প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামাল হোসেন একজন রাজাকার : বিচারপতি মানিক

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা কামাল হোসেনের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। এক পাকিস্তানি জেনারেলের লেখা থেকে তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘সোজা কথা, কামাল হোসেন একজন রাজাকার।’ পাকিস্তান কারাগরে বঙ্গবন্ধুকে যখন ফাসিঁ দেয়ার প্রস্তুতি চলছিল তখন এই কামাল হোসেনকে স্বাক্ষী দেয়ার জন্য পাকিস্তানে রাখা হয়েছিল।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িকতার সেকাল-একাল, আমাদের কথা’ শীর্ষক এক আলোচনায় বিচারপতি মানিক এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সংবিধান প্রণয়নে গঠিত কমিটির চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিণ্ডলীর সদস্য হন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বদ্বিতা করেন।

শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিরোধে ১৯৯২ সালে আওয়ামী লীগ ছাড়েন কামাল হোসেন, গড়ে তোলেন নিজের রাজনৈতিক দল গণফোরাম। এখন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে গঠিত বিরোধীদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

বিএনপির সঙ্গে কামাল হোসেনের জোট বাঁধার প্রসঙ্গ টেনে মানিক বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ বিরোধীদের সাথে আঁতাত করছেন যারা গ্রেনেড মেরে মানুষ হত্যা করেছে, তাদের সাথে আজ কামাল হোসেন আঁতাত করেছেন।

‘আমি আশ্চর্য হইনি এজন্য যে কামাল হোসেন নিজেও তো তাদেরই একজন। সেদিন একজন (বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর মোহাম্মাদ ফরাসউদ্দিন) বলেছেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যায় কামাল হোসেন জড়িত ছিল এই মর্মে এভিডেন্স পাওয়া যাচ্ছে, কথাটা উনি কিন্তু ভুল বলেননি, উনি সেই সময় বঙ্গবন্ধুর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন।’

আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে মামলা লড়া আইনজীবীদের একজন কামাল হোসেন মুক্তিযুদ্ধের সময় কীভাবে বন্দি হলেন, কেন তাকে পাকিস্তানে নেওয়া হল- সেসব বিষয়ে ভিন্ন একটি পাঠ শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অনুষ্ঠানে হাজির করেন মিট্টা খা নামের এক পাকিস্তানি জেনারেলের লেখা থেকে উদ্ধৃত করে।

মানিক বলেন, ‘মিট্টা খা ২০০৮ সালে ডিফেন্স জার্নাল নামে একটি ম্যাগাজিনে লিখেছেন, (একাত্তরের) ২৮ মার্চ কামাল সাহেব মিট্টা খাকে ফোন করে বলল, ‘সবাইতে তো চলে গেছে ভারতে, আমি যেতে চাই না, আমি মুক্তিযুদ্ধ-টুদ্ধ করব না, কিন্তু আমাকে ওই মুক্তিযোদ্ধারা মেরে ফেলবে, আমাকে দয়া করে রক্ষা করুন। মিট্টা খান তাকে ডিভিশনাল হেড কোয়ার্টারে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছেলেন, প্রোটেকশন করেছিলেন এবং ২৯ মার্চ কামাল সাহেবকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।

‘তিনি আরও লিখেছেন, পাকিস্তানে চলে যাওয়ার পর উনি প্রতি মাসে কামাল সাহেবের সাথে দেখা করতেন। কামাল সাহেব তখন তার শ্বশুর এবং তার সম্পর্কে শ্বশুর এ কে বদি আল্লাহবক্স-খোদাবক্স, খুব নাম করা উকিল ছিলেন, তার সঙ্গে প্র্যাকটিস করতেন।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু নেতৃত্ব দিয়ে এই দেশের জন্ম। আমরা ‘তাদেরকে’ যুদ্ধ করে পরাজিত করেছি ঠিকই কিন্তু কবর দিতে পারিনি।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ধর্ম মানুষের পরিচয় হতে পারে না। দেশকে উদার ও অসাম্প্রদায়িক করার জন্য ধর্মকে মানুষের ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। ধর্ম কখনো রাজনীতি চর্চার বিষয় হতে পারে না।

সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব বলেন, সা¤প্রদায়িকতাকে রাজনীতির একটি অস্ত্র হিসেবে ধারণ করা হয়েছে। তাই একটি গোষ্ঠী ধারণা করছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশে যদি হিন্দুবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়া যায় তবে ভোটের বাক্সে জয়ী হওয়া যাবে। কিন্তু এটা ভাবা ভুল। তারা এখনো সা¤প্রদায়িকতার ষড়যন্ত্র বিস্তার করছে।

বোয়াফের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের উপস্থাপনায় আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিন্নাত হুদা, লেখক ও সাংবাদিক জাফর ওয়াজেদ প্রমুখ।

সম্পাদনা-মাহবুব আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ