প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কৃষিঋণ বিতরণে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

আদম মালেক : দুরত্বের কারণে জেলা বা থানা শহরে এসে কৃষিঋণ নিতে সব সময় উৎসাহ পান না কৃষকরা। তার ওপর ব্যাংক কর্মকর্তাদের তরফ থেকে অসহযোতিা বা হয়রানিতো আছেই। তাই অনেকে সহজ প্রক্রিয়ায় এনজিওদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর পল্লী অঞ্চলে এজন্টে ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে স্বল্প সুদে কৃষিঋণ বিতরণ নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে বলে জানা গেছে।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ আনতে কৃষককে দিনের পর ব্যাংকে পড়ে থাকতে হয়। এ কারণে একজন প্রান্তিক কৃষক নিজের জমিতে বা অন্যের জমিতে কাজ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়। আবার ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে জটিল প্রক্রিয়ার কারণেও কৃষকরা ঋণ নিতে ব্যাংকমুখী হতে ভয় পান। তখন তারা এনজিওর দ্বারস্থ হন। এনজিও কর্মীরা বাড়িতে এসে বা ফসলী মাঠে গিয়ে কৃষকের সঙ্গে ঋণ দান প্রক্রিয়া সম্পাদন করে। এতে কৃষকদের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হয়। আর এই সুযোগে এনজিওরা ৯ শতাংশের ব্যাংক ঋণ কৃষকের কাছ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করে থাকে। এই চড়া সুদের খপ্পর থেকে কৃষককে নিস্কৃতি দিতইে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আবির্ভাব। চলতি অর্থবছর ১১ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা বিতরণ করবে বেসরকারি দেশি ও বিদেশি ৪৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এসব ব্যাংক এতদিন নিজস্ব শাখার পাশাপাশি এনজিওর মাধ্যমে বিতরণ করলেও এখন এনজিও নির্ভরতা কমিয়ে এজেন্ট ব্যাংকিংমুখী হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এজেন্ট ব্যাংকিং গাইডলাইন্স প্রবর্তন করা হয়। গাইডলাইন প্রবর্তনের পর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেশের বিভিন্ন জায়গায় পল্লী অঞ্চলে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু করে। এসব আউটলেট থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয। ২০১৭-১৮ অর্থবছরেও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে কৃষকরা ৪ কোটি ২৫ লাখ ঋণ গ্রহণ করে। ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর তৎপরতা বাড়লে বিতরণের পরিমাণ আরও বাড়বে।

সম্পাদনা-তরিকুল ইসলাম সুমন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ