প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, আবারো আসবে

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু, স্টকহোম: আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের একটানা ১০ বৎসর ক্ষমতায় থাকার সময় অতিক্রম করেছে। দলের জন্য একটানা ১০ বৎসর ক্ষমতায় থাকা এই প্রথম। এর পূর্বে একমাত্র সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ ১০ বৎসরের কাছাকাছি ক্ষমতায় ছিলেন। স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ছিল মাত্র তিন বৎসর আট মাস। পরবর্তীতে দীর্ঘ ২১ বৎসর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে পাঁচ বৎসর পর ২০০১ নির্বাচনে পরাজিত হয়। অবশেষে সেনাবাহিনী সমর্থিত ডক্টর ফখরুদ্দিন আহমেদের অস্থায়ী সরকারের তত্বাবধানে একটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ২০০৮ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এখন আবার আসছে নির্বাচন। এবারের নির্বাচন হবে আগামী ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে।

এখন নির্বাচন নিয়ে রাজনীতিবিদরা কথা বলতে শুরু করেছেন। বড় দুইটি রাজনৈতিক দল থেকে কে কোথায় মনোয়ন পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে এনিয়েও মিডিয়ায় লেখা লেখি শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন ২০১৯ সালে হওয়ার কথা থাকলেও সম্ভবত এর আগেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের পূর্বে সরকার উৎখাতে হুমকি এর আগে বিরোধী দলগুলো থেকে বার বার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিরোধীদলগুলো একসাথে মিলে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন দাড়া করতে পারেনি। এখন দেখা যাক সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যজোট সত্যি সত্যি আগামী নির্বাচনের আগে সরকারকে কোনো বেকায়দায় ফেলতে কিংবা সরকারের পতন গঠাতে পারে কি না। সরকার বিরোধী অনেকেই বলছেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ নাকি ৩০টির বেশি আসন পাবে না। তারা বলেন, আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে না কি মাটি নেই। আওয়ামী লীগ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জনগণ ভোটের সুযোগ পেলে তাদের দাঁত ভাঙা জবাব দেবে। কিন্তু বাস্তব কি?

বাস্তব হলো দেশের জনগণ হয়তো একটা পরিবর্তন চায়। তবে সে পরিবর্তন শেখ হাসিনা সরকারকে সরিয়ে তারেক রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমতায় আনার পরিবর্তন নয়। জনগণ যা চায় বা যা দাবি করছে তা হলো আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সরকারের ভেতরে থাকা কিছু লোকের বিচার ও শাস্তি। মুখচেনা এধরণের দুষ্ট চরিত্রের লোকদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হত্যাকান্ড, দুর্নীতি ও অন্যায়ের ন্যায় বিচার। জনগণের এই দাবি ও প্রতিবাদ সরকারের কিছুটা জনপ্রিয়তা হারানোর কারণ হলেও বিষয়গুলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার এখন পর্যন্ত তেমন একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এসকল কারণেই জনগণের একটা অংশ আওয়ামী লীগ বিরোধী মনোভাব প্রকাশ করছে।

অন্যদিকে বর্তমান সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারা বজায় থাকার পক্ষেই দেশের বেশিরভাগ মানুষ। উন্নয়শীল দেশে একটি সরকার দীর্ঘমেয়াদি ক্ষমতায় থাকলে উন্নয়নের ধারা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়। তবে এক্ষেত্রে সরকারকে দুর্নীতি স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপবেবহার থেকে মুক্ত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই মুহূর্তে একমাত্র করণীয় হলো দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান এবং বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সমাপ্ত করার উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করা। সরকারের ছত্রছায়ায় লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিবাজ ও ক্ষমতার

অপবেবহারকারীদের আসছে নির্বাচনে নমিনেশন না দেওয়া। শুধু তাই নয় এসকল সুপরিচিত বেক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে বিচারের কাঠ গোড়ায় দাঁড় করাতে হবে। একমাত্র তাহলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয় ও সাথে আসন হারানোর কোনো সম্ভবনা থাকবে না। বিরোধী দলগুলো থেকে আসা সরকার পতনের হুমকি বাস্তবে প্রতিফলনের কোনো সুযোগ থাকবে না। তা না করলে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু আসন হারানোর সম্ভবনা দেখা দিতে পারে। তবুও পুনরায় ক্ষমতায় থাকার মতো অবস্থান তাদের অবশ্যই থাকবে।

এদিকে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন দিলে সেই নির্বাচনে বিএনপি যদি আগের মতই বয়কট করে তাহলে তাদের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। বিষয়টি বিএনপির নেতারা ভালো করেই জানেন। এজন্য নির্বাচন যেভাবেই হোক না কেন এবারের নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বিএনপি এখন কিছুদিন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সম্প্রতি হওয়া কারাদণ্ডের রায় নিয়ে রাজনীতির মাঠ গরম করার চেষ্টা করবে। তবে ঐক্যজোটের ভেতরে থেকে তারা এধরণের আন্দোলনে কতটুকু সফল হতে পারবে বলা কঠিন। অথচ এই ইস্যু নিয়ে বিএনপির একাই একটা শক্ত আন্দোলন দাড়া করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রমান করছে ব্যর্থতা। বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এই বিচারকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাদের হারানো শক্তিতে পুনরায় রুপান্তর করতে পারতো। কিন্তু দুর্বল ২০ দলের জোটকে নিয়ে বিএনপি অতীতেও যেমন কোনো কিছুই করতে পারেনি ভবিষ্যতেও যে তার ব্যতিক্রম হবে এমন কোনো কিছু হওয়ার আশঙ্কা জনগণ দেখছে না।

বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের জোট থেকে কয়েকটি শরিক দল বেরিয়ে গেলেও এখনো তারা ঐ ২০ দলের জোট বলেই নিজেদের প্রচার করে বেড়াচ্ছে। দুর্বল বিএনপি তাই এখন আর অতীতের মতো তত্বাবধায়ক কিংবা সহায়ক সরকারের দাবি না তুলে ঐক্যজোটের সাথে সুর মিলিয়ে দাবি করছে নির্বাচনকালীন সরকার। নিজেদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকার জন্য ঐক্যজোটে যোগ দিয়েছে। যেখানে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিশ দলের সাথে ছোটোখাটো দল ও নেতাদের নিয়ে গঠিত ঐক্যজোটের যোগ দেওয়ার কথা সেখানে বিএনপি গিয়ে আত্মসমর্পন করেছে ঐক্যজোটের কাছে। মেনে নিয়েছে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ডক্টর কামাল হোসেনের নেতৃত্ব।

সম্প্রতি এই ঐক্যজোট থেকে যে সাত দফা দাবি জানানো হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সরকার এসকল দাবির প্রতি সহায়ক হবে কি না কিংবা কোনো ধরনের আপোষ করবে কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে। একথা সত্য যে গত নির্বাচনের মতো আসছে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অনেক আসনেই ছাড় দিবে। চাইবে সংসদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব। তবে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন দলটি ধরে রাখবে। এপ্রশ্নে কোনো আপোষ তারা করবে না। প্রয়োজনে নির্বাচন পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী দলগুলোকে নিয়ে আরো বৃহত্তর আকারে সরকার গঠন করবে। সব কথার শেষ কথা হলো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে, আবারো আসবে ক্ষমতায়। এর কোনো ব্যতিক্রম আর হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত