প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পেট্রোবাংলার কাছে ভ্যাট পাওনা ২০ হাজার কোটি টাকা

শাহীন চৌধুরী: দেশের জ্বালানি তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার কাছে পাওনা ভ্যাটের পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমান ভ্যাট আদায় করার জন্য সম্প্রতি অর্থ সচিবকে অনুরোধ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এনবিআর চেয়্যারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সই করা চিঠিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আব্দুল রউফ তালুকদারকে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। এই চিঠি দেয়ার পরও বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। এনবিঅরের চিঠিতে উল্লেখ করা হয় পেট্রোবাংলার ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বকেয়া বা ফাঁকি দেওয়া অর্থ যেন তাড়াতাড়ি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়, তা না হলে রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল ৮ বছরে পেট্রোবাংলার অধীন ৪ কোম্পানি ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করে ১৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক। কিন্তু তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পর্যালোচনা সভার সিদ্ধান্তের আলোকে কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের দপ্তর কর্তৃক বিশেষ নিরীক্ষায়ও ওই বকেয়ার কথা জানানো হয়েছে। সভায় কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের দপ্তরকে বিশেষ নিরীক্ষার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। অর্থ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ওই সভায় জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিটের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সভায় সিদ্ধান্ত হয় বকেয়া ভ্যাট পরিশোধে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এর আগে এ অর্থ আদায়ে গত পাঁচ বছরে একাধিক চিঠি চালাচালি করলেও কোনো লাভ হয়নি। ওই সভার সিদ্ধান্তের আলোকে এনবিআর পর্যালোচনা করে দেখেছে, ভ্যাট পরিশোধে কোনো জটিলতা নেই। কিন্তু পেট্রোবাংলা বরাবরই দাবি করে আসছে, নিয়ম অনুযায়ী এই ভ্যাট পায় না এনবিআর। এ নিয়ে একপর্যায়ে দুই সরকারি সংস্থার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। তখন এটি সমাধানে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

২০১৬ সালে ওই কমিটি অনুসন্ধান করে দেখতে পায়, এনবিআরের পাওনা ভ্যাট আইনসম্মত। কাজেই সরকারের ওই পাওনা ভ্যাট পেট্রোবাংলাকে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। এনবিআর সূত্র জানায়, গত বছরের মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও বিপিসির মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে বকেয়া ভ্যাট পরিশোধে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় পেট্রোবাংলার অনুকূলে ভর্তুকি দেবে। পরে ভর্তুকির ওই অর্থ এনবিআরকে পরিশোধ করবে পেট্রোবাংলা। সে সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর হয়নি।

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ-র কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আমাদের অর্থনীতিকে বলেন, বিষয়টি একটি পুরনো ইস্যু এ ব্যাপারে আমাদের পরিচালক (অর্থ) ভালো বলতে পারবেন। পরিচালক (অর্থ) তৈৗহিদ হাসনাত খান বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে একটি সচিব পর্যায়ে কমিটি হয়েছিল। ওই কমিটি এই টাকা বুক এডজাস্ট করার পরমর্শ দিয়েছিল। অর্থ বিভাগ এবং এনবিআর টাকাটা এডজাস্ট করবে। তিনি বলেন, এনবিআর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা দাবি করলেও টাকার পরিমান ১৩ হাজার ২৭২ কোটি। তারা ইন্টারেস্টসহ এই টাকা দাবি করছে।

সর্বাধিক পঠিত