প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ থেকেই কূটনৈতিক জীবনের ইতি টানছেন বার্নিকাট

তরিকুল ইসলাম : মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বাংলাদেশে তিন বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৫ সালের শুরুতে ঢাকা মিশনে যোগদানের আগে পেশাদার এ কূটনীতিক যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মানব সম্পদ বিষয়ক ব্যুরো’র উপ-সহকারী সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলাদেশই ছিলো তার শেষ কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্ট। এখান থেকে তিনি অবসরে যাচ্ছেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আগামীকাল সন্ধ্যায় বিমান বন্দরে তাকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানাবেন।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন বার্নিকাট। সাক্ষাৎকালে আসন্ন নির্বাচন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এবং বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। সেখান থেকে ফিরে সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এদিন দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের বার্নিকাট বলেন, আওয়ামী লীগ ও ঐক্যফ্রন্টের পদক্ষেপ যদি সফল হয়, তাহলে তা জণগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পাবে। বাংলাদেশ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমি এ দেশকে খুব মিস করব। কাজের বাইরেও এ দেশে আমি আন্তরিকতা পেয়েছি।

বিকেলে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে মার্কিন দূতাবাসের আয়োজনে বিদায়ী সংবাদ সম্মেলন করেন বার্নিকাট। বাংলাদেশে যখন এসেছিলাম তখন দেশটি সম্পর্কে জানা থাকলেও দেখার দৃষ্টিতে এটা ছিল অচেনা দেশ। কিন্তু এখন সেই দেশ ছেড়ে যেতে কষ্ট হচ্ছে। সমৃদ্ধির পথে এগোতে থাকা দারুন সম্ভাবনার বাংলাদেশ দেখছি। অদ্ভুত সারল্য বাংলাদেশের মানুষের অনন্য বৈশিষ্ট্য। তাদের ভালোবাসা, মমতা সবকিছুই অকৃত্রিম। এই মানুষগুলোর কথা চিরদিন মনে থাকবে, আবার দেখা হবে।

বুধবার প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন বার্নিকাট। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক তার সম্মানে একটি ভোজের আয়োজন করছেন। মূলত এটিই ছিলো তার বিদায়ী ভোজ। বার্নিকাট তার ব্যক্তিত্ব এবং পেশাদারিত্ব দিয়ে সবাইকে জয় করেছেন। সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা যেমন করেছেন অকপটে, তেমনি সমালোচনাতেও ছাড় দেননি। সরকার ও বিরোধী মহলে তার যোগাযোগে একধরনের ভারসাম্য ছিল। কিন্তু খোদ তার ওপর হামলার পর তিনি পরিস্থিতি বা প্রতিক্রিয়া সামলেছেন নিঃশব্দে। ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে একটুও চিড় ধরতে দেননি। বরং বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, এটি একটি ভিন্ন ধরনের আক্রমণ। এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে পূর্ণ তদন্ত চাইবো। যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য অপেক্ষা করবে।

কর্মকর্তাদের দেয়া তথ্য মতে, বাংলাদেশের চরম সংকট রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সমর্থন আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা বন্ধু বার্নিকাটকে যথাযথভাবে বিদায় জানাতে চায় সেগুনবাগিচা। সেই প্রস্তুতিই নেয়া হচ্ছে।

৩০ বছরের কূটনৈতিক অভিজ্ঞাতসম্পন্ন বার্নিকাট দক্ষিণ এশিয়া নিয়েও কাজ করেছেন। ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত গিনি বিসাউ ও সেনেগালে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলানোর আগে বার্নিকাট বার্বাডোজ ও মালাবিতে উপরাষ্ট্রদূতের পদে ছিলেন। ২০০৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ এশিয়া ব্যুরোতে কাজ করেন তিনি। এসময় তার আওতায় ছিল ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটান।

১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নয়াদিল্লি মিশনে কাজ করেন। তার আগে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নেপাল ডেস্ক অফিসার হিসেবেও কাজ করেছেন। লাফায়েত কলেজ থেকে স্নাতক এবং জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন বার্নিকাট।

বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার মনোনয়ন দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। আর সফলভাবে মিশন শেষ করতে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমলে। প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তন হলেও তার দায়িত্ব পালনে কোনো তারতম্য হয়নি। জ্যেষ্ঠ ওই কূটনীতিক তার কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। সর্বশেষ তার অর্জন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড বা সম্মান। ঢাকায় বসেই এটি গ্রহণ করেন মার্সিয়া স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত