প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিরাইয়ের উজানধলে ভূমি অফিস নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করা স্বার্থান্বেষী চক্রেরই ষড়যন্ত্র

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণ কাজে স্থানীয় জঙ্গি-জামায়াত-বিএনপির কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে বাধা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কাজে বাধা সৃষ্টিকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে এলাকাবাসী একতাবদ্ধ জানিয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, বাউল গবেষক ও তরুণ ব্যবসায়ী দুলন চৌধুরী বলেন, হাতেগোনা মুষ্টিমেয় চার/পাঁচটি জঙ্গি-সন্ত্রাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালাচ্ছে। জঘন্য সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ‘লোকগুলো’ ত্রাস সৃষ্টি করতে দেশে-বিদেশে বসে বৈঠক করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উজানধল মাঠের স্কুলপ্রাঙ্গন এলাকায় ভাটিবাংলা বাউল একাডেমি ও গবেষণা কেন্দ্রের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ আলোচনায় বক্তারা বলেন, এরইমধ্যে দুদিন সহস্রাধিক মানুষ জড়ো হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদে সভা-সমাবেশ করেছে। দিরাইয়ের উজানধলে ভূমি অফিস নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে স্বার্থান্বেষী চক্রের ষড়যন্ত্র চলছে। তরুণ গবেষক দুলন চৌধুরী বলেন, এলাকার জনগণ চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। বিদেশ থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা ফেসবুকে হুমকি দিচ্ছে। মিথ্যাচার যারা করছে তারা বাস্তবতা জানেনা, বুঝেও না। ভবিষ্যতে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জঙ্গিসন্ত্রাসীদের ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠবে। প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে বারবার জঙ্গি-সন্ত্রাসী ও বাধা সৃষ্টিকারীদের নাম চাচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এই এলাকার সমাজসেবক ও দানবীর হিসেবে সুপরিচিত রেহান মিয়া বলেছেন ‘ধল ইউনিয়ন অফিসে (অর্থাৎ আগের জায়গায়) বিএনপি-জামায়াত ঢুকে গেছে। সুতরাং সরকারের উন্নয়নকাজে বাধাসৃষ্টিকারীদের বিশেষ উদ্দেশ্য রয়েছে। সুতরাং উন্নয়ন কাজ যথারীতি চলতে প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকায় দেখতে চাই।’ সকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এলাকাবাসীকে জাগ্রত থাকার আহ্বান জানিয়ে উজানধল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শেখ সমিরুল বলেন, অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে পরিবেশ নষ্ট ও অশান্তি সৃষ্টি করার লক্ষ্যে লন্ডন ও অস্ট্রিয়ায়সহ বিদেশে কর্মরত একটি চক্র সেখানে কোটি টাকা চাঁদা উঠিয়ে দেশে পাঠাচ্ছে। উজানধল ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণে কাজ চলছে। কিন্তু সেই চলমান উন্নয়নকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র এটি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নমূলক এই কাজে বাধা সৃষ্টির জন্য মুষ্টিমেয় কিছু জঙ্গি এখানে ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়। বিদেশ থেকে চার/পাঁচটি জঙ্গি-জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসী ফেসবুকে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা প্রচার করে হুমকি দিচ্ছে, এলাকায় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। অনুমান করতে পারছি, জঙ্গিরা গোলাগুলি, ত্রাস ও অগ্নিসন্ত্রাস চালাতে চায়। তিনি জানান, ধলবাজারে থাকা অবস্থায় তহসিল অফিস অতীতে খালেদা জিয়ার শাসনামলে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছিল সন্ত্রাসীরা। ব্যবসায়ী দুলন চৌধুরী বলেন, ধলের মানুষ হলেও বর্তমানে লন্ডনের একটি শহরে বসবাসকারী আহসান হাবিব তালুকদারের ফেসবুক আইডিতে মোহাম্মদ এম রহমান নামে এক ব্যক্তি হুমকি দিয়ে কমেন্ট করেছে, ‘সমস্যা সমাধানের একমাত্র রাস্তা নতুন সরকার ক্ষমতায় আসা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে পরের দিন ফজরের আগেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’ অথচ এই ব্যক্তির ভাতিজা সন্ত্রাস ও নাশকতা মামলায় রেজাউল করিম রিজু পিতা সিজিল মিয়া গ্রেপ্তার হয়। দিরাই থানার মামলা নম্বর নম্বর ১, তারিখ ১/০৯/ ১৮। ধারা ১৯৭৪ বিশেষ ক্ষমতা অঅইনের ১৫/৩ তৎসহ দ:বি: আইনের ১৪৩/১৮৬/ ৩৩২/ ৩৫৩/ ৩৪ ধারা। মোহাম্মদ এম রহমানের আশীর্বাদপুষ্ট ও ঘনিষ্ট ধল এলাকার জঙ্গিরা নাশকতা সৃষ্টি করতে চায়। গীতিকার ও ভাটি বাংলা বাউল একাডেমী ও গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি শাহ আবদুল তোয়াহেদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গি চক্র এখানে একটি ইস্যু সৃষ্টি করতে চায়। তাই উজানধলে ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণ করাকে ইস্যু হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারকে বিব্রত করতে ও বেকায়দায় ফেলতে নানারকম ষড়যন্ত্র করছে। নির্মাণাধীন কাজ বন্ধ করে ফেলতে চায়। সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত তরুণ তহসিল রানা বলেন, বিদেশে বসে তারা কোটি টাকার ফাণ্ড তৈরি করছে এমন তথ্যও আমার কাছে আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ব্যবহার করে উস্কানি দিচ্ছে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব শুরু করার পরিকল্পনা করছে। উজানধল শিবমন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি জ্যোতিষ চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান সরকার উজানধলের এই জায়গা পছন্দ করেছে। কিন্তু এই স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে চায় জঙ্গিরা। উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বাউল শিল্পী রণেশ ঠাকুর বলেন, এলাকার সবাই চায় এখানে সরকারের নির্ধারিত স্থানে উজানধল তহসিল অফিস হোক। তাহলে ঝামেলা হবে না। গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব বা কাউন্টার টেররিজমের মাধ্যমে এখানকার বিএনপি-জামায়াত-জঙ্গি সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে ও হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই অশুভ শক্তি শান্তি নয়, তারা অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। উজানধল ভূমি অফিস নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে জঘন্য কাণ্ড ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের জনগণের কি দোষ এমন পাল্টা প্রশ্ন তার। এলাকার অবস্থা জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ উল্লাহ বলেন, ‘মুষ্টিমেয় কিছুলোক পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো মূল্যে অশুভ জঙ্গিশক্তিদের মোকাবিলা করা হবে। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে চক্রান্তকারীরা মাঠে নেমেছে। মূল উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচন নস্যাৎ করতে দিরাইয়ের উজানধল এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা। বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার দীপক চৌধুরী এই দিরাই-শাল্লা থেকে আগামী একা দশ  সংসদ নির্বাচন করবেন বলে আওয়ামী লীগের মননোয়ন প্রত্যাশা করেছেন। এটাকে নশ্যাত করার জন্য এখান থেকে কিছু কিছু ব্যক্তি ফেসবুকে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে বিখ্যাত এই সাংবাদিকের সুনাম নষ্ট করতে চায়।

নাম-পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এলাকার প্রতিবাদী তরুণ জানান, জঘন্য সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার পর গুম করার হুমকি দিচ্ছে। ধলবাজারে কিছু সন্ত্রাসী অবস্থান করছে তারা আমাকে অনুসরণ করছে। সমাজে তারা ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত হলেও ওরা বিচারের নামে গুণ্ডামি-জুলুমি করে থাকে। এলাকার মানুষ শান্তি চায়, অশান্তি চায় না। জঙ্গিরা একটি ইস্যু সৃষ্টি করতে চায়।’ সকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে এলাকাবাসীকে জাগ্রত থাকার আহ্বান জানিয়ে এলাকার কয়েকজন স্থানীয় প্রবীণ জানান, ষড়যন্ত্রকারীরা পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া বাঁধাতে চায়। শান্তির এলাকায় তারা অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়। আমরা শুনছি জঙ্গি-জামায়াত-বিএনপির একটি সন্ত্রাসীচক্র এই এলাকায় গোলাগুলি, ত্রাস ও অগ্নিসন্ত্রাস চালাবে। সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, উজানধলেই ভূমি ও তহসিল অফিস নির্মাণ হচ্ছে। এটির কাজ চলমান। সরকারের উন্নয়নমূলক কাজে বাধা দেওয়া যাবে না। এক্ষত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। একপ্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ষড়যন্ত্র হোক আর যা-ই হোক আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। #

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ