প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাইকোর্টের আদেশ গ্রহণযোগ্য নয়: বিএনপি

বাংলাদেশ জার্নাল : দলের সংশোধিত গঠনতন্ত্র গ্রহণ না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ গ্রহণযোগ্য নয় বলে নাকচ করে দিয়েছে বিএনপি। বুধবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানে রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে শেষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।

বৈঠকে বিএনপিন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া এ বৈঠক বিএনপি নেতা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নাল আবেদীন, এজে মোহাম্মদ আলী প্রমুখ ছিলেন।

হাইকোর্টের অন্তবর্তীকালীন আদেশের পর রাতে স্থায়ী কমিটির জরুরী বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা বিস্মিত হয়েছি এজন্য যে, একটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্র নিয়ে একটা রিট পিটিশনের বিষয়ে কোর্টের আদেশ একেবারেই নজিরবিহীন। আমাদের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক দল নিজের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলে, সেই গঠনতন্ত্রটা যেটা থাকে সেটাই চূড়ান্ত। সেক্ষেত্রে এই ধরনের রুল কতটুকু গ্রহণযোগ্য আইনজীবীরা বলেছেন এটা গ্রহণযোগ্যই না।

তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান- এ বিষয়ে কোনো রকমের সন্দেহ নেই। এটাই মূল কথা।

হাইকার্টের আদেশ পুরোপুরি রাজনৈতিক বিষয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী দলকে মোকাবিলা না করে সম্পূর্ণভাবে আদালতকে ব্যবহার করে তারা রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছে। আপনারা দেখবেন সংবিধানে যতগুলো সংশোধনী এনেছে এয়োদশ ও পঞ্চদশ সংশোধনীগুলো –এসব কিন্তু জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আনেনি, আদালতের একটা রায় নিয়ে সংশোধন করেছে। সংসদ কিংবা কোনো রেফারেন্ডামেও জনগণ ওইসবের সিদ্ধান্ত দেয়নি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সব কিছু আদালতের আশ্রয় নিয়ে তারা করেছে এবং আদালতকে দিয়ে বলে যে, ওইসব গণতন্ত্র বিরোধী কাজ হয়েছে। গ্রামে কিছু দুষ্ট মোড়ল থাকে তারা প্রতিপক্ষকে কাবু করার জন্যে মিথ্যা ও সাজানো মামলা করে। ক্ষমতাসীনরাও সেটা করছে। এখন একটা পার্টির প্রধান কে হবেন, কে হবেন না, সদস্য কে হবেন, হবেন না সেটা পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। এজন্য আমরা মনে করছি যে, এই রিট পিটিশন এবং এটা বিএনপির বিরুদ্ধের একটা সামগ্রিক চক্রান্ত যেটা চলছে এটা তারই একটা অংশ।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়ার যে একটা চক্রান্তে সেই চক্রান্তের ফলোশ্রুতিতে দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রেখেছে, সেই চক্রান্তের কারণে জনাব তারেক রহমানকে দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা দেয়া হচ্ছে সেই চক্রান্তেই। উদ্দেশ্য একটাই বিএনপিকে ধ্বংস করে দেয়া। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিচার বিভাগকে তারা হাতিয়ার হিসেবে এক্ষেত্রে ব্যবহার করছে। আমরা পুরো প্রচেষ্টা নিন্দা জানাচ্ছি। বিএনপি হচ্ছে সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। দীর্ঘ ৪০ বছর বিএনপি বহুবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের রায় নিয়ে। বিএনপিকে সহজেই ধ্বংস করা যাবে না, নির্মূল করা যাবে না। অতীতেও বিএনপিকে ধ্বংসের চেষ্টাও সফল হয়নি বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ