প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যাংকিং সেবা এখন পৌঁছেছে মানুষের দোর গোড়ায়

রমজান আলী : এখন শহরের মতো গ্রামীণ জনগণও ব্যাংকিং সুবিধা পাচ্ছেন। ব্যাংকের শাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এ সুবিধা দিচ্ছে।ব্যাংকিং সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং। এ ব্যাংকিংয়ে সাধারণ ব্যাংকের মতোই প্রায় সব সুবিধা পাওয়া যায়। এজন্য গ্রাহককে বাড়তি কোনো চার্জও পরিশোধ করতে হয় না। ব্যাংকের ডেবিট কার্ড ব্যবহারেরও সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে দ্রুত জনপ্রিয় হয়েছে ব্যাংকিংয়ের এ ধারা। এখন গ্রামীণ এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা শহরের তুলনায় ৬ গুণ বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ১৭টি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন।এর মধ্যে গ্রামের মানুষই ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭ জন। বাকিরা শহরের। এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট স্থিতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি টাকা।এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এজেন্টের সংখ্যা তিন হাজার ৫৮৮টি এবং যাদের আউটলেট রয়েছে পাঁচ হাজার ৩৫১টি। দেশের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ সেবা গ্রহণ করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।ব্যাংকিং সেবা এখন পৌঁছেছে মানুষের দৌড় গোড়ায়। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৭৪১টি, বিশেষায়িত ব্যাংকের শাখার সংখ্যা এক হাজার ৪১২টি, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার সংখ্যা চার হাজার ৯২২টি এবং বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৮টিতে। শাখা খোলার নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে দেশের ব্যাংকিং খাত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি বছরের আগস্ট শেষে দেশে কার্যরত ৫৮টি ব্যাংকের সারাদেশের শহর এবং গ্রামাঞ্চলের শাখার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ১৪৩ টিতে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের শাখার সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৪০টি। ৮ মাসে বেড়েছে ১ হাজার ১০৩টি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১০ হাজার ১৪৩টি শাখার মধ্যে গ্রামাঞ্চলে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ৪ হাজার ৯০৯টি শাখার এবং শহরে কার্যক্রম চালাচ্ছে ৫ হাজার ২৩৪টি শাখা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য দেশের গ্রামাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে ব্যাংকগুলো গ্রামাঞ্চলের ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম প্রসারিত করে চলেছে। সেবার বাইরে থাকা মানুষদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এর আগে একটি নীতিমালা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালায় বলা হয়, শাখা খোলার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ গ্রামের নির্দেশনা রয়েছে। যেমন শহরে একটি শাখা খোলা হলে গ্রামেও একটি খুলতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসারতা দিতে কৃষি ও প্রামীণ খাতে ঋণ সরবরাহের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই ব্যাংকিং খাত গ্রামীণ অর্থনীতি দ্রুত বৃদ্ধিতে যে অবদান রেখেছে, তা দেশের সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে। দেশে বর্তমানে ৫৮টি ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরমধ্যে ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, তিনটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ৪০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও নয়টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পশার মানুষকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে আমরা আশা করছি- খুব শিগগির সেবার বাইরে থাকা দেশের তৃণমূলের মানুষও ব্যাংকিং সেবার আওতায় চলে আসবে।

সম্পাদনা : শাহীন চৌধুরী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত