প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামীলীগ আবার সরকার গঠন করলে চট্টগ্রামে আরও উন্নয়ন করা হবে : প্রধানমন্ত্রী

শহিদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামায়াত জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার যে রাজনীতি করেছে তা এই দেশের জনগণ দেখেছে। টানা ৯২ দিন অবরোধ করে দেশকে অচল করার যে ষড়যন্ত্র তারা করেছিল তাও দেশবাসী ভুলেনি। এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলেছে। বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে চট্টগ্রামে মেগা প্রকল্পসহ ১৯ প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিস্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে বিএনপি- জামায়াত যে আগুন সন্ত্রাসে করেছে এতে বহু মানুষের জীবন তছনছ হয়েছে। ৫০০ মানুষকে তারা পুড়িয়ে মেরেছে। তিন সহস্্রাধিক মানুষ এখনো পঙ্গু জীবন যাপন করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ৩০ বছর আগে আওয়ামী লীগের ডাকা স্বৈরাচারবিরোধী সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নিহত ২৪ নেতা-কর্মী হত্যা মামলার বিচার কাজের শেষ করতে হবে। ওই দিন চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে জনসভায় আসা মানুষের উপর সরাসরি গুলি করেছিল পুলিশ। এরশাদ সরকার জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরে পরে বিএনপি সরকার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের প্রমোশন দিয়ে পুরস্কৃত করে। এটাই হচ্ছে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যের। নির্মম এ হত্যাকান্ডের মামলাটি এখনও শেষ হয়নি। যারা বিচারপ্রার্থী কিংবা যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ, তাদের অনেকেই এখন বেঁচে নেই। তারপরেও আমরা চাই এ মামলার বিচারকাজ শেষ হোক। বিচার হওয়াটা দরকার।

সেদিনের ঘটনায় আহত বা নিহত কারও পরিবার যদি আর্থিক অভাব-অনটনের মধ্যে থাকেন সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা করা হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করলে চট্টগ্রামে আরও উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের ১৯ প্রকল্পসহ দেশের ৫৬ টি জেলায় ৩২১টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর, সিডিএ, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থার ১৪টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। সেগুলো হলো, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হল, চট্টগ্রাম বন্দরের ৩টি গ্যান্ট্রি ক্রেন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা, সিডিএ’র সিটি আউটার রিং রোড, চট্টগ্রামের চার উপজেলা- সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও রাঙ্গনিয়ার শতভাগ বিদ্যুৎতায়ন।

এছাড়াও চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে স্মৃতিসৌধ, বাঁশখালী ফায়ার স্টেশন, বাঁশখালী আদালত ভবন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, সীতাকুন্ড উপজেলা প্রশাসনিক ভবন এবং চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চট্টগ্রাম ৫টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপনও করেন। এসব প্রকল্পের মধ্যে আছে-বে টার্মিনাল নির্মাণ, কেএফডি লিমিটেড আধুনিকায়ন, বিএমআরআই প্রকল্প, পটিয়ায় দুগ্ধ কারখানা এবং সীতাকুন্ড জুট মিলস আধুনিকায়ন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ