প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৩ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

রবিন আকরাম : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির মধ্যে ৩ দাবির বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দলের ২২ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সংলাপে এমনটাই জানিয়েছেন নেতারা।

আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বিঘ্নে সভা সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হবে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা ও রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হওয়া নেতাকর্মীদের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনা করা হবে।

তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনের তফসিল পেছানোসহ অন্যান্য দাবি ঐক্যফ্রন্ট থেকে উত্থাপন করা হলেও এগুলোর বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কেন্দ্রিক আবারও আলোচনার দুয়ার খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সংলাপে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংলাপে অংশ নেওয়া ১৪ দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংলাপের শুরুতে উভয়পক্ষ নিজেদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সুচনা বক্তব্য রাখেন। এরপরেই ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেন নিজেদের ৭ দফা দাবি উত্থাপন করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্যরা মনযোগ সহকারে তাদের দাবিগুলো শোনেন।

নেতারা জানান, ঐক্যফ্রন্টের উত্থাপিত দাবিগুলো শুনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন সংবিধানের বাইরে গিয়ে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসকল দাবি রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

সংলাপ শেষে আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়েদুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নিরপেক্ষ অনুষ্ঠানের জন্য। সব দায়িত্ব তাদের। তফসিলের পর দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত হবে। নির্বাচন নিয়ে ভয়ের, শঙ্কার কারণ নেই। তিনি বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পর্যবেক্ষকরা আসবেন এতে আমাদের আপত্তি নেই।

কাদের বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল ও ফখরুল সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেছেন, যেসব মামলা মনে হয়েছে রাজনৈতিক মামলা তার একটা সংখ্যা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হয় না। শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বস্ত করছি। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয় সংলাপের মধ্যে আসতে পারে না। দুইটি মামলা কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা।

ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা

১. অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে সরকারের পদত্যাগ, জাতীয় সংসদ বাতিল, আলোচনা করে নিরপেক্ষ সরকার গঠন এবং খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দীর মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।

২. নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার নিশ্চয়তা দেওয়া।

৩. বাক্, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।

৪. কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন, সামাজিক গণমাধ্যমে মতপ্রকাশের অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা।

৫. নির্বাচনের ১০ দিন আগে থেকে নির্বাচনের পর সরকার গঠন পর্যন্ত বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ও নিয়ন্ত্রণের পূর্ণ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া।

৬. নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সম্পূর্ণ নির্বাচনপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে তাঁদের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ না করা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ না করা।

৭. তফসিল ঘোষণার তারিখ থেকে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত চলমান সব রাজনৈতিক মামলা স্থগিত রাখা এবং নতুন কোনো মামলা না দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ