প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রগতির আন্দোলন আ.লীগকে বাদ দিয়ে এগিয়ে নেওয়া যাবে না

বিভুরঞ্জন সরকার: রমনায় দেখা হলো দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে। সাম্যবাদী দলের নেতা। সাবেক শিল্পমন্ত্রী। দল ছোট ক্ষতি নেই, মানুষটা তো বড়। দিলীপদার সঙ্গে অনেকদিনের পরিচয়। বিনয়ী, সজ্জন মানুষ। মুখে এক চিলতে হাসি লেগে থাকে। সমাজ বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতেন। চীনপন্থার অনুসারী ছিলেন। বন্দুকের নলকে ক্ষমতার উৎস ভাবতেন।

এখন দিন বদলেছে। কট্টর আওয়ামী লীগবিরোধী দিলীপ বড়ুয়া উপলব্ধি করেছেন, বাংলাদেশে সমাজ প্রগতির আন্দোলন আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। একদা মস্কোপন্থি কমিউনিস্টরা আওয়ামী লীগের গলা জড়িয়ে চলার নীতি নিয়েছিল। তারা দলের বিস্তৃতিও ঘটাতে পেরেছিলেন। এখন তারা নিঃশ্বাস ছেড়ে বলেন, ‘ও পারেতে যতো সুখ আমার বিশ্বাস’।
দিলীপদা নিজেকে শুধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী হয়েছেন। দল বড় করতে না পারলেও তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন।

এত বড় নেতার সঙ্গে দেখা হলে রাজনীতির প্রসঙ্গ না উঠে পারে!
জানতে চাই, কী অবস্থা দাদা? সব ঠিক তো?

দাদা মুচকি হাসেন। হাত নেড়ে অভয় দেন। ভাবখানা এমন – মা ভৈষী, ভয় পেয়ো না।
মুখে বলেন, আপনি কি বুঝতেছেন?
আমি তো ‘আউলাঝাউলা’। এই মনে হয় ভালো, এই মনে হয় গেল!

তিনি আবার হাসেন। অচঞ্চলভাবে জবাব দেন, আরে চিন্তার কিছু নেই। সব ঠিকঠাক চলছে। মনে পড়লো যৌবনে পড়া সেই বিখ্যাত বইয়ের কথা -অল কোয়াইট ইন ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট।

আমার চোখেমুখে সংশয় দেখে দিলীপদা বলেন, শেখ হাসিনা এখন একজন পরিপক্ক রাষ্ট্রনায়ক। তিনি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পারদর্শী। দেখবেন, বিএনপিকে ঘোল খাইয়ে তিনি আবার নির্বাচিত হয়ে আসবেন। আর, বিএনপিও এবার নির্বাচনের বাইরে থাকবে না।

আমি এক সময় সিপিবির সঙ্গে ছিলাম বলেই সম্ভবত দিলীপদা বললেন, একাত্তরে ভুল করেছি আমরা ( চীনপন্থিরা) , এখন ভুল করছে সিপিবি। সমদূরত্বের নীতি সিপিবিকে রাজনীতিতেই অপ্রাসঙ্গিক করে তুলছে!

আমি আর কথা বাড়াতে চাই না। এমনিতেই সিপবির কেউ কেউ আমাকে অপছন্দ করেন, এখন দিলীপ বড়ুয়ার সঙ্গে সহমত পোষণ করলে হয়তো চরম প্রতিক্রিয়াশীল তকমা এঁটে দেবেন। বামপন্থিদের আবার তকমা আঁটতে জুড়ি নেই।
দিলীপদাকে শুভ কামনা জানিয়ে বিদায় নিলাম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ