প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিচারপতি সিনহা যেভাবে ঐক্য প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেন

ড. বদারুল হাসান কচি : জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন নির্বাচন কমিশন। প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনি গণসংযোগে ছিল সরব; অন্যদিকে অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি ছিল অনেকটাই নিরব। ঠিক সে সময় বোমা ফাটালো ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’ নামক একটি বই, রচয়িতা সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। আলোচিত বিচারপতি সিনহা সাহেবের ঘটনাটি কম সময়ের, তাই কারও ভোলার কথা নয়। বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ ছিল। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য- বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলন।

আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানিয়ে এসব অভিযোগের দালিলিক প্রমাণাদি হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রপতি। তখন আপিল বিভাগের তার সহযোগী বিচারকেরা তার সঙ্গে বসতে, আদালত চালাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তারপর তিনি চিকিৎসার ছুটি নিয়ে বিদেশ গিয়েই পদত্যাগ করেছিলেন পদ থেকে; আর ফিরে আসেননি দেশে। কয়েকমাস চুপচাপ ছিলেন। হঠাৎ করে গেল অক্টোবরে নিজের বিশাল এক আত্মজীবনীমূলক বই বাজারে নিয়ে আসলেন। প্রিন্ট ভার্সনের আগে, অ্যামাজনের মাধ্যমে অনলাইনে ছেড়ে দিলেন খুব তড়িঘড়ি করে। প্রশ্ন আসে মনে, কীসের এতো তাড়া? উত্তর পেতে খুব যে ভাবতে হয়েছে তা নয়। শুরু হয়ে গেল বই নিয়ে আলোচনা-তর্ক, আর রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির হিসেব কষা।

বিএনপি দলীয় আইনজীবীরা ঝাঁপিয়ে পড়লেন রাজনৈতিক ফায়দা নেবার জন্য। দ্রুত প্রেস ব্রিফিং-এর আয়োজন করলেন কেবল বইতে কোন কোন জায়গায় সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে সেটি তুলে ধরার জন্য। নেতৃবৃন্দ কখন বইটি হাতে নিলেন, কখন ৬ শ’র অধিক পৃষ্ঠার বইটি পড়লেন, তা ভাবনার বিষয় ছিলো জনমনে। পাশাপাশি, সরকারের গোষ্ঠী উদ্ধারে নেচে-গেয়ে মাঠে নেমে গেলেন সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেন। শুরু হয়ে গেল, কিছু রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও ব্যক্তির দৌড়-ঝাঁপ। আজ এই নেতা অমুকের বাসায়, কাল অমুক নেতা তমুকের বাসায় বৈঠক শুরু হয়ে গেল। আর টিভি ক্যামেরা দেখলেই কথা বলার নতুন উপাদান হিসেবে বিচারপতি সিনহার বই টেনে সরকারের কড়া সমালোচনা শুরু হয়ে যেতো।

অপরদিকে বিচারপতি সিনহা বইটি প্রকাশ করে যে বসেছিলেন তা কিন্তু নয়। তিনি যুক্তরাজ্যে বসে ইউটিউব ভিত্তিক বাংলা টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে গেছেন। বইটির প্রিন্ট ভার্সনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মিডিয়া ডেকে সরকারের সমালোচনা করেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন জায়গায় বইটির উপর আলোচনা সভার আয়োজন করতে থাকেন; আর সুকৌশলে সরকারের সমালোচনা অব্যাহত রাখেন। এটি খুব স্পষ্ট হতে থাকে যে, নির্বাচন সামনে রেখে বইটি বের করতে একটি রাজনৈতিক শক্তি ইন্ধন জুগিয়েছে। এ ব্যাপারটি আরও পরিষ্কার হয় তখন, যখন দেখা গেল, তার বইয়ের সকল অনুষ্ঠান ঘুরে ফিরে বিএনপি সমর্থিত কিংবা বিএনপি’র পদধারী ব্যক্তিরা আয়োজন করে থাকেন। সর্বশেষ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মিলনায়তনে বইটির উপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়; আর সে অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলেন, নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

এইরকম একটি পরিস্থিতিতে বিবিসি বাংলা বিচারপতি এস কে সিনহাকে প্রশ্ন করেছিলো- ‘দেশে যখন একটি নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে, সে সময় এতোদিন পর কেনো এই বই প্রকাশ করলেন? আপনি কী কাউকে রাজনৈতিক সুবিধা দিতে চেয়েেেছন?

জবাবে তিনি বলেছেন, ‘সরকার আমার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার করেছে, আমি শুধু তা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম। যখন শেষ করতে পেরেছি তখন প্রকাশ করেছি। এতে বিরোধী দল যদি কোনো সুবিধা পেয়ে থাকে, তাতে আমার কী লাভ’?

প্রশ্ন জনগণেরও, আসলে আপনার কী লাভ? প্রবাদের মতো একটি কথা প্রচলিত আছে- ‘নিজের লাভ পাগলেও বোঝে’।

লেখক – আইনজীবী এবং সদস্য, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ কমিটি, আওয়ামী লীগ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ