প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনুমোদনহীন বোর্ড মিলে পরিবেশদূষণ

কালের কন্ঠ : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় পেপার বোর্ড মিলের অপরিশোধিত বর্জ্যে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মাত্রাতিরিক্ত দূষণের কারণে বায়ু ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সোনারগাঁও পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দপুর গ্রামে ২০১২ সালে বিসমিল্লাহ বোর্ড কারখানা উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে। পরিবেশ ছাড়পত্র ও ইটিপি ছাড়া উৎপাদনে আসা কারখানাটির অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে স্থানীয় পঙ্খীরাজ খালের পানি দূষিত হচ্ছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। কারখানাটি রাস্তার পাশে হওয়ায় সোনারগাঁ জিআর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সুবর্ণগ্রাম পাঠাগারের শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা নাক-মুখ চেপে আসা-যাওয়া করে। কারখানার পাশের বাসিন্দা ইব্রাহিম তালুকদার বলেন, ‘কারখানার বর্জ্যের দুর্গন্ধে রাতে ঘুমাতে পারি না। এলাকার অধিকাংশ মানুষ শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’ স্থানীয় বাগমুছা গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘কারখানার দূষিত বর্জ্য খালের পানিতে ফেলায় পানি দূষিত হচ্ছে। কৃষিকাজে এ পানি ব্যবহার করতে না পারায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার সাধারণ কৃষকরা। খালের পানিতে নামলে শরীর ফুলে যায় এবং চুলকানি হয়ে ছোট ছোট গোটা বের হয়।’ তবে কারখানা মালিক জুলফিকার আলী বলেন, ‘আমি ষোল আনা কাগজপত্র ওকে করেই কারখানা চালু করেছি। তা ছাড়া রিসাইকেল প্ল্যান্ট হওয়ায় এতে কোনো রাসায়নিকও ব্যবহার করা হয় না।’

সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘রাসায়নিক মিশ্রণ আছে—এমন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে চোখ, নাক বা গলার সংক্রমণ বা ক্ষতি হতে পারে। সেই সঙ্গে ফুসফুসের নানা জটিলতা, যেমন ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়া, মাথা ব্যথা, অ্যাজমা এবং নানাবিধ অ্যালার্জিও দেখা দিতে পারে। দূষিত পানি ব্যবহারে চর্মরোগ, টাইফয়েড, জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের মতো রোগ হতে পারে।’ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বি এম রুহুল আমিন রিমন বলেন, ‘বোর্ড মিলের ব্যাপারটি আমার জানা নেই। আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেব।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ