প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
চোখের আলো ফেরাচ্ছে বেওয়ারিশ লাশ

ডেস্ক রিপোর্ট : স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে পেরেছে। মৃত ব্যক্তির চোখের কর্নিয়া সংগ্রহ করে তা দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চোখে সংস্থাপন তার আলো ফিরিয়ে দেওয়ার মহান ব্রত নিয়ে ১৯৮৪ সালে এই সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকে সংগঠনটি চার হাজারের বেশি কর্নিয়া সংগ্রহ করতে পেরেছে। প্রতি বছর যে সংখ্যক কর্নিয়া সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যেসব ব্যক্তি মরণোত্তর চক্ষুদান করেছেন, তাদের মধ্য থেকে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বেওয়ারিশ লাশ থেকেই সব কর্নিয়া সংগ্রহ করা হয়েছে। কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব নিবারণে বেওয়ারিশ লাশই একমাত্র ভরসা বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি কর্তৃপক্ষ বলছে, বছরে সংগৃহীত কর্নিয়া এবং দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সংখ্যা হিসাব করলে দেখা যায়, দেশে দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে ছয় হাজার বছর লাগবে। তবে স্বেচ্ছায় রক্তদানে বেশ অগ্রগতি হয়েছে।

মরণোত্তর চক্ষুদানে কেন সাড়া মিলছে না- এমন প্রশ্নে সংগঠনটির সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম সালেক সমকালকে বলেন, স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষ এগিয়ে এলেও মরণোত্তর চক্ষুদানে সাড়া কম। মরণোত্তর চক্ষুদান করার পরও স্বজনদের আপত্তিসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে মৃত ব্যক্তির কর্নিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর ওপরে আইনি জটিলতা কর্নিয়া সংগ্রহ এবং সংস্থাপনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব কারণে কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বের শিকার দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি দৃষ্টিহীন ব্যক্তির চোখের আলো ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় আজ ২ নভেম্বর পালিত হচ্ছে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস। এবার দিবসটি প্রতিপাদ্য- ‘দৃষ্টি ফেরায় চক্ষুদান, রক্তদানে বাঁচে প্রাণ’।

কর্নিয়া সংগ্রহে বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. জয়নাল আবদীন বলেন, ব্যক্তির মৃত্যুর বিষয়টি অনেক সময় তারা সঠিক সময়ে জানতে পারেন না। ব্যক্তির স্বজনরাও অনেক সময় জানান না। অনেক সময় স্বজনরা চক্ষুদানে আপত্তিও করেন। এ ছাড়া মৃত্যুর ছয় ঘণ্টার মধ্যে কর্নিয়া সংগ্রহ করা না গেলে তা কোনো কাজে লাগে না। এসব কারণে কর্নিয়া সংগ্রহে অগ্রগতি কম।

রক্ত ও চক্ষুদানে তুলনা :স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০০০ সাল থেকে সেভ ব্লাড ট্রান্সফিউশন কর্মসূচি চালু করে। এর আওতায় সারাদেশে ৩১৯টি রক্ত পরিসঞ্চালন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, দেশে রক্তদাতার সব সূচকেই অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত এই সংখ্যা শতকরা ২০ থেকে প্রায় ৭০ ভাগ বেড়েছে। দেশে বর্তমানে ছয় লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে ১৪ লাখের বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রয়েছে। তাদের মধ্যে কর্নিয়াজনিত দৃষ্টিহীনের সংখ্যা পাঁচ লাখ ২৬ হাজার। এর বিপরীতে দেশে বছরে মাত্র ৫০টি কর্নিয়া সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিশাল এই ঘাটতির কারণে অন্ধত্ব নির্মূলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।

সমিতির মাধ্যমে এ পর্যন্ত তিন হাজার ৪৩১টি কর্নিয়া সংস্থাপন করা হয়েছে। প্রকৃত চক্ষুদাতার সংখ্যা মাত্র ১০৬ জন। এদের মধ্যে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়েছে ৪২টি কর্নিয়া। সমিতির কাছে মরণোত্তর চক্ষুদানে অঙ্গীকার করেছেন ৩৬ হাজার ২৯৭ ব্যক্তি।

দিবসটি উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তারা মরণোত্তর চক্ষুদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সমিতির পক্ষ থেকে বেশকিছু উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অধ্যাপক ডা. এ কে এম সালেক, ডা. জয়নাল আবদীনসহ চিকিৎসক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি : দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় বিএসএমএমইউতে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শোভাযাত্রা বের করা হবে।

সর্বাধিক পঠিত