প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দস্যুমুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন

সমকাল : বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন সুরক্ষায় নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এখন থেকে বনে সম্পদ আহরণের নামে জীববৈচিত্র্য ও গাছপালা কেটে ফেলা যাবে না। একই সঙ্গে বন বিভাগের যে নীতিমালা রয়েছে, তা দিয়ে সুন্দরবন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সুন্দরবন ও অন্য বনের প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ জন্য সুন্দরবন সংরক্ষণে আলাদা নীতিমালা প্রণয়নের চিন্তাভাবনা করছে সরকার। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও নেবে সরকার। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা যাতে নির্বিঘ্নে সুন্দরবনের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পারেন সে জন্য নিরাপত্তায় কড়াকড়ি করতে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ‘সুন্দরবন সুরক্ষাবিষয়ক’ উচ্চ পর্যায়ের এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এমন নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সম্প্রতি বলেন, বিশ্বখ্যাত ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে পর্যটক ও জেলেরা নির্বিঘ্নে সুন্দরবনে চলাচল করতে পারবেন। আত্মসমর্পণ করা বনদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে অনেক বনদস্যু আত্মসমর্পণ করেছে। এবার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সুন্দরবনের সার্বিক উন্নয়নে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে সরকার। বিশেষ করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ মনিটর করছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, সুন্দরবনে কচিখালী-কটকা, নীলকমল ও দক্ষিণ অভয়ারণ্য নামে তিনটি অভয়ারণ্য রয়েছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুই হচ্ছে বিশ্বঐতিহ্য এই সুন্দরবন। গড়ে প্রায় ১ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটক প্রতিবছর সুন্দরবনে আসেন। ২৪ ঘণ্টায় ছয় বার রূপ পাল্টানো এই সুন্দরবনে বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। তেমনি পর্যটকরা কটকার কাছে জামতলা সি-বিচে বসে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার বিরল সুযোগ পান। এ ছাড়াও সুন্দরবন থেকে মৎস্য সম্পদের পাশাপাশি নির্ধারিত রাজস্ব দিয়ে গোলপাতা, ছন, মধু ও মোম আহরণ করেন জেলে ও বনজীবীরা। প্রাকৃতিক ও মৎস্য সম্পদ থেকে সুন্দরবন থেকে গড়ে বছরে ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়। সুন্দরবনে ইকো ট্যুরিস্টদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে সরকার। ইতিমধ্যে নিরাপত্তায় কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ ও র‌্যাবের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত ঘোষণা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সুন্দরবন এলাকার বনদস্যুরা অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৮৭৮ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনের বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটারই বাংলাদেশের। দেশের উপকূলীয় জেলা বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৫ লাখ পরিবার সুন্দরবনের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। ছোট-বড় ৪৫০টি নদ-নদী ও খাল নিয়ে এর জলভাগের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮৮৪ বর্গকিলোমিটার।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বন্যপ্রাণী, প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন দেশের গৌরব। জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-ঝাপটা থেকে দেশকে রক্ষা করছে সুন্দরবন। বহু সম্পদ রক্ষা করছে এই সুন্দরবন। এজন্য সুন্দরবনকে সুরক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। এজন্য নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে সুন্দরবন সুরক্ষায় প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০ বছরের জন্য সব ধরনের বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধের গুরুত্ব আরোপ করা হয়। নির্দিষ্ট মৌসুমে বনের গেওয়া, গোলপাতা, মধু, কাঁকড়া, মৎস্য আহরণ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বলা হয়, বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন সম্পূর্ণরূপে বন্যপ্রাণীদের জন্য অভয়ারণ্য থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ