প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের পরিবেশ ঠিক রাখতে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের নির্দেশনা ইসির

কালের কন্ঠ : নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই পরীক্ষা শেষ করতে। আজ বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের বিষয়ে অবহিত করতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন। বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচনের জন্য মধ্য ডিসেম্বরই উপযুক্ত সময়।

গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে একাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক-প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ইসির বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ইসি সচিবের বক্তব্য থেকে জানা যায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যখন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের কর পরিশোধের সনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবছে, তখন উল্টো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনে। নির্বাচন কমিশনের এসংক্রান্ত প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদ পায়নি। একই সঙ্গে ঋণ ও বিলখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার পথও প্রশস্ত করা হয়েছে। ২০০৮ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের বিধান ছিল, মনোনয়নপত্র দাখিলের ১৫ দিন আগে ঋণ বা এর কিস্তি পরিশোধ করতে হবে। ২০০৮ সালে এ সময় ‘সাত দিন আগে’ করা হয়। আর এবার তা কমিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত করা হয়েছে।

সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সংসদ নির্বাচনে সব প্রার্থীকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে না। এটা বাধ্যতামূলক হচ্ছে না। তবে যাঁদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) আছে তাঁরা দেবেন। আর যাঁদের নেই, তাঁদের দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি বাধ্যতামূলক করার জন্য মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে যে দেশের অনেক কৃষকও নির্বাচনে অংশ নেন। তাঁরা আয়করের বাইরে রয়েছেন। তাই নির্বাচনে সকলের সুযোগ নিশ্চিত করতে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে।’

সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর এবং আয়কর রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক না হলেও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা নির্বাচনে এটা বাধ্যতামূলক। তবে সংসদ নির্বাচনে আয়করদাতা হওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না। আয়করদাতা হলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বিধান ছিল।

গত ১৬ অক্টোবর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আয়কর বিষয়ে এক সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছিলেন, কর পরিশোধের সনদ না দিলে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এমপি ও চেয়ারম্যান/মেয়র পদপ্রর্থীরা ই-টিআইএন নির্বাচন অফিসে জমা দিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের কোনো রিটার্ন, সনদ জমা দেন না। রাজস্ব আহরণের স্বার্থে আগামী দিনে ওই প্রার্থীরা রিটার্ন সনদ দিচ্ছেন কি না সেটা তাঁরা দেখবেন।

গতকালের বৈঠক সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিব সাংবাদিকদের বলেন, তফসিলের পর নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাদকসেবী, সন্ত্রাসীদের প্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই সব ব্যাংককে ঋণখেলাপিদের তালিকা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কবে থেকে এই গ্রেপ্তার অভিযান চলবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

সচিব আরো বলেন, বৈঠকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিসেম্বরের শেষে প্রচণ্ড শীত থাকবে। আর জানুয়ারির প্রথম ১০ দিন প্রচণ্ড শীতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারসামগ্রী সরিয়ে ফেলতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১০ ডিসেম্বরের আগেই সব ধরনের বার্ষিক পরীক্ষা এবং ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করার জন্য সব বোর্ড, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। স্কুল ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেহেতু ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং একই সঙ্গে শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন, তাই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সচিব জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে বিদেশ থেকে যেসব পর্যবেক্ষক আসবেন তাঁদের ভিসা প্রসেসিং যাতে খুব সহজে হয় এবং তাঁদের ভেটিংগুলো যাতে জননিরাপত্তা বিভাগ খুব দ্রুত দেয়, সেভাবে তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন করার জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছি।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ : নির্বাচন কমিশন সচিব জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন ভবন থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ (সিইসি) চার নির্বাচন কমিশনার বঙ্গভবনে রওনা দেবেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে অংশ নিচ্ছেন সিইসি কে এম নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মো. রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিব নিজেও সেখানে উপস্থিত থাকবেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার আমেরিকা থেকে গতকাল রাতেই দেশে ফেরায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে তাঁর উপস্থিত থাকা নিয়ে যে অনিশ্চিয়তা ছিল তা কেটে গেছে।

প্রসঙ্গত, প্রতিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে রেওয়াজ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০১৩ সালের ২৫ নভেম্বর দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ১৯ নভেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আজকের সাক্ষাতের পর আগামী শনিবার কমিশন সভা হবে। ওই সভায় ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন। ভাষণের আগে শেষবারের মতো কমিশন আরেকটি সভা করতে পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ