প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপ নিয়ে ইতিবাচক প্রত্যাশার কথা বলছেন রাজনৈতিক নেতারা

মহসীন কবির : আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ সন্ধ্যায়। গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় জোটের ২১ জন শীর্ষ নেতা। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির আহ্বানে ক্ষমতাসীনদের ইতিবাচক সাড়ার সফলতা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের রাজনীতির জন্য এই সংলাপ সুযোগ হিসেবে এসেছে, যেখানে পারস্পরিক অবিশ্বাস দূর করার শুভ সূচনা সম্ভব। তাদের মতে, সবার সব দাবি পূরণ হবার নয়, এটা মেনে নিয়েই উভয় পক্ষকে কিছুটা ছাড় দেয়ার মানসিকতা দেখাতে হবে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জনগণের ঐক্যের ফলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সংলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই সংলাপের সফলতা ঐক্যবদ্ধভাবে ধরে রাখতে হবে। যাতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে সংলাপের সফলতা জিম্মি হতে না পারে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি এবং সরকারের সংলাপের আমন্ত্রণকে দ্বিমুখী আচরণ। তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে কোনো সংলাপ বা নির্বাচন ফলপ্রসু হবে না। এতে সংলাপের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেও মনে করেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংলাপ আয়োজনকে ‘জাস্ট লাইভ সারপ্রাইজ’ বলে অভিহিত করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, একদিন আগেও কেউ এটা ভাবেননি। আগে আমিও বলেছি সংলাপ হবে না। সেটা ছিলো আমার রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজি (কৌশল)। এখন এই সংলাপ হচ্ছে। এখন দেখা যাক এই সংলাপে ‘সংকটের বরফ’ গলে কি-না! যদিও এই সংকট আমরা দেখছি না। সংকট তাদের (বিএনপি)। তাদের ভাষায় সংকট।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, সংলাপ, আন্দোলন ও নির্বাচন একসাথে চলবে । তিনি বলেছেন, ‘এতদিন যাবত যে কৌশল নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেছি সেটি ফলপ্রসূ হয়েছে। সরকার সংলাপ করতে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রীরা সংলাপে নাখোশ থাকলেও এখন তারা দেশের মানুষের মনের কথা উপলব্ধি করায় তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই।

১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সংলাপ হবে। সব দলের সঙ্গেই সংবিধানের আলোকে সংলাপ করতে আওয়ামী লীগ সভাপতি, শেখ হাসিনার দ্বার উন্মুক্ত। তবে, একটা কথা মনে রাখতে হবে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী; শেখ হাসিনার অধীনে। সুতরাং সংলাপে গিয়ে সংবিধানের বাইরে আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন,৭ দফা দাবি মেনে না নিলে দেশে যে অনিশ্চয়তা, অরাজকতা সৃষ্টি হবে, তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট আমাদের দলের সভানেত্রীর সাথে দেখা করতে চেয়েছেন। আমাদের দলের সভানেত্রী স্বাগত জানিয়েছেন। বিএনপি বলতো আওয়ামী লীগ এক দলীয় নির্বাচন করতে চায়। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ চায় আগামী সংসদ নির্বাচনে সকল দল অংশগ্রহণ করুক।

ঐক্যফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা আশাবাদী। আমরা এখনই আশা রাখছি সংলাপটা হচ্ছে। সরকারকে আমরা বলব ভেবেচিন্তে যাতে সমাধান করা যায়, এমনভাবে সংলাপটা পরিচালনা করতে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের মাধ্যমে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আগামী দিনে একটি সম্ভাবনা পথ খুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। রব বলেন, আমি আশা করি সংলাপের মাধ্যমে আগামী দিনে একটি সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। কোন সংলাপ ব্যর্থ হয়না। তিনি বলেন, আমরা চিঠি দিয়েছিলাম ৭ দফা দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করব।

বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান বলেন, সংঘাত যদি আমাদের সঙ্গে সরকার, বিরোধী দলের সঙ্গে হয়, এতে জনগণ কষ্ট পায়। সেখানে আমি মনে করে সংলাপ সহজ এবং ভাল উপায়।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, খুব সম্ভবত আর কোন নেতা এত দূর চলে যাবার পরে সংলাপে সাড়া দিতে সাহস করতেন না। এটা রাজনৈতিক জীবনে কামাল হোসেনের সব থেকে ভাল সিদ্ধান্ত। কাদের সিদ্দিকী বলেন, ফলাফলের ওপরে সংলাপ নির্ভর করে না। সংলাপই একটা সভ্য সমাজে চলার জন্য একটি রাস্তা করে দেয়। শেষ পর্যন্ত সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশাবাদ দলমত ভেদে সবার।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কোনও বিদেশি চাপে নয়, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসতে যাচ্ছেন। আনিসুল হক বলেন, সংলাপরে জন্য ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ডক্টর কামাল হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন, তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন অনেক ত্যাগের বিনিময়ে গণতন্ত্র অর্জিত হয়েছে। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার জন্য সংবিধান সম্মত যে কোনও আলোচনার ব্যাপারে তার দ্বার সর্বদা খোলা আছে। এতেই বোঝা যায় বৈদেশিক চাপে সংলাপ হচ্ছে না।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আমরা চা খাওয়ানোর দাবি করেছিলাম, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ডিনার করাবেন। আমাদের কপাল খুলে গেছে। দেশবাসীর কপালও খুলে গেছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপে বসতে সম্মতি হওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, এর মধ্য দিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে চলমান রাজনীতিতে যে ধরনের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা রয়েছে, তা দূরীকরণ এবং একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম হবে বলে সমগ্র জাতির প্রত্যাশা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ