প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঐক্যফ্রন্টের নেতারা কি আহার-নিদ্রা ত্যাগ করেছেন?

বিভুরঞ্জন সরকার : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা আহার-নিদ্রা ত্যাগ করলেন কিনা, সে প্রশ্নটা উঠেছে এ কারণে যে, তারা গণভবনে আলোচনায় অংশ নেবেন কিন্তু নৈশভোজে অংশ নেবেন না। গণভবনে যাবেন অথচ খাবেন না। কেন?

ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘যে সময়টা আছে আমরা চাইছি, সে সময়টা শুধু আলোচনা হোক। নৈশভোজে অংশ নিলে তো আলোচনায় ব্যাঘাত ঘটবে’।

কী শিশুতোষ যুক্তি! আলোচনা কি সারারাত চলবে? আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা কি রাতের খাবার খাবেন না? তারা কি আহার-নিদ্রা ত্যাগ করে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

সেধে দাওয়াত নিয়েছেন, তারপর দলেবলে দাওয়াতে যেতে রাজিও হয়েছেন। এখন দাওয়াতবাড়িতে গিয়ে না খাওয়ার বায়না ধরেছেন। এটা সাধারণ সৌজন্য-শিষ্টাচার পরিপন্থি!

ছেলেমানুষি কিংবা হঠকারিতা আর যারই সাজে ড. কামাল হোসেনের সাজে না। ফখরুল-রব-মান্নাদের ‘গ্যারা’ রাজনীতির অতীত থাকলেও ড. কামালের অতীত তো সে রকম নয়। তার সাহসের অভাব থাকতে পারে সৌজন্যবোধের অভাব তো থাকার কথা নয়!

পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট জামানার অর্থমন্ত্রী, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ- লেখক অশোক মিত্র একবার বিধান সভায় তার মা-কে নিয়ে গিয়েছিলেন। বিধান সভায় আলোচনায় সদস্যদের খিস্তিখেউর শুনে অশোক মিত্রের মা রুষ্ট হয়ে বাসায় ফিরে ছেলেকে ভর্ৎসনা করে বলেছিলেন, কাদের সঙ্গে মিশছিস তুই আজকাল! ওরাই আমাদের নেতা। ভাবতেও গেন্না লাগে।

ড. কামাল সুস্থ ধারার রাজনীতির কথা বলেন, রুগ্ন রাজনীতির বিরুদ্ধে বলেন। কিন্তু তিনি কাদের সঙ্গে মিলেছেন সেটা তাকে কে বোঝাবে? তার মা জীবিত থাকলে হয়তো কিছু বলতে পারতেন।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে চাইলে গণভবনের নৈশভোজে অংশ নিন। সব ব্যাপারে সরকারকে দোষ না দিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি মানুষের সামনে তুলে ধরুন। ডান হাত, বাম হাতের চেয়ে অজুহাতের ব্যবহার বেশি করবেন না। আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখাও।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ