প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভৈরব-কপোতাক্ষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে

কালের কন্ঠ : কপোতাক্ষ নদ ভৈরব নদের একটি শাখা। নদটি ২০টি উপজেলা, ১০টি পৌরসভা ও ৯৫টি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে। এর মধ্যে চৌগাছার তাহেরপুর থেকে ছুটিপুর পর্যন্ত নদের অবস্থান রয়েছে প্রায় ২৩ কিলোমিটার। অন্যদিকে ভৈরব নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৯ কিলোমিটার। একসময়ের খরস্রোতা ভৈরব আর কপোতাক্ষ নদ এখন দখলদারদের ছোবলে মৃতপ্রায়। এ জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সঙ্গে সঙ্গে দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদ দুটিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

মেহেরপুরে খনন করার পর বছর পার হতে না হতেই কচুরিপানায় সয়লাব হয়ে গেছে ভৈরব নদ। নদের যেদিকেই চোখ যায় শুধু চোখে পড়ে কচুরিপানা। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে ভৈরব খনন করা হয়েছিল, তা কোনো কাজেই আসছে না।

ভৈরব নদের বিভিন্ন অংশে গিয়ে দেখা যায়, অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে মাছ চাষ ব্যাহত হচ্ছে। খননের পর ভৈরব নদ ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে এক ধরনের উদ্দীপনা দেখা গিয়েছিল। পিকনিক, নৌকাভ্রমণসহ বিনোদনের একটি মাধ্যম হয়েছিল ভৈরব নদ। কিন্তু অতিরিক্ত কচুরিপানার ভারে সে উদ্দেশ্য আজ মলিন।

মেহেরপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আতাউল গনি বলেন, ‘এরই মধ্যে কচুরিপানা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে নদটি কচুরিপানামুক্ত হয়ে আগের অবস্থা ফিরে পাবে।’ এর আগে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড নৌবাহিনীর ডকইয়ার্ড ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৭০ কোটি ৬৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে মুজিবনগর উপজেলার রসিকপুর থেকে গাংনী উপজেলার কাথুলী পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার খনন কাজ শেষ করে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে।

এদিকে বিলীন হতে চলেছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের অস্তিত্ব। দখলদারদের দৌরাত্ম্যে দিন দিন মরা খালে পরিণত হতে যাচ্ছে এই নদ। যশোরের ঝিকরগাছার ছুটিপুর থেকে মাটশিয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত কপোতাক্ষ নদের বুকে অন্তত শতাধিক পুকুর বানানো হয়েছে। নদে মাছ ধরার নামে বসানো হয়েছে ভেসাল, চান্দা ও নেটপাটাতন। কোথাও কোথাও কচুরিপানা দিয়ে গতিপথ আটকানো হয়েছে। ছুটিপুর বাজারে সিরাজুল কমপ্লেক্স, ঝিকরগাছা বাজারের বোটঘাটে কফিলউদ্দীনের (পৌর কাউন্সিলর) বাড়ি, বাঁকড়া বাজারে মরহুম মাস্টার লোকমান আলী গংয়ের বাড়ি, মোসলেম আলী গংয়ের ভবন, সেতুর পূর্ব পাশে গাজী আব্দুস সাত্তার, গাজী কওছার আলী ও সিরাজুল ইসলামের স্থাপনা নদের ভেতরে গড়ে তোলা হয়েছে। তবে নদ দখলের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে দখলদাররা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। নদ দখলকারীদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। শিগগিরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

অন্যদিকে যশোরের চৌগাছা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কপোতাক্ষ নদও বিলীনের পথে। অসাধু ব্যক্তিরা কপোতাক্ষ নদ দখল করে বাড়িঘর ও স্থাপনা তৈরি করে চলেছে। প্রশাসন রহস্যজনক কারণে এসব দখলদারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, একসময়ের প্রমত্ত কপোতাক্ষ ছিল এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। এ নদ দিয়ে নৌকাযোগে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি করা হতো। হাজার হাজার মানুষ তা থেকে মৎস্য আহরণ করে জীবন চালাত। কিন্তু সেই কপোতাক্ষ এখন কালের বিবর্তনে মৃতপ্রায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এক শ্রেণির দখলদার যুগ যুগ ধরে কপোতাক্ষ নদকে নানাভাবে ধ্বংস করছে। আর তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে তাদের সাহসও দিন দিন বেড়ে গেছে। এভাবে প্রতিনিয়তই নদের জমি দখলের প্রতিযোগিতা চলছে।

এ বিষয়ে ইউএনও মারুফুল আলম বলেন, ‘সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দ্রুত কপোতাক্ষ নদ দখলমুক্ত করব। এরই মধ্যে অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথমে আমরা তাদের নোটিশ করব। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা না মানলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ