেয়ে এখনো জীবিত আছে। আসলেই কি আছে ?পুলিস হাল ছেড় দিলেও হাল ছাড়ছেন না অতুল্য। বছরের পর বছর ধরে তিনি নানা সূত্র সংগ্রহ করে যাচ্ছেন। অতুল্য প্রায় চার গিগাবাইট ফোন কল কথোপকথন সংগ্রহ করেছেন। এতে যেমন পুলিসের কথা আছে তেমনি আছে নানা উৎস থেকে আসা রহস্যজনক ফোনকলও। এছাড়াও অতুল্য তার পরিষ্কার হাতের লেখায় নবারুনা সংক্রান্ত প্রতিটি খুটিনাটি লিপিবদ্ধ করেছেন। সবমিলিয়ে প্রায় ১৭০ পৃষ্ঠা। প্রত্যেকটি পাতা যেন বলতে চায়, আমি জানি কারা আছে এই অপহরণের পেছনে। বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ