প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের প্রস্তুতি শেষ ইসির

বিডি প্রতিদিন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিনটি সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে আলোচনা করেছে নির্বাচন কমিশন। এ সময় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরে কমিশন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে যে কোনো বিতর্ক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রথমে ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তাব করেন সিইসি। তখন রাষ্ট্রপতি জানতে চান ২৮ বা ২৯ ডিসেম্বর নয় কেন? তখন সিইসি বলেন, এ দুই দিন শুক্র ও শনিবার। এ ছাড়া নির্বাচনের জন্য আরও দুটি তারিখের প্রস্তুতির কথাও জানান সিইসি। তবে সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামী ৪ নভেম্বর কমিশন বৈঠকে নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ভোটের প্রস্তুতি অবহিত করতে গতকাল বিকালে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে অন্য চার নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম, শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা বলেন, তফসিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে ৪ নভেম্বর কমিশনের বৈঠকে। গতকাল বিকাল ৩টা ৩৫ মিনিটে বঙ্গভবনে গিয়ে প্রায় ৫০ মিনিট বৈঠকের পর সন্ধ্যায় বেরিয়ে এসে বঙ্গভবনের গেটে সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা প্রস্তুত। আগামী সাত দিনের মধ্যে (তফসিল) করতে পারি। রাষ্ট্রপতি আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তষ্ট।’ বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ কোনো ধরনের বিতর্ক এড়িয়ে চলতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) পরামর্শ দেন বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হওয়ার পর নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে নির্বাচন কমিশনে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা ধরে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার আন্তমন্ত্রণালয় সভাও করেছে ইসি সচিবালয়।

তিন তারিখ নিয়ে আলোচনা : সূত্র জানায়, ভোটের সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখ রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করেছে কমিশন। ভোটের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিজয় দিবসের আগে-পরের সুবিধা-অসুবিধার বিষয়টিও চিন্তা করা হচ্ছে। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৮ বা ২০ ডিসেম্বর, ২৩ বা ২৪ ডিসেম্বর ও ২৭ ডিসেম্বর বা ৩০/৩১ ডিসেম্বর প্রাথমিক তারিখ চিন্তা করা হচ্ছে। তবে চলমান সংলাপের কারণে তফসিল ঘোষণার জন্য ৫ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে ইসি। এ ক্ষেত্রে বড় কোনো সমস্যা না থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট হবে। সেইসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জানুয়ারির শুরুতে ভোট করার চিন্তাও মাথায় রাখছে কমিশন। তবে কমিশন ভোটের তারিখ হিসেবে ২০ ও ২৭ ডিসেম্বরকেই বেশি উপযোগী মনে করছে।

বিতর্ক এড়িয়ে চলুন : ইসিকে রাষ্ট্রপতি : বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন গণমাধ্যকে বলেন, সাক্ষাতের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার একাদশ সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। সিইসি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ভোটার তালিকার প্রস্তুতি, নির্বাচন অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি দিকগুলো তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে কোনো বিতর্ক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সে ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে আন্তরিক প্রয়াস অব্যাহত রাখতে বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যাপকতার ফলে এর অপব্যবহারের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তাই প্রযুক্তির অপব্যবহার সম্পর্কে ইসিকে সজাগ থাকতে হবে। সার্বিক প্রচেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারবে বলেও রাষ্ট্রপতি বৈঠকে আশা প্রকাশ করেন।

সব দল অংশ নেবে : বৈঠক শেষে বঙ্গভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সিইসি বলেন, এটি জরুরি কোনো সাক্ষাৎ নয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এটি অনানুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার। উনাকে নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। তফসিল নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে নূরুল হুদা বলেন, ‘তবে তফসিলের ব্যাপারে আমরা আগামী ৪ তারিখে মিটিং করব। সেদিন সিদ্ধান্ত হবে।’ রবিবার কমিশন সভায় তফসিল চূড়ান্ত হওয়ার পর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করার কথা রয়েছে সিইসি নূরুল হুদার। আগামী ২৭ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন হবে বলে রাষ্ট্রপতিকে ইসি অবগত করার বিষয়ে সিইসি বলেন, ‘এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তফসিলই তো হয়নি এখনো। কবে ভোট হবে সে বিষয়ে এখনই বলা যাবে না। তবে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। আমরা সাত দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে পারব।’ চলমান সংলাপকে স্বাগত জানিয়ে নূরুল হুদা বলেন, ‘সংলাপ রাজনৈতিক ইস্যু। সংলাপ চলছে এটার বিষয়ে আমরা শ্রদ্ধাশীল। তবে সংলাপ তফসিলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। সংবিধানে যেমন বলা আছে, নির্বাচন সেভাবেই হবে।’ সব দলের কাছে নির্বাচন কমিশন আস্থা অর্জন করতে পেরেছে কিনা— জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমাদের আস্থা আছে। তবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি সব দলের আস্থা আছে কিনা তা তারা বলতে পারবেন।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে। বিএনপির সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার জন্য হাই কোর্টের নির্দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা হাই কোর্টের আদেশ পেয়েছি। যিনি দরখাস্ত করেছেন তার কপিও আমরা পেয়েছি। নথি আমাদের কাছে রয়েছে। এখনো এ বিষয়ে সময় আছে। কমিশন আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’

সর্বাধিক পঠিত