প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাজিলের নতুন বিচারমন্ত্রী সার্জিও ম্যুরো

এ.আর.ফারুকী : ব্রাজিলের কট্টর ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসেনেরো সার্জিও ম্যুরোকে তার নতুন আইনমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন। বিচারপতি ম্যুরো তার দূর্নীতি বিরোধী অবস্থানের জন্য বিখ্যাত। গত বৃহঃবার ম্যুরো জানিয়েছেন, বিচার এবং জন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহনে তাকে অনুরোধ করায় তিনি অনেক বেশি সম্মানিত বোধ করছেন।

বৃহঃবার ম্যুরো এবং বোলসেনেরো রিও ডি জেনেইরোতে সাক্ষাত করেন। এসময় বোলসেনেরো জানান, “আমাদের সরকারে ম্যুরোর মতো ব্যক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিচার এবং জন নিরাপত্তা বিষয়ক দায়িত্ব পালনে ম্যুরো আমাদের সাথে একমত হয়েছেন”। বোলসেনেরো ম্যুরো প্রসঙ্গে আরও জানান, “তার দূর্নীতি এবং সমাজ বিরোধী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে, সংবিধানের প্রতি অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা আমাদের চলার পথের পাথেয়।

তার নিয়োগ বিতর্ক উস্কে দিয়েছে যে, ম্যুরোর এই দূর্নীতি বিরোধী শক্ত অবস্থান মূলত রাজনৈতিক। কেননা এর আগে তিনি ‘অপারেশন কার ওয়াশ’ নামে যে দূর্নীতি বিরোধী তদন্ত পরিচালনা করেছেন সেখানে অভিযুক্তদের অধিকাংশই ছিলেন বামপন্থী রাজনীতিবিদ। তার তদন্তের সবচেয়ে বড় শিকার ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা। লুলা ডি সিলভাকে গত এপ্রিলে দূর্নীতির দায়ে ১২ বছর কারাদ- দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা ডি সিলভা বারবার বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

কেন্দ্রীয় বিচারক ম্যুরো ‘অপারেশন কার ওয়াশ’ নামে দূর্নীতি বিরোধী তদন্ত দিয়ে আলোচনায় আাসেন। অপারেশন কার ওয়াশ ব্রাজিলের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানী পেট্টোব্রাসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করা হয়; যারা ঘুষের বিনিময়ে বিভিন্ন কোম্পানীকে নানা অনৈতিক সুবিধা প্রদান করতো। এছাড়াও এরমাধ্যমে তিনি দূর্নীতির সাথে জড়িত অনেক উচ্চশ্রেণীর রাজনীতিবিদের মুখোশও উন্মোচন করেন।

দূর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ তাকে অনেকের কাছে নায়ক বানালেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে আছে, তিনি বেছে বেছে কেবল বামপন্থীদের টার্গেট করছেন। বিশেষ করে, ক্ষমতাচ্যুত ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত হওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এর আগে ২০১৬ সালে ম্যুরো সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, তিনি কখোনোই রাজনীতিতে আসবেন না। কিন্তু এখন বলছেন তার তদন্ত কার্যক্রম অন্যান্য বিচারকদের কাছে হস্তান্তর করবেন। যদিও প্রেসিডেন্ট বোলসেনেরো দূর্নীতি বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন তবে এখন দেখার বিষয় হলো আগামী জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি কংগ্রেসের মাধ্যমে তার নীতিগুলোকে কতটা বাস্তবায়ন করতে পারেন। বিবিসি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ