প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে নির্বাচনে না গেলে আবারো ভুল করবে বিএনপি’

সাজিয়া আক্তার : সংলাপ সফল না ব্যর্থ, সেই তর্কে না গিয়ে বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, সংঘাতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সংলাপ হওয়াটাই ভালো দিক।

খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের দাবির উত্তরে প্রধান মন্ত্রী বলেছেন, এটি আদালতের বিষয়। এতে যথার্থ উল্লেখ করে বিশিষ্টজনেরা বললেন, শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে নির্বাচনে না গেলে রাজনৈতিকভাবে আবারো ভুল করবে বিএনপি। (সূত্র: এটিএন নিউজ)

বৃহস্পতিবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের সাথে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৩ ঘণ্টা সংলাপ হয়। সংলাপ শেষে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্য ছিলো তারা বিশেষ কোনো সমাধান পাননি। আর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সন্তুষ্ট নন তারাও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিনের সংলাপে কোনো সমাধান না এলেও সংলাপ যে হয়েছে সেটাই চলমান পরিস্থিতিতে আশার দিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, এই সংলাপ ব্যর্থ নয়। সংলাপ হয়েছে এটা বিএনপির সাফল্য। সরকার আপস করেছে। মূল সমস্যা দূর হয়ে গেছে। কারণ সবারই দাবি ঐকমত্যের ভিত্তিতে দাবি গ্রহণযোগ্য মানের নির্বাচন। সেটার জন্য প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, এটি রাজনৈতিক দাবি। আওয়ামী লীগ সরকার ফরমাইশ দিয়েছে এ রায় করার জন্য, সেভাবে রায় হয়েছে। কিন্তু এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারবে না বিএনপি। এবার যদি নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলে নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আফসান চৌধুরী বলেন, নির্বাচন পুরোপুরি স্বচ্ছ না হলেও তুলনামূকভাবে স্বচ্ছ হলেই যথেষ্ট। যদি বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকে তাহলে তারাই বলবে নির্বাচনে কোনো কারচুপি হচ্ছে কিনা। যদি কারচুপি হয়ে থাকে তাহলে শেখ হাসিনার গ্রহণযোগ্যতা কমে যাবে। তিনি এখন একটা আন্তর্জাতিক পরিসরে অনেক বেশি সক্রিয়। যে কারণে তিনিও চাইবেন, ভালো একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়টি বিচারিক বিষয় হয়ে গেছে। এটা চাইলেও কিছু করা যাবে না। বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১০ বছর লেগেছে উনার জেলে যেতে। কাজেই আরো কয়েক বছর লাগবে জেল থেকে বের হতে। যদি না ক্ষমতা পাল্টে যায়। ভোট দেয়ার সময় ভোটার নিজের কথা ভাববে, তখন তারা হাসিনা- খালেদার কথা ভাববে না।

সভা সমাবেশে বাধা না থাকার বিশেষ গুরুত্ব নেই জানিয়ে বিশ্লেষকরা বলেছেন, সভা সমাবেশ করা রাজনৈতিক দলের সাংবিধানিক অধিকার। দুই বিশ্লেষকই একটি বিষয়ে একমত। সংলাপে লাভবান হবে আওয়ামী লীগ তথা ১৪ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট উভয়পক্ষয়ই। তবে কার অর্জন কতটুকো সেটি বলবে সময়। প্রথম দিকের আলোচনায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির সবগুলো না হলেও সভা সমাবেশে বাধা না দেয়া ও সুষ্ঠু নির্বাচনের যে আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, তাতে নির্বাচনী সম্পর্কে আস্থাহীনতা কমে সমাধানের পথ খুলে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ