প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গরম বক্তৃতা দিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট না করার আহ্বান হাছান মাহমুদের

মো.ইউসুফ আলী বাচ্চু: গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। গরম বক্তৃতা দিয়ে এই পরিবেশ নষ্ট না করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শুক্রবার (২ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদ আয়োজিত জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।

হাছান মাহমুদ বলেন, সাড়ে তিন ঘন্টা থেকে পৌনে চার ঘণ্টা সেখানে আলোচনা হয়েছে। ড. কামাল হোসেন যখন বললেন, প্রয়োজনে ছোট পরিসরে আমরা আলোচনায় বসতে চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আপনারা যদি চান আমরা অবশ্যই বসতে রাজি আছি। আমাদের দরজা খোলা আছে। এরপর গতকাল সংলাপের পর কামাল হোসেন যেটা বলেছেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের কথা বলেছে সেটাই সত্য কথা, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। তাই আজকে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, আমরা আশা করবো এই পরিবেশ আপনারা কেউ নষ্ট করবেন না। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, সেটি গতকাল আলোচনা হয়েছে। সংবিধানের আলোকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য যা যা করণীয় তা প্রধানমন্ত্রী সংলাপে ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং আমি আশা করবো যেই পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এই পরিবেশটি কেউ নষ্ট করবেন না। গরম বক্তৃতা দিয়ে পরিবেশ নষ্ট না করার আহ্বান জানাই।

অতীতের সব এক পাশে রেখে প্রধানমন্ত্রী সংলাপে সাড়া দিয়েছেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার পুত্র কোকোর মৃত্যুর পর তার বাড়ির আঙিনায় গিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাড়ির দরজা খোলা হয়নি, বরং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা, খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে গিয়ে অপমান, ১৫ আগস্ট জন্ম তারিখ না হওয়া সত্ত্বেও জন্মদিন পালনসহ সবকিছু একপাশে রেখে জাতির স্বার্থে গণভবনে সংলাপে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী কখনও সরাসরি সংলাপ করেনি। ঐক্যফ্রন্টের সংলাপে বসার চিঠি পাওয়ার পর তাতে সাড়া দিয়ে দেশের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রথম সংলাপে বসেছে। এর আগে কোনো প্রধানমন্ত্রী সংলাপ করেনি। দেশের ইতিহাসে বিরোধী দলের চিঠির জবাব প্রধানমন্ত্রী কখনো নিজে স্বাক্ষর করে দেয়নি।

গতকাল অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংলাপ হয়েছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ২০ জন নেতা সেখানে কথা বলেছেন মন খুলে। কেউ কেউ একাধিকবার কথা বলেছেন। আমাদের জোটের কয়েকজন নেতৃবৃন্দ কথা বলেছেন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংলাপ হয়েছে। আমি মনে করি গতকালকের সংলাপ দেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

আওয়ামীলীগ সাংঘর্ষিক রাজনীতির অবসান চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা কনফনট্রেশন অব পলিটিক্স বাদ দিয়ে যেতে চাই। আমরা বাংলাদেশে যে সাংঘর্ষিক রাজনীতি, তার অবসান চাই। আমরা পলিটিক্স অব কন্সাল্টেশনে বিশ্বাস করি, আমরা পলিটিক্স অব একমোডেশনে বিশ্বাস করি। সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী তাদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংলাপে বলেছেন, সভা সমাবেশ আপনারা অবাধে করতে পারেন। শুধুমাত্র জনগণের যেন ভোগান্তির শিকার না হতে হয় সেটি মাথায় রেখে রাস্তা বন্ধ করে দয়া করে সভা সমাবেশ করবেন না। কিন্তু সব সমাবেশের নামে অতীতে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে , আমরা আশা করবো বিএনপি, বিএনপির নেত্রীবৃন্দ সেই পথে হাটবে না, ঐক্যফ্রন্টকে সে কাজে ব্যবহার করবে না। এটি যদি করে জনগণ প্রতিহত করবে। কারণ জনগণ দেশে শান্তি এবং স্থিতি চায়। আজকের যে উন্ময়নের ধারা সূচিত হয়েছে সেটাও অব্যাহত থাকুক, এটাও জনগণের চাওয়া। আমরা আশা করবো আগামী নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট অংশগ্রহণ করবে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাবে।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, আওয়ামী লীগ নেতা বলরাম পোদ্দার, ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাদের খান, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাস, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ রানা সরকার, বঙ্গবন্ধু গবেষণা সংসদের সভাপতি সিদ্দিক হোসেন চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত