প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে মায়ের কোলে শিশু কাওছার

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ : নানা প্রতিকূলতার পর অবশেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মায়ের কোলে ফিরলো শিশু কাওছার। প্রায় ৫ মাস পূর্বে শিশু কাওছারের বাবার দূসম্পর্কের আত্মীয় রোজী আক্তার শিশু কাওছারকে গফরগাঁওয়ের কুর্শাপুর গ্রামের এক দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে কাওছারের বয়স দেড় বছর।

গফরগাঁও থানা পুলিশ ও শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভালুকা উপজেলার সজনগাঁও গ্রামের সিএনজি চালক জিয়াউল হকের স্ত্রী জেসমিন আক্তার গত ৫ মাস পূর্বে বিদেশে যাওয়ার জন্য মনস্থির করে। সে অনুযায়ী জেসমিনের ভিসাও আসে। এ অবস্থায় ছেলেকে লালন পালনের জন্য জিয়াউল তার দূর সম্পর্কের আত্মীয় ভালুকার বাটগাঁও নন্দিপাড়া গ্রামের মৃত সামাদ মিয়ার মেয়ে রোজি আক্তারের হাতে শিশু কাওছারকে লালন পালন বাবদ নগদ অর্থ প্রদানের বিনিময়ে তুলে দেয়। কিন্তু পরে মত পরিবর্তণ করে বিদেশে না যাওয়ার সিন্ধান্ত নেন শিশুর মা জেসমিন। পরে শিশু ছেলে কাওছার ফিরিয়ে আনতে রোজির বাড়ি গেলে ছেলেকে না দিয়ে রোজি ও তার লোকজন শিশু কাওছারের বাবা মাকে মারধর করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে শিশু কাওছারকে গফরগাঁওয়ের কুর্শাপুর গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের নিকট বিক্রি করে দেয় প্রতারক রোজি।

পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই শিশুর মা-বাবা অভিযোগ দিলে গফরগাঁও থানার ওসি আবদুল আহাদ খান দ্রুত অভিযোগটি আমলে নেন। পরে কৌশল অবলম্বন করে গফরগাঁও থানার উপপরিদর্শক জৌতিস বাবু ও কনস্টেবল মিজানকে সন্ধ্যার পূর্বে সিভিলে কুর্শাপুর গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের বাড়িতে পাঠান ওসি। সেখানে উপস্থিত হয়েই জেসমিন তার শিশু সন্তান কাওছারকে বুকে জড়িয়ে নেয়। তখন বিপুল পরিমান উৎসুক জনতা ভিড় করে।

শিশু কাওছারের মা জেসমিন আক্তার বলেন, ওসি সারের বুদ্ধিমত্তায় আমি আমার ছেলেকে ফিরে পেয়েছি। উপপরিদর্শক জৌতিষ বলেন, শিশুকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।

ওসি আবদুল আহাদ খান বলেন, শিশুর মায়ের অভিযোগটি দ্রুত আমলে নিয়ে ঘটনাস্থলে সন্ধ্যার পূর্বে সিভিল পোশাকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। শিশুটিকে নিয়ে যাতে পালিয়ে না যায় সে জন্যই সিভিল পোশাকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। শিশুটিকে উদ্ধার করে থানা নিয়ে আসা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ