প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হেমন্ত জানান দিচ্ছে শীতের আগমনি বার্তা

কান্তা আইচ রায় : প্রভাতের সোনা রোদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে হেমন্তের। ঘাসের ডগা আর ধান শীষে জমাট বাঁধা স্নিগ্ধ শিশির ঝলমল করছে রোদের আলোয়। কুয়াশার চাদরে ঢাকা পথ-ঘাট, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। গ্রামীণ জনপদে ঢেলে দেয়া হেমন্তের সৌন্দর্য উপভোগের সময় নেই খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্যে। কাঁপুনি ধরা শীতের আগমনি বার্তা যেন বাড়িয়ে দিচ্ছে তাদের দুশ্চিন্তা।

কার্তিক ও অগ্রহায়ণ এ দু’মাস হেমন্ত কাল। ষড় ঋতুর মধ্যে হেমন্ত হলো ৪র্থ ঋতু। হেমন্তকে বলা হয় শীতের পূর্বাভাস। কৃত্তিকা ও আর্দ্রা এ দুটি তারার নাম অনুসারে নাম রাখা হয়েছে কার্তিক। ‘অগ্র’ ও ‘হায়ণ’ অংশের অর্থ যথাক্রমে ‘ধান’ ও ‘কাটার মওসুম’। স¤্রাট আকবর অগ্রহায়ণ মাসকেই বছরের প্রথম মাস বা খাজনা তোলার মাস ঘোষণা দিয়েছিলেন।

বর্ষকালে লাগানো আগাম আমন ধানে পাক ধরেছে। ধানের গোছায় কাঁচি ধরতে শুরু করেছেন চাষিরা। কিন্তু হেমন্তের উৎসব আর ছুঁয়ে যায় না কৃষকের হৃদয়।

ফসলের মাঠ সেজেছে নতুন সাজে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে পাকা ধানের সোনালী আভা ছড়িয়ে দিচ্ছে আলো। দখিনা বাতাস দোলা দিয়ে যাচ্ছে ধানের শীষে। এসময় ফসল ঘরে তুলতে বেড়ে যায় চাষিদের ব্যস্ততা।

হেমন্তের ফসল কাটাকে কেন্দ্র করেই নবান্ন উৎসবের সূচনা হয়। নবান্ন অর্থ নতুন ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব, যা সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর অনুষ্ঠিত হয়।

এই ঋতুতে গন্ধরাজ, মল্লিকা, শিউলি, কামিনী, হিমঝুরি, দেব কাঞ্চন, রাজ অশোক, ছাতিম, বকফুলসহ আরো নানা প্রজাতির ফুল ফোটে। পথের ধারে ফুটে থাকা ছাতিমের তীব্র গন্ধ বাতাসে মিশে মাতাল করে তোলে চারদিক।