প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফুরিয়ে আসছে কি বিন সালমানের ক্ষমতা ?

সাইদুর রহমান: সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের কর্তৃত্ববাদী কর্মকাণ্ডের ফলে রাজপরিবারের নীতিবিরোধী ব্যাক্তিবর্গ চরম আতঙ্কে আছেন। খাসোগজি হত্যা বিরোধী শিবিরের কণ্ঠরোধের প্রথম শিকারমাত্র। তালিকায় রয়েছেন আরও অনেকে।
যদিও খাসোগজি হত্যায় নড়েচড়ে বসেছে বিশ^সমাজ। অধিকাংশের ধারণা, বিন সালমানের সায় ছাড়া কনস্যূলেট ভবনে এমন নিশৃংস হত্যাকা- কিঝুতেই হতে পারে না। এরমধ্যেই বিন সালমানের পদত্যাগ অথবা পদচ্যূত করার খবর বেরিয়েছে। কিন্তু কে হবেন বিন সালমানের স্থলাভিষিক্ত ?

সৌদি প্রতিষ্ঠাতা এবং বাদশাহ সালমানের ভাই আহমদ বিন আব্দুল আজিজ স্বদেশ ফিরেছেন আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেয়ার পর তিনি দেশে ফিরছেন। যাতে সেখানে পৌছে ভ্রাতুষপূত্র বিন সালমানের রোষানলের শিকার না হন। লন্ডন ভিত্তিক মিডল ইস্ট মনিটর এ তথ্য জানিয়েছে। মনিটর জানিয়েছে, মার্কিন এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা এবং পর্যান্ত নিশ্চয়তার ভিত্তিতে প্রিন্সের দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মনিটর আরও জানিয়েছে, লন্ডনে থাকাবস্থায় প্রিন্স আহমাদ তার চিন্তায় সহমত অনেক রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে বহুবার বৈঠক করেছেন। এছাড়া সৌদিতে অবস্থানরত তার সহমর্মী অনেক ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং ভ্রাতুষপুত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার উৎসাহ দিয়েছে। রাজপরিবারের প্রভাবশালী তিনজন প্রিন্স আহমদের প্রত্যাবর্তন চান।

জার্মানিতে বসবাসরত আরেক প্রিন্স খালেদ বিন ফারহান বলেন, আহমদ এবং মুকরিন বিন আব্দুল আজিজ সৌদির সুনাম ফিরিয়ে আনতে চান। বিন সালমানের নীতির কারণে রাজপরিবারের অভ্যন্তরে ব্যাপক রোষানল সৃষ্টি হয়েছে।
প্রিন্স খালেদ আরও বলেন, আহমাদ ও মুকরিন বিন আব্দুল আজিজের যেকোনো পদক্ষেপকে সমর্থন জানাবে রাজপরিবারের সদস্যরা।
উল্লেখ্য, প্রিন্স আহমাদ বিন আব্দুল আজিজ দেশটির বাইয়াত কাউন্সিলের একমাত্র সদস্য যিনি বিন সালমানের যুবরাজ নিয়োগ দেয়ার বিরোধিতা করেন এবং বিন সালমানের হাতে বাইয়াত গ্রহন করেননি।

এছাড়া ইতিহাসে মাত্র দুইবার বাদশার পতন হয়েছে। ১৯৬৪ সালে সৌদি রাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতার ছেলে বাদশা সাউদকে শান্তিপূর্ণভাবে অপসারণের পর সিংহাসনে বসেন বাদশা ফয়সাল। তাকে সরিয়ে ১১ বছর পর ফয়সাল নিজের ভাইয়ের ছেলের দ্বারা হত্যাকা-ের শিকার হন। এর তিনমাস পর শিরোশ্ছেদ করা হয় তাকেও। সূত্র: আল-জাজিরা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ