প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সন্ত্রাসের চেয়ে সংলাপ ও সমঝোতা উত্তম

নূহিয়া আহমেদ : অবশেষে গত ১ নবেম্বর অনুষ্ঠিত হলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দীর্ঘ প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সংলাপ। এই সংলাপের গুরুত্ব অপরিসীম।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার পর প্রথমবার তিনি এমন একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সামনাসামনি টেবিলে বসলেন, যারা সেই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। সেদিনের সেই হামলায় ২৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল, মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল কমপক্ষে ৩ শত জন। বিএনপির শাসনামলে এমন জঘন্য একটি হামলা সংঘটিত হওয়া ছিল রাজনৈতিক দল হিসাবে বিএনপির জন্য একটি মারাত্মক ব্যর্থতা। এমনকি পরবর্তী ১৪ বছরেও তারা এই হামলাটির নেতিবাচক গুরুত্বটি উপলব্ধি করতে পারেনি।

এতকিছুর পরও এমন একটি সংলাপ যে একটা কাজের সম্পর্ক তৈরির শুরু হতে পারে, সে বিষয়টি বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বুঝতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের এটাও বুঝতে হবে যে, আসন্ন নির্বাচনের বিষয়ে তাদের মতামতগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সরকার অন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকেও যুক্ত করে নিচ্ছে। কাজেই, তারা যদি বিষয়গুলো বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে চিন্তা করতে পারে, তাহলে হয়তো এই আলোচনা থেকে অনেক কিছু পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বসতে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যে আগ্রহ দেখিয়েছেন, বিরোধী নেতাদের উচিত হবে বিষয়টিকে মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে একটা সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করা।

আরও সহজভাবে বলতে গেছে, বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মনে রাখতে হবে- সংলাপ ও সমঝোতা অবশ্যই সন্ত্রাসের চেয়ে ভালো। আর যদি বিরোধীদলীয় নেতারা বিষয়টি না বুঝতে পারেন, তাহলে তাদের এই রাজনৈতিক ভুলের দায় কেবল তাদের উপরেই বর্তাবে, অন্য কারও উপর নয়।

(পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ইকোনমিস্ট আশকিকুর রহমানের লেখা অবলম্বনে।)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ