Skip to main content

সমুদ্রের প্রাণিরা আজ বিপদাপন্ন

মতিনুজ্জামান মিটু: সমুদ্রে মাছ ধরা বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে মাছ ধরার প্রচেষ্টা। বেশি সংখ্যাক মানুষ নৌকা নিয়ে মাছ ধরায় আরও বেশি সময় ব্যয় করছে। যে পরিমাণ সময় ও শ্রম দিয়ে মাছ ধরা হয় সে তুলনায় অনেক কম মাছ ধরা পড়ছে। যা নির্দেশ করে যে আমাদের জলরাশিতে মাছেরা বংশ বৃদ্ধি বা বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেনা। বাংলাদেশে অতিরিক্ত মৎস্য আহরণের আরও একটি নির্দেশনা হচ্ছে মাছের জাত ও আকারের পরিবর্তন। আমাদের প্রিয় কিছু মাছও পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়ার শংকায় রয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৩ নম্বর গ্যালারিতে বঙ্গোপসাগরের প্রাণী এবং এদের সংরক্ষণে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা বিষয়ক ৫ দিনের প্রদর্শনীতে উদ্বেগজনক এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। উপকুলীয় এলাকায় ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার করায় প্রচুর পরিমাণ ছোট মাছ ধরা পড়ছে। এসব জালের কোনো কোনোটি ২ কিলোমিটার লম্বা। খালি চোখে দেখা যায়না এই জাল। এই জালগুলোতে সাধারণত সবধরণের সামুদ্রিক প্রাণি আটকা পড়ে। এগুলো সামুদ্রিক সম্পদকে নি:শেষ করছে। বাংলাদেশ সরকার এই জাল নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু কদাচিত এই নিষেধাজ্ঞার প্রয়োগ দেখা যায়। এধরণের অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণে আমাদের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। আমরা প্রতি ৩ কেজি মাছ ধরে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য আরও ২ কেজি নষ্ট করি বা অন্য সামুদ্রিক প্রাণী মেরে ফেলি। এই মারা যাওয়া বা নষ্ট হওয়াকে বলা হয় ‘অনাকাঙ্খিত মৎস্য আহরণ’। এতে প্রতিদিন যে পরিমাণ ডলফিন, হাঙ্গর, শালপাতা মাছ এবং সাগরের কাছিমেরা মারা যাচ্ছে সেই সংখ্যা পুরণের জন্য যত দ্রæত বাচ্চা উৎপাদন করা দরকার তা তারা করতে পারছেনা। প্রতিবছর বিশ্বে ৩ লাখ এরও বেশি ছোট তিমি ও ডলফিন মারা যায়। হত্যা করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার সাগরের কাছিম ও ১ লাখ হাঙ্গর। এদিকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য আবর্জনা সামুদ্রিক জীবগুলোর টিকে থাকাকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। পানির নীচে উচ্চশব্দ ব্যবহার করে তেল গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এতে শব্দ সংবেদনশীল ডলফিন ও তিমিগুলো স্থান ত্যাগে বাধ্য হচ্ছে। ‘সুস্থ্য সাগর-সুস্থ্য জনগণ’ এই প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৩ নম্বর গ্যালরিতে গতকাল থেকে বসেছে ৫ দিনের এই প্রদর্শনী। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মাহবুবুর রহমান প্রধান অতিথি হয়ে এসে ফিতা কেটে উদ্বোধনের পর প্রদর্শনী ঘুরে ঘুরে দেখেন। এর আগে তিন একাডেমি মিলনায়তনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধান বন সংরক্ষক মোহাম্মদ শফিউল আলম ও মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু সাইদ মো. রাশেদুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন ডাবিøউসিএস বাংলাদেশ ডিরেক্টর ব্রায়ান ডি স্মিথ। সভাপতিত্ব করেন ডবিøউসিএস বাংলাদেশ এর কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। ডাবিøউসিএস সিটিজেন সায়েন্স ফিশারম্যান সেফটি নেটওয়ার্কেল সদস্য ক্যাপ্টেন আক্কাস আলী এসময় উপস্থিত ছিলেন। বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ কর্মসূচি ভিত্তিক ডবিøউসিএস বাংলাদেশ এ মেলা আয়োজন করেছে। বঙ্গোপসাগরে প্রাণের সঙ্গে সহাবস্থানের চেতনা জাগ্রত করতে এ মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১১ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। সবার জন্য খোলা থাকবে এ প্রদর্শনী।

অন্যান্য সংবাদ