প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইভিএম ব্যবহারের উদ্যোগ গভীর চক্রান্ত : সাকি

রফিক আহমেদ : গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, অগণতান্ত্রিক নিবন্ধন আইন এখন কেবল দল গঠনের বাধাই নয়, রাজনীতি নিয়ন্ত্রণেরও হাতিয়ার হয়ে উঠছে। একইসাথে অগণতান্ত্রিক নিবন্ধন আইন বাতিল ও আরপিওকে গণতান্ত্রিক করে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির দাবি জানান তিনি।

শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

সাকি বলেন, অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তি উপেক্ষা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের তৎপরতাকে নির্বাচনে ডিজিটাল ভোট ডাকাতির পাঁয়তারা ও ষড়যন্ত্র করেছেন। শুধুমাত্র সরকারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ইভিএম ব্যবহারের এই তরিঘড়ি উদ্যোগ প্রমাণ করে বর্তমান নির্বাচন কমিশন সরকারের কতটা আজ্ঞাবাহী।

তিনি বলেন, পাশের দেশ ভারতসহ ইভিএম ব্যবহারকারী পৃথিবীর বহু দেশে ইভিএম ব্যবহার যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে এমনিতেই তুমুল অনাস্থার পরিবেশ বিরাজ করছে।

সেই অনাস্থার পরিবেশ দূর করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপে এক পাও অগ্রসর না হয়ে উল্টো ইভিএম ব্যবহার করার এই সিদ্ধান্ত স্পষ্টতই এক গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। এই ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে ইভিএম ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন দলের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখ্তার, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, মনিরউদ্দীন পাপ্পু, আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সদস্য দিপক রায়, অ্যাড. জান্নাতুল মরিয়ম তানিয়া। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় সংগঠক সৈকত মল্লিক।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অগণতান্ত্রিক নিবন্ধন আইন এখন কেবল নতুন চিন্তা ও দল গঠনের বাধাই নয়, রাজনীতি নিয়ন্ত্রণেরও হাতিয়ার হয়ে উঠছে। ভিত্তিহীন অভিযোগে গণসংহতি আন্দোলনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে তফসিল ঘোষণার আগে গণসংহতির নিবন্ধন দেয়ার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ। একইসাথে অগণতান্ত্রিক নিবন্ধন আইন বাতিল ও আরপিওকে গণতান্ত্রিক করার উদ্যোগ নেয়ার মাধ্যমে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। কাজেই তফসিলের আগে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের রূপরেখা রাজনৈতিক দলগুলির আলাপের মধ্যে দিয়ে তৈরি করতে হবে। চলমান সংলাপের মাধ্যমে এই সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন সরকার এটা কাজে না লাগালে এবং একগুয়েমি করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইলে জনগণের বৃহত্তর আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে।

সম্পাদনা-মাহবুব আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ