প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটের তফসিল সাত দিনের মধ্যে

বাংলাদেশ প্রতিদিন : আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। এজন্য ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ধরনের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল ঘোষণার আগে-পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে সন্ত্রাসী, মাদকসেবী, বিশৃঙ্খলাকারীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘নির্বাচন ভবনে’ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে ২৩টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পদস্থ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠক শেষে ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে-পরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সন্ত্রাসী, মাদকসেবী, নির্বাচন ভণ্ডুল করতে পারে এমন বিশৃঙ্খলাকারীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে বলা হয়েছে। ইসি সচিব বলেন, ৪১ হাজারের বেশি ভোটকেন্দ্রকে নির্বাচনের উপযোগী রাখতে ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রস্তুত রাখার জন্য বলা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বরের আগে সব বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রতিষ্ঠানের ভোটকেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা সম্ভব হয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার সূচিতেও পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী ১১-১৮ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মধ্য ডিসেম্বরের পর থেকে যে কোনো দিন জাতীয় নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনার কথা আমাদের বলা হয়েছে। নির্বাচনের সময় বিদ্যালয়গুলো ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকরা ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।

৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আগে থেকেই ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করার প্রস্তুতি রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসিসহ নির্বাচন কমিশনারদের দেখা করার কথা রয়েছে। এ মাসের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট করার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসির কর্মকর্তারা। ভোটের তারিখ ও আবহাওয়ার বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ডিসেম্বরের শেষ দিকে প্রচণ্ড শীত থাকে। আর জানুয়ারিতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আমরা ভোটের তারিখ দেব।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের নীতিমালা সহজ করা হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থী ঋণখেলাপি বলে প্রমাণিত হলে, মনোনয়নপত্র দাখিলের একসপ্তাহ আগে তা পরিশোধের নির্দেশনা ছিল। সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের আগের দিনও এই ঋণ পরিশোধ করা যাবে।

মনোনয়ন দাখিল, বাছাই, প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং প্রতীক বরাদ্দ শেষে প্রচারের পর্যাপ্ত সময় দিয়ে তফসিল ঘোষণা থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ৪০-৪৫ দিন ব্যবধান রাখা হয়ে থাকে। এর আগে নবম সংসদ নির্বাচনে ৪৭ দিন হাতে নিয়ে ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। দশম নির্বাচনে ৪২ দিন সময় নিয়ে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচনপূর্ব সময়ে আচরণবিধি প্রতিপালনের জন্য ব্যাপক সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজন। তাই জনপ্রশাসনকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার সাত দিনের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা সামগ্রী সরিয়ে ফেলতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম হাতে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এবার পার্বত্য জেলার ৩৪টি কেন্দ্রে নির্বাচনী মালামাল ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের পরিবহনে হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান হেলালুদ্দীন।

প্রার্থীদের আয়কর রিটার্ন সংযুক্ত করার বিষয়ে সচিব বলেন, আগে সব প্রার্থীকে আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু এখন বাধ্যতামূলক নয়। যাদের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) আছে, কেবল তারাই রিটার্ন জমা দেবেন। আর যাদের নেই, তাদের দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাবনা এসেছিল যে, দেশের অনেক কৃষকও নির্বাচনে অংশ নেন। তারা আয়করের বাইরে রয়েছেন। তাই নির্বাচনে সবার সুযোগ নিশ্চিত করতে আয়কর রিটার্ন দেওয়ার বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। আবার বিদেশি পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সুবিধার্থে ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে যাচ্ছে ইসি : আজ ১ নভেম্বর বিকাল ৪টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পরে আগামী শনিবার ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসবে কমিশন। এরপরে ৮ নভেম্বরের মধ্যেই সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে বলে মনে করছেন ইসির কর্মকর্তারা। তবে সব কিছু নির্ভর করছে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার ওপর। ভোটের তারিখের বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ভোটের সম্ভাব্য কয়েকটি তারিখও রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের জন্য ১৮ বা ২০ ডিসেম্বর, ২৩ বা ২৪ ডিসেম্বর ও ২৭ ডিসেম্বর বা ৩০/৩১ ডিসেম্বর প্রাথমিক তারিখ চিন্তা করা হচ্ছে। আর ২০ ডিসেম্বর ভোট হলে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পরে ৩ বা ৪ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে কমিশন ভোটের তারিখ হিসেবে ২০ ডিসেম্বরকেই বেশি উপযোগী মনে করছে। এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তৎকালীন কাজী রকিব কমিশন। পরে ২৫ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

দেশে ফিরেছেন মাহবুব তালুকদার : যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার গতকাল রাতে দেশে ফিরেছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের একান্ত সচিব মুহাম্মদ এনাম উদ্দীন বলেন, রাত ৯টার দিকে তিনি দেশে ফিরেছেন। তিনি ব্যক্তিগত সফরে ২০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে যান। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, আজ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি অংশ নেবেন।

ভোটের আগে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কাজ শেষ : নিবন্ধন শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ জাসদ ‘নিবন্ধনযোগ্য নয়’ বলে জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল দলটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ জাসদের আবেদন পর্যালোচনা করে মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন সঠিকভাবে পাইনি। শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। এজন্য বাংলাদেশ জাসদের নিবন্ধন দেওয়া গেল না। একাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ৭৬টি দল আবেদন করেছিল। এর মধ্য দিয়ে সবার আবেদন নাকচ হলো। দলের নিবন্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। আর কোনো দলকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবার। একটি দল (এনডিএম) আদালতের আদেশ এনেছে, তার বিরুদ্ধে আমরা আপিল করেছি, বলেন ইসি সচিব।

বাংলাদেশ জাসদের কাছে ইসির চিঠি : ইসির উপসচিব আবদুল হালিম খান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশ জাসদকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য পুনর্বিবেচনার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলিলাদি মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, দলটি নিবন্ধন বিধিমালার ৬-এর (ঞ)(ই) শর্ত পালনে ব্যর্থ হয়েছে। নিবন্ধনের শর্ত পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-বাংলাদেশ জাসদ নামীয় দলটি নিবন্ধনযোগ্য নয় মর্মে নির্বাচন কমিশন পুনরায় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ জাসদ সাধারণ সম্পাদকের নিবন্ধনসংক্রান্ত পুনরাবেদন ইসিতে উপস্থাপন করা হলে তা নামঞ্জুর করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

দুটি দলের কাছে ব্যাখ্যা : বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-জেপি ও প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল-পিডিপি আর্থিক লেনদেন রেজিস্টার্ড চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দিয়ে অডিট না করায় সাত দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে ইসি। জেপির সাধারণ সম্পাদক ও পিডিপির কো-চেয়ারম্যানের কাছে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠান ইসির উপসচিব আবদুল হালিম খান। বর্তমানে ইসিতে ৩৯টি দল নিবন্ধিত রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ