প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জট খুলল নরসিংদীর লোকমান হত্যার

বাংলাদেশ প্রতিদিন : চাঞ্চল্যকর নরসিংদীর পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন হত্যার প্রায় সাত বছর পর ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ মোবারক হোসেন মোবাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১টায় রাজধানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর মোবাকে গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে নরসিংদীতে আনা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যে তার বাসা থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও সাত রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মোবারক হোসেন মোবা নরসিংদীর প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেন হত্যা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মামলার অভিযোগপত্র অনুযায়ী তিনি এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক রুপম কুমার সরকার ও জাকারিয়া অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। তার সঙ্গে রেহানুল ইসলাম ভূঁইয়া লেনিন নামের আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। তিনিও বিভিন্ন মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। মোবারক হোসেন মোবা মেয়র লোকমান হোসেন হত্যার এক সপ্তাহ আগে দেশত্যাগ করেন। এত দিন তিনি মালয়েশিয়াতে পলাতক ছিলেন। গতকাল বিকালে অস্ত্র আইনের মামলায় নরসিংদীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের আদালতে মোবারককে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা গোলাম মোস্তফা বলেন, গত ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে দেশে ফিরেন মোবারক। আমরা সব সময় তাকে নজরদারিতে রাখি। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও আমাদের সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নরসিংদীর পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন বিপিএম বলেন, ইতিমধ্যে মোবারকের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও লোকমানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১ নভেম্বর পৌর মেয়র লোকমান হোসেনকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে গুলি চালিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় নিহতের ভাই কামরুজ্জামান বাদী হয়ে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদের ছোট ভাই সালাহউদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এর মধ্যে মোবারক হোসেন মোবা ছাড়া বাকিরা সবাই গ্রেফতার হন। বর্তমানে তারা জামিনে রয়েছেন। পুলিশ প্রায় আট মাস তদন্ত করে ২০১২ সালের ২৪ জুন সালাউদ্দিনসহ এজাহারভুক্ত ১১ আসামিকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র দেয়। অভিযোগপত্রে এজাহারভুক্ত তিন নম্বর আসামি শহর আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোবারক হোসেন, দুই নম্বর আসামি নরসিংদী পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল মতিন সরকার, তার ছোট ভাই শহর যুবলীগের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম সরকারসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে ২০১২ সালের ২৪ জুলাই নরসিংদীর মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে নারাজি দেন মামলার বাদী কামরুজ্জামান কামরুল। আদালত ২৫ জুলাই নারাজি আবেদন খারিজ করে অভিযোগপত্র বহাল রাখেন।

পরবর্তীতে ২৮ আগস্ট নারাজি আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন বাদী। আদালত ২ সেপ্টেম্বর সেই আবেদন গ্রহণ করে ৪ নভেম্বর শুনানি শেষে ফের নারাজি আবেদন খারিজ করেন। এর পর উচ্চ আদালতে যান বাদী। তিনি ওই অভিযোগপত্র বাতিল করে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে আবার তদন্তের দাবি জানিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত রাখতে রিট পিটিশন দাখিল করেন। আদালত বাদীর আবেদনটি আমলে নিয়ে নিম্ন আদালতে বিচারকার্য স্থগিত করে দেন। প্রয়াত মেয়র লোকমান হোসেনের ছোট ভাই নরসিংদী শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নরসিংদী পৌর মেয়র কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমার বড় ভাই লোকমান হোসেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মোবারক হোসেন মোবাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটি নরসিংদীবাসীর জন্য কতটা আনন্দের তা বলে বুঝানো যাবে না। তাও আবার লোকমান ভাইয়ের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকীর আগের দিন। এখন লোকমান হত্যার আসল খুনিদের নাম বেরিয়ে আসবে। মোবারককে ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব তথ্য পুলিশকে দিবে। সঠিকভাবে তদন্ত করলে লোকমান হত্যার বিচার দ্রুত শেষ হবে এবং খুনিরা শাস্তি পাবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ